English Language and Literature
১. ‘By and large’ means-
ক) everywhere
খ) very large
গ) mostly
ঘ) far away
সঠিক উত্তর : গ) mostly
ব্যাখ্যা : “By and large” একটি idiom, যার অর্থ “mostly / on the whole / in general” অর্থাৎ “মূলত, সামগ্রিকভাবে”. অন্য অপশনগুলো আক্ষরিক অর্থে স্থান বা আকার বোঝায়, তাই এগুলো idiom-এর অর্থের সঙ্গে মেলে না.
২. Francis Bacon is an illustrious-
ক) essayist
খ) dramatist
গ) novelist
ঘ) journalist
সঠিক উত্তর : ক) essayist
ব্যাখ্যা : Francis Bacon মূলত তাঁর দার্শনিক ও প্রবন্ধগ্রন্থের জন্য বিখ্যাত, যেমন “Of Studies”, “Of Truth” ইত্যাদি. তাই তাঁকে প্রধানত একজন essayist হিসেবেই গণ্য করা হয়; dramatist, novelist বা journalist হিসেবে তাঁর পরিচিতি নেই.
৩. ‘He could not win but learnt a lot’ Which part of speech is the word ‘but’?
ক) an adverb
খ) a verb
গ) an adjective
ঘ) a conjunction
সঠিক উত্তর : ঘ) a conjunction
ব্যাখ্যা : এখানে “but” শব্দটি “He could not win” এবং “(he) learnt a lot”. এই দুইটি clause-কে পরস্পরের বিপরীত ভাব প্রকাশ করে যুক্ত করছে. Clause বা sentence যুক্ত করার কাজ conjunction-এর, তাই “but” এখানে conjunction হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে.
৪. Select the appropriate preposition: ‘Are you doing’ anything special ___ the weekend?
ক) at
খ) with
গ) on
ঘ) for
সঠিক উত্তর : ক) at
ব্যাখ্যা : British English-এ সাপ্তাহিক ছুটি বোঝাতে স্বাভাবিকভাবে বলা হয় “at the weekend”. এই প্রসঙ্গে “with the weekend”, “on the weekend”, বা “for the weekend” সাধারণ ব্যবহার নয়; তাই সঠিক preposition হলো “at”.
৫. What is the plural form of ‘sheep’?
ক) sheeps
খ) sheep
গ) shepes
ঘ) sheepses
সঠিক উত্তর : খ) sheep
ব্যাখ্যা : sheep একটি irregular noun, যার singular এবং plural দুই রূপই একই থাকে. তাই সঠিক plural হলো sheep; sheeps, shepes বা sheepses কোনোটি standard ইংরেজিতে গ্রহণযোগ্য নয়.
৬. ‘Sweet are the uses of adversity’ is quoted from shakespear’s-
ক) Julias Caesar
খ) Macbeth
গ) Comedy of Errors
ঘ) As you Like it
সঠিক উত্তর : ঘ) As you Like it
ব্যাখ্যা : “Sweet are the uses of adversity” লাইনটি Shakespeare-এর নাটক As You Like It–এ Duke Senior চরিত্রের মুখে বলা হয়েছে. Julius Caesar, Macbeth বা The Comedy of Errors–এর কোনোটিতেই এই উক্তিটি নেই.
৭. ‘To get along with’ means-
ক) to adjust
খ) to interest
গ) to accompany
ঘ) to walk
সঠিক উত্তর : ক) to adjust
ব্যাখ্যা : get along with someone মানে কারও সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে চলা বা friendly/compatible হওয়া. অর্থাৎ adjust করে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বোঝায়; interest, accompany বা walk করার অর্থ এখানে প্রযোজ্য নয়.
৮. The synonym for ‘panoramic’ is-
ক) scenic
খ) narrow
গ) limited
ঘ) restricted
সঠিক উত্তর : ক) scenic
ব্যাখ্যা : panoramic কোনো বিস্তৃত, দূর-দূরান্ত পর্যন্ত দেখা যায় এমন দৃশ্য বোঝায়. scenic শব্দটিও সুন্দর ও বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্যের অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি উপযুক্ত synonym. narrow, limited এবং restricted সংকীর্ণ বা সীমিত অর্থ প্রকাশ করে, যা panoramic-এর বিপরীত ধারণা.
৯. The antonym for ‘slothful’ is-
ক) playful
খ) sluggish
গ) energetic
ঘ) quarrelsome
সঠিক উত্তর : গ) energetic
ব্যাখ্যা : slothful শব্দটির অর্থ অলস, নিষ্ক্রিয় বা কাজ এড়িয়ে চলার প্রবণতা থাকা। এর বিপরীত অর্থ সক্রিয়, উদ্যমী বা প্রাণবন্ত। energetic ঠিক সেই অর্থই প্রকাশ করে। sluggish একই ধরনের অর্থ দেয়, playful বা quarrelsome কোনোভাবেই slothful-এর বিপরীত নয়।
১০. Alexander Pope’s ‘Essay on Man’ is a-
ক) novel
খ) treatise
গ) short story
ঘ) poem
সঠিক উত্তর : ঘ) poem
ব্যাখ্যা : Alexander Pope-এর Essay on Man একটি দার্শনিক কবিতা। এতে মানুষের নৈতিকতা, অবস্থান এবং বিশ্বজগতের শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এটি novel, short story বা treatise নয়; তাই poem-ই সঠিক উত্তর।
১১. What is the verb form of the word ‘ability’?
ক) capable
খ) inability
গ) enable
ঘ) unable
সঠিক উত্তর : গ) enable
ব্যাখ্যা : ability একটি noun যার অর্থ সক্ষমতা। এর verb form হলো enable, অর্থাৎ কাউকে সক্ষম করা। capable ও unable adjective এবং inability হলো negative noun; তাই এগুলো verb নয়।
১২. The word ‘equivocation’ refers to-
ক) stating like an author
খ) two contradictory things in the same statement
গ) free expression of opinions
ঘ) a true statement
সঠিক উত্তর : খ) two contradictory things in the same statement
ব্যাখ্যা : equivocation মানে অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থবোধকভাবে কথা বলা, যেখানে একই বক্তব্যে বিপরীত ধারণা থাকে। এটি ambiguity তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
১৩. “Life’s but a walking shadow, a poor player,
That struts and frets his hour upon the stage,
And then is heard no more.” These memorable lines in Shakespearean tragedy are spoken by-
ক) Lady Macbeth
খ) Banquo
গ) Duncan
ঘ) Macbeth
সঠিক উত্তর : ঘ) Macbeth
ব্যাখ্যা : উক্ত লাইনগুলো Shakespeare-এর Macbeth নাটকের Act V, Scene V থেকে নেওয়া, যেখানে Macbeth জীবনের অসারতা ও ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতির প্রতি হতাশা প্রকাশ করে। Lady Macbeth, Banquo বা Duncan কেউই এই লাইন বলেনি।
১৪. Which of the following words is spelt correctly?
ক) authoratative
খ) autheritaitive
গ) authoritative
ঘ) auhrotatative
সঠিক উত্তর : গ) authoritative
ব্যাখ্যা : authoritative-ই সঠিক বানান, যার অর্থ কর্তৃত্বপূর্ণ বা নির্ভরযোগ্য। অন্য সবগুলো ভুল বানান এবং standard English spelling নয়।
১৫. Find out the active form of the sentence: ‘By whom can our country be saved?’
ক) Who can save our country?
খ) Our country has been saved by who?
গ) Who save our country?
ঘ) Who will save our country?
সঠিক উত্তর : ক) Who can save our country?
ব্যাখ্যা : Passive: By whom can our country be saved? Active করতে ‘by whom’ → ‘who’ এবং ‘be saved’ → ‘save’ হবে, modal verb can আগের মতোই থাকে। তাই সঠিক active form হলো Who can save our country?
১৬. “All changed, changed utterly: A terrible beauty is born.” This extract is taken from W.B. Yeats poem titled-
ক) No Second Troy
খ) Easter 1916
গ) The Second Coming
ঘ) The Wild Swans at Coole
সঠিক উত্তর : খ) Easter 1916
ব্যাখ্যা : উক্ত লাইনটি W.B. Yeats-এর Easter 1916 কবিতা থেকে নেওয়া, যা আয়ারল্যান্ডের Easter Rising ও তার ফলাফলের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে। অন্য কোনো কবিতায় এই লাইন নেই।
১৭. Identify the correct passive form: ‘Do not close the door.’
ক) Let not the door close.
খ) Let not the door be closed.
গ) Let not the door close.
ঘ) Let not door closed.
সঠিক উত্তর : খ) Let not the door be closed.
ব্যাখ্যা : মূল বাক্যে Do not close the door – এখানে close ক্রিয়াটি active form। Passive করতে object (the door) হবে subject এবং be + past participle (be closed) ব্যবহার করতে হবে। Negative imperative passive গঠনে let not + object + be + V₃ ব্যবহৃত হয়; তাই Let not the door be closed সঠিক রূপ। অন্য অপশনগুলোতে be নেই বা গঠনভুল।
১৮. The poetic drama ‘Murder in the Cathedral’ was written by-
ক) Harold Pinter
খ) G.B. Shaw
গ) T.S. Eliot
ঘ) Samuel Beckett
সঠিক উত্তর : গ) T.S. Eliot
ব্যাখ্যা : ‘Murder in the Cathedral’ হলো T.S. Eliot রচিত একটি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কাব্যনাট্য, যেখানে Thomas Becket-এর হত্যাকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। Harold Pinter, G.B. Shaw বা Samuel Beckett কেউই এই নাটকটি লেখেননি।
১৯. ‘All for Love’ is a drama written by-
ক) John Dryden
খ) William Congreve
গ) John Bunyan
ঘ) Francis Bacon
সঠিক উত্তর : ক) John Dryden
ব্যাখ্যা : ‘All for Love’ হলো John Dryden রচিত একটি ট্র্যাজিক নাটক, যা মূলত Shakespeare-এর Antony and Cleopatra নাটকের পুনর্লিখন। William Congreve, John Bunyan বা Francis Bacon-এর কোনো নাটক নয় এটি।
২০. Sitting happily, the chicken laid eggs. The underlined part is a/an-
ক) noun clause
খ) subordinate clause
গ) independent clause
ঘ) coordinate clause
সঠিক উত্তর : খ) subordinate clause
ব্যাখ্যা : Sitting happily অংশটি মূল বাক্যকে বিশেষণ/ক্রিয়াবিশেষণের মতো বিশদ করছে এবং নিজে সম্পূর্ণ বাক্য নয়; এটি একটি non-finite verb (sitting) নিয়ে গঠিত adverbial clause, যা অর্থের দিক থেকে main clause-এর ওপর নির্ভরশীল। তাই এটি subordinate clause; independent বা coordinate clause হলে নিজেরাই পূর্ণ বাক্য হতো, noun clause হলে noun-এর কাজ করত।
২১. Caliban is an important character from Shakespear’s-
ক) The Tempest
খ) Hamlet
গ) Macbeth
ঘ) Othello
সঠিক উত্তর : ক) The Tempest
ব্যাখ্যা : Caliban হলো Shakespeare-এর রোম্যান্টিক নাটক The Tempest-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র; সে Prospero-র দাসসুলভ চরিত্র হিসেবে উপস্থিত। Hamlet, Macbeth বা Othello–তে Caliban নামে কোনো চরিত্র নেই।
২২. What kind of noun is ‘river’?
ক) Material
খ) Collective
গ) Proper
ঘ) Common
সঠিক উত্তর : ঘ) Common
ব্যাখ্যা : river শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট নদীর নাম নয়, বরং সাধারণভাবে নদী বোঝায়; তাই এটি common noun। নির্দিষ্ট নাম হলে (যেমন: the Padma, the Nile) তা proper noun হতো; material বা collective nounের সাথেও river-এর অর্থ মেলে না।
২৩. ‘Caesar and Cleopatra’ is-
ক) a tragedy by William Shakespeare
খ) a poem by Lord Byron
গ) a play by Bernard Shaw
ঘ) a novel by S.T. Coleridge
সঠিক উত্তর : গ) a play by Bernard Shaw
ব্যাখ্যা : ‘Caesar and Cleopatra’ হলো George Bernard Shaw রচিত একটি নাটক, যেখানে Julius Caesar ও Cleopatra-র রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। এটি Shakespeare-এর ট্র্যাজেডি, Lord Byron-এর কবিতা বা Coleridge-এর কোনো উপন্যাস নয়।
২৪. Identify the right tense: ‘My father ___ before I came’.
ক) would be leaving
খ) had been leaving
গ) had left
ঘ) will leave
সঠিক উত্তর : গ) had left
ব্যাখ্যা : বাক্যে before I came দ্বারা বোঝাচ্ছে, আমার আসার আগেই কাজটি শেষ হয়ে গিয়েছিল। অতীতের আরেকটি কাজের আগের সম্পন্ন কাজ বোঝাতে past perfect tense (had + V₃) ব্যবহার করা হয়, তাই had left সঠিক। অন্য অপশনগুলোতে সময়ের সম্পর্ক ঠিক থাকে না।
২৫. Which of the following words is spelt incorrectly?
ক) reminescence
খ) glycerin
গ) idiosyncrasy
ঘ) lexicography
সঠিক উত্তর : ক) reminescence
ব্যাখ্যা : reminescence বানানটি ভুল; সঠিক বানান হলো reminiscence, যার অর্থ অতীত স্মৃতিচারণ বা স্মৃতি। বাকি শব্দগুলোর বানান সঠিক।
২৬. Who wrote the picaresque novel titled ‘Tom Jones’?
ক) Samuel Richardson
খ) Horace Walpole
গ) Henry Fielding
ঘ) Laurence Sterne
সঠিক উত্তর : গ) Henry Fielding
ব্যাখ্যা : ‘Tom Jones’ বা পূর্ণ নাম The History of Tom Jones, a Foundling হলো Henry Fielding রচিত বিখ্যাত picaresque novel। Samuel Richardson, Horace Walpole বা Laurence Sterne এর লেখক নন।
২৭. The story of ‘Moby Dick’ centres on-
ক) a mermaid
খ) a whale
গ) a crocodile
ঘ) a shark
সঠিক উত্তর : খ) a whale
ব্যাখ্যা : Herman Melville-এর উপন্যাস ‘Moby Dick’-এর কাহিনি মূলত একটি বিশাল সাদা তিমি অর্থাৎ whale-কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। অন্য কোনো প্রাণীকে ঘিরে প্লট গড়ে ওঠেনি।
২৮. ‘He prayeth best, who loveth best.’ Who said it?
ক) John Milton
খ) John Donne
গ) Lord Byron
ঘ) S.T. Coleridge
সঠিক উত্তর : ঘ) S.T. Coleridge
ব্যাখ্যা : ‘He prayeth best, who loveth best’ পঙ্ক্তিটি Samuel Taylor Coleridge-এর কবিতা “The Rime of the Ancient Mariner” থেকে নেওয়া। Milton, Donne বা Byron এই লাইনটির রচয়িতা নন।
২৯. The controlling sentence of a paragraph is known as-
ক) content modulator
খ) terminator
গ) thesis statement
ঘ) topic sentence
সঠিক উত্তর : ঘ) topic sentence
ব্যাখ্যা : একটি paragraph-এর মূল ধারণা যে বাক্যটি নিয়ন্ত্রণ করে ও সংক্ষেপে প্রকাশ করে, তাকে topic sentence বলা হয়। paragraph-এর বাকি বাক্যগুলো এই topic sentence-কে ব্যাখ্যা করে, তাই controlling sentence নামেও এটি পরিচিত।
৩০. Choose the correct comparative form of the sentence: ‘Very few boys are as industrious as Zaman.’
ক) Zaman is one of the most industrious boys.
খ) Zaman is more industrious than most other boys.
গ) Zaman is really industrious like other boys.
ঘ) Zaman is as industrious as other boys.
সঠিক উত্তর : খ) Zaman is more industrious than most other boys.
ব্যাখ্যা : Very few boys are as industrious as Zaman গঠনে বোঝায়, খুব কমই ছেলে আছে যারা Zaman-এর মতো পরিশ্রমী; অর্থাৎ Zaman বেশির ভাগ ছেলের চেয়ে বেশি পরিশ্রমী। তার comparative রূপ হয়: Zaman is more industrious than most other boys.
৩১. Identify the appropriate preposition: Your opinion is identical ___ mine.
ক) for
খ) in
গ) with
ঘ) by
সঠিক উত্তর : গ) with
ব্যাখ্যা : identical শব্দের পর সাধারণত preposition with ব্যবহৃত হয় যখন similarity বা একরকম হওয়া বোঝানো হয়: identical with mine / identical with yours। তাই এখানে with-ই সঠিক।
৩২. ‘Paradise Lost’ attempted to-
ক) justify the ways of man to God.
খ) show that Satan and God have equal power.
গ) justify the ways of God to man.
ঘ) explain why both good and evil are necessary.
সঠিক উত্তর : গ) justify the ways of God to man.
ব্যাখ্যা : John Milton তাঁর মহাকাব্য Paradise Lost-এ ঘোষণা করেন যে কবিতার উদ্দেশ্য হলো “to justify the ways of God to men” অর্থাৎ মানুষের কাছে ঈশ্বরের কার্যকলাপের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা। তাই গ অপশনটি সরাসরি কবির ঘোষিত উদ্দেশ্য।
৩৩. “Oh, lift me as a wave, a leaf, a cloud! I fall upon the thorns of life! I bleed!” The extract is taken from P.B. Shelley’s poem-
ক) The Cloud
খ) To a Skylark
গ) Ode to the West Wind
ঘ) Adonais
সঠিক উত্তর : গ) Ode to the West Wind
ব্যাখ্যা : উক্ত লাইনগুলো P.B. Shelley-র বিখ্যাত ওড “Ode to the West Wind” কবিতা থেকে নেওয়া, যেখানে কবি ঝঞ্ঝাবাতাসকে (West Wind) নিজেকে ভাসিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। The Cloud, To a Skylark বা Adonais – কোনো কবিতায় এই পঙ্ক্তি নেই।
৩৪. Who wrote the short story ‘The Ant and the Grasshopper’?
ক) Guy de Maupassant
খ) W. Somerset Maugham
গ) J.K. Rawlings
ঘ) O’Henry
সঠিক উত্তর : খ) W. Somerset Maugham
ব্যাখ্যা : ‘The Ant and the Grasshopper’ গল্পটি W. Somerset Maugham রচিত একটি বিখ্যাত short story, যেখানে পরিশ্রমী ও আলসেমিতে ভরা দুই ভাইয়ের চরিত্রের মাধ্যমে নৈতিকতা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্য লেখকদের এর সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
৩৫. The word ‘vital’ is a/an-
ক) noun
খ) adverb
গ) adjective
ঘ) verb
সঠিক উত্তর : গ) adjective
ব্যাখ্যা : vital শব্দটি সাধারণত “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”, “জীবনধারার জন্য অপরিহার্য” – এই অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং noun-কে বর্ণনা করে; তাই এটি adjective। noun, adverb বা verb হিসেবে vital ব্যবহৃত হয় না।
গাণিতিক যুক্তি
৩৬। 2log₁₀5 + log₁₀36 − log₁₀9 = ?
ক) 2
খ) 100
গ) 37
ঘ) 4.6
সঠিক উত্তর : ক) 2
ব্যাখ্যা : দেয়া আছে:
2log₁₀5 + log₁₀36 − log₁₀9
= log₁₀5² + log₁₀36 − log₁₀9 [2logₖM = logₖM²]
এখন 36 = 6² এবং 9 = 3²
⇒ log₁₀5² + log₁₀36 − log₁₀9
= log₁₀5² + log₁₀6² − log₁₀3²
log₁₀5² + log₁₀6² = log₁₀(5² × 6²) [logₖM + logₖN = logₖ(M × N)]
সুতরাং,
log₁₀5² + log₁₀6² − log₁₀3²
= log₁₀(5² × 6²) − log₁₀3²
= log₁₀( (5² × 6²) ÷ 3² ) [logₖM − logₖN = logₖ(M ÷ N)]
(5² × 6²) ÷ 3² = (25 × 36) ÷ 9
তাই,
log₁₀( (5² × 6²) ÷ 3² )
= log₁₀( (25 × 36) ÷ 9 )
= log₁₀100
100 = 10² ⇒ log₁₀100 = log₁₀10² = 2log₁₀10
এবং log₁₀10 = 1, তাই 2log₁₀10 = 2 × 1 = 2
অতএব, মান = 2
৩৭। ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্যের দ্বিগুণ হলে শতকরা লাভ বা ক্ষতির পরিমাণ কত?
ক) লাভ ২৫%
খ) ক্ষতি ২৫%
গ) লাভ ১০%
ঘ) ক্ষতি ৫০%
সঠিক উত্তর : ঘ) ক্ষতি ৫০%
ব্যাখ্যা : ধরি, বিক্রয়মূল্য = x টাকা
সুতরাং, ক্রয়মূল্য = 2x টাকা
তাহলে, ক্ষতি = ক্রয়মূল্য − বিক্রয়মূল্য = 2x − x = x টাকা
এখন,
ক্ষতির শতকরা = (ক্ষতি ÷ ক্রয়মূল্য) × ১০০
= (x ÷ 2x) × ১০০
= (১ ÷ ২. × ১০০
= ৫০%
অতএব, শতকরা ক্ষতি = ৫০%
৩৮। একটি ফাংশন f: R → R, f(x) = 2x + 1 দ্বারা সংজ্ঞায়িত হলে f⁻¹(2)-এর মান কত?
ক) 0
খ) ১/২
গ) 5
ঘ) 1
সঠিক উত্তর : খ) ১/২
ব্যাখ্যা : Let, y = f(x) = 2x + 1
বা, y = 2x + 1
বা, 2x = y − 1
বা, x = (y − 1) ÷ 2
∴ y = f(x)
বা, f⁻¹(y) = x
বা, f⁻¹(y) = (y − 1) ÷ 2
∴ f⁻¹(x) = (x − 1) ÷ 2
∴ f⁻¹(2) = (2 − 1) ÷ 2 = 1 ÷ 2
অতএব, f⁻¹(2) = ১/২
৩৯। ABC ত্রিভুজে B কোণের পরিমাণ ৪৮° এবং AB = AC। যদি E এবং F যথাক্রমে AB এবং AC-কে এমনভাবে ছেদ করে যেন EF ∥ BC হয়, তাহলে ∠A + ∠AFE = ?
ক) ১৩২°
খ) ১৮০°
গ) ১০৮°
ঘ) ১৬০°
সঠিক উত্তর : ক) ১৩২°
ব্যাখ্যা : দেওয়া আছে, ∠B = ৪৮° এবং AB = AC
সুতরাং, ∠B = ∠C = ৪৮° [সমদ্বিবাহু ত্রিভুজে সমদ্বিবাহু বাহুর বিপরীত কোণসমান]
আবার, EF ∥ BC এবং F বিন্দুটি AC-কে ছেদ করেছে,
∴ ∠C = ∠AFE [অনুরূপ কোণ]
⇒ ∠AFE = ৪৮°
এখন, ∠A + ∠B + ∠C = ১৮০°
⇒ ∠A + ৪৮° + ৪৮° = ১৮০°
⇒ ∠A = ১৮০° − ৯৬°
⇒ ∠A = ৮৪°
সুতরাং, ∠A + ∠AFE = ৮৪° + ৪৮° = ১৩২°
৪০। যদি log₁₀x = −1 হয়, তাহলে নিচের কোনটি x এর মান?
ক) 0.1
খ) 0.01
গ) 1/10000
ঘ) 0.001
সঠিক উত্তর : ক) 0.1
ব্যাখ্যা : দেওয়া আছে, log₁₀x = −1
⇒ x = 10⁻¹
⇒ x = 1 ÷ 10
⇒ x = 0.1
৪১। যদি −5, p, q, 16 সমান্তর অনুক্রমে থাকে, তাহলে p ও q এর মান হবে যথাক্রমে –
ক) −2, 9
খ) 2, 9
গ) −2, −9
ঘ) 2, −9
সঠিক উত্তর : খ) 2, 9
ব্যাখ্যা : দেওয়া ধারা: −5, p, q, 16, যা সমান্তর অনুক্রম (A.P.)
ধারার প্রথম পদ, a = −5
ধরি, সাধারণ অন্তর = d
সমান্তর ধারার n তম পদ, Tₙ = a + (n − 1)d
৪র্থ পদ T₄ = 16
⇒ T₄ = a + (4 − 1)d = −5 + 3d
সুতরাং, −5 + 3d = 16
⇒ 3d = 16 + 5 = 21
⇒ d = ২১ ÷ ৩ = ৭
এখন, ২য় পদ p = T₂ = a + (2 − 1)d
⇒ p = −5 + 1 × 7 = −5 + 7 = 2
৩য় পদ q = T₃ = a + (3 − 1)d
⇒ q = −5 + 2 × 7 = −5 + 14 = 9
অতএব, p = 2 এবং q = 9
৪২। i⁻⁴⁹ এর মান কত?
ক) −1
খ) i
গ) 1
ঘ) −i
সঠিক উত্তর : ঘ) −i
ব্যাখ্যা :
আমরা জানি, i = √(−1)
⇒ i² = −1
⇒ i³ = i²·i = (−1)·i = −i
⇒ i⁴ = i²·i² = (−1)·(−1) = 1
এখন, i⁻⁴⁹ = 1 ÷ i⁴⁹
= 1 ÷ (i⁴⁸ · i)
= 1 ÷ ((i⁴)¹² · i)
= 1 ÷ (1 · i) = 1 ÷ i
1 ÷ i = i⁴ ÷ i = i³ = −i [কারণ i⁴ = 1]
অতএব, i⁻⁴⁹ = −i
৪৩। ১৮ এবং ৭২ এর গুণোত্তর গড় কত?
ক) ৪৫
খ) ১২৯৩
গ) ৩৬
ঘ) ৪
সঠিক উত্তর : গ) ৩৬
ব্যাখ্যা :
আমরা জানি, n সংখ্যক সংখ্যার গুণোত্তর গড় = ⁿ√(x₁·x₂·x₃·…·xₙ)
সুতরাং ১৮ ও ৭২ এর গুণোত্তর গড় = √(১৮ × ৭২.
= √(১৮ × ৭২.
= √(৯ × ২ × ৩৬ × ২.
= √(৯ × ৩৬ × ৪.
= √(৩² × ৬² × ২²)
= ৩ × ৬ × ২
= ৩৬
৪৪। 1 − 1 + 1 − 1 + 1 − 1 + … (n সংখ্যক পদ) এর যোগফল হবে –
ক) 0
খ) 1
গ) [1 + (−1)ⁿ]
ঘ) (1/2)[1 − (−1)ⁿ]
সঠিক উত্তর : ঘ) (1/2)[1 − (−1)ⁿ]
ব্যাখ্যা : এখানে ১ম পদ, a = 1
সাধারণ অনুপাত, r = (−1)/1 = −1
আমরা জানি, |r| < 1 হলে, n সংখ্যক পদের সমষ্টি Sₙ = a(1 − rⁿ)/(1 − r)
∴ n সংখ্যক পদের সমষ্টি, Sₙ = {1 × (1 − (−1)ⁿ)} ÷ {1 − (−1)}
= {1 − (−1)ⁿ} ÷ (1 + 1)
= {1 − (−1)ⁿ} ÷ 2
= (1/2)[1 − (−1)ⁿ]
৪৫। একটি সুষম বহুভুজের প্রত্যেকটি কোণ ১৬৮°। এর বাহু সংখ্যা কতটি হবে?
ক) ৩০
খ) ২০
গ) ১৮
ঘ) ১০
সঠিক উত্তর : ক) ৩০
ব্যাখ্যা :
সুষম বহুভুজের একটি অন্তঃকোণের পরিমাণ ১৬৮°।
সুতরাং এর একটি বহিঃকোণ = ১৮০° − ১৬৮° = ১২°
আমরা জানি, সুষম বহুভুজের সব বহিঃকোণের সমষ্টি = ৩৬০°
∴ বহুভুজটির বাহু সংখ্যা = ৩৬০° ÷ ১২°
= ৩০টি
৪৬। একটি সমবাহু ত্রিভুজের বাহুর দৈর্ঘ্য ২ সেমি এবং উচ্চতা x সেমি হলে, x এর মান কত?
ক) √2
খ) √3
গ) ২
ঘ) ৩
সঠিক উত্তর : খ) √3
ব্যাখ্যা :
আমরা জানি, সমবাহু ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল = (√৩/৪. × (বাহু)²
= (√৩/৪. × (২.²
= (√৩/৪. × ৪
= √৩
আবার, ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল = (১/২. × ভূমি × উচ্চতা
= (১/২. × ২ × x
= x
সুতরাং, x = √৩
৪৭। যদি ⁴√(x³) = 2 হয়, তাহলে x³⁄² = ?
ক) 8
খ) 16
গ) 4
ঘ) 64
সঠিক উত্তর : গ) 4
ব্যাখ্যা :
দেওয়া আছে, ⁴√(x³) = 2
⇒ (x³)^(1/4) = 2
⇒ x^(3/4) = 2
⇒ (x^(3/4))² = 2²
⇒ x^(3/2) = 4
৪৮। P(A) = 1/3, P(B) = 3/4 হলে এবং A ও B স্বাধীন হলে P(A ∪ B)-এর মান কত?
ক) 3/4
খ) 1/3
গ) 5/6
ঘ) এর কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর : গ) 5/6
ব্যাখ্যা :
দেওয়া আছে, P(A) = 1/3, P(B) = 3/4 এবং A ও B স্বাধীন ঘটনা।
আমরা জানি, P(A ∪ B) = P(A) + P(B) − P(A ∩ B)
এবং A ও B স্বাধীন হলে, P(A ∩ B) = P(A)·P(B)
∴ P(A ∪ B) = P(A) + P(B) − P(A)P(B)
= (1/3 + 3/4) − (1/3 × 3/4)
= 1/3 + 3/4 − 1/4
= (4 + 9 − 3)/12
= 10/12
= 5/6
৪৯। বাস্তব সংখ্যায় |3x + 2| < 7 অসমতার সমাধান কী?
ক) −3 < x < 3
খ) −5/3 < x < 5/3
গ) −3 < x < 5/3
ঘ) 5/3 < x < −5/3
সঠিক উত্তর : গ) −3 < x < 5/3
ব্যাখ্যা :
|3x + 2| < 7
⇒ −7 < 3x + 2 < 7
⇒ −7 − 2 < 3x + 2 − 2 < 7 − 2
⇒ −9 < 3x < 5
⇒ −9/3 < 3x/3 < 5/3
⇒ −3 < x < 5/3
৫০। 6a²bc এবং 4a³b²c² -এর সংখ্যা সহগের গ.সা.গু নিচের কোনটি?
ক) a²bc
খ) 2a²bc
গ) 2a²b²c²
ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর : ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা :
6a²bc এবং 4a³b²c² -এর সংখ্যা সহগ যথাক্রমে 6 ও 4।
সংখ্যা সহগের গ.সা.গু = ২
প্রদত্ত বিকল্পগুলোর কোনোটিই শুধু ‘২’ নয়, তাই সঠিক উত্তর ‘কোনোটিই নয়’।
আবার, যদি পুরো রাশির গ.সা.গু নির্ণয় করতে বলা হতো, তাহলে গ.সা.গু = 2a²bc হতো।
সাধারণ বিজ্ঞান
৫১. সুপরিবাহী পদার্থের valence band এবং conduction band –
ক) আলাদা থাকে
খ) ওভারল্যাপ থাকে
গ) অনেক দূরে থাকে
ঘ) কোনোটাই নয়
সঠিক উত্তর : খ) ওভারল্যাপ থাকে
ব্যাখ্যা :
পরিবাহী : যে সব পদার্থের মধ্যে যথেষ্ট মুক্ত ইলেকট্রন থাকে এবং যেগুলোর মধ্যে দিয়ে খুব সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলাচল করতে পারে, সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। যেমন : তামা, অ্যালুমিনিয়াম, রূপা, লোহা ইত্যাদি পরিবাহী।
পরিবাহীতে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মাঝে কোনো শক্তি ব্যবধান থাকে না। অর্থাৎ Eg এর মান শূন্য হয়।
এক্ষেত্রে পরিবাহীর যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে আংশিক overlapping ঘটে, কাজেই যোজন ইলেকট্রন খুব সহজেই পরিবহন ইলেকট্রনে পরিণত হতে পারে। এই overlapping-এর জন্য পরিবাহীর দু’ই প্রান্তে খুব সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকার ফলে এদের রোধ খুব কম হয়, অর্থাৎ তড়িৎ পরিবাহিতা বেশি হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি পাঠ্যক্রম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২. ফটোগ্রাফিক প্লেটের আবরণ থাকে –
ক) সিলভার ব্রোমাইড
খ) সিলভার ক্লোরাইড
গ) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
ঘ) সিলভার ক্লোরাইড
সঠিক উত্তর : ক) সিলভার ব্রোমাইড
ব্যাখ্যা :
ফটোগ্রাফিক প্লেটের আবরণ থাকে সিলভার ব্রোমাইড।
সিলভার ব্রোমাইডের রাসায়নিক সংকেত হলো AgBr।
Dry plate, in photography, glass plate coated with a gelatin emulsion of silver bromide. It can be stored until exposure, and after exposure it can be brought back to a darkroom for development at leisure.
উৎস: Britannica.
৫৩. বজ্রপাতের ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?
ক) নাইট্রোজেন
খ) পটাশিয়াম
গ) অক্সিজেন
ঘ) ফসফরাস
সঠিক উত্তর : ক) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা :
মাটিতে নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস বিভিন্ন নাইট্রোজেন লবণ।
বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকলেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না।
উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে।
বেশি ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম এবং এটি ধানসহ বহু ফসলে বহুল ব্যবহৃত সার।
বজ্রপাত একটি শক্তিশালী সার-প্রদানকারী উপাদান। প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়াম ও নাইট্রেট তৈরি করে। পরে এই যৌগগুলো বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয়ে মাটিতে ধুয়ে যায়। গাছপালা তখন মাটি থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে।
যেহেতু নাইট্রোজেন ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান, তাই নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি পাঠ্যক্রম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; cals.arizona.edu।
৫৪. ফোলিক অ্যাসিডের অন্য নাম কোনটি?
ক) ভিটামিন বি ১২
খ) ভিটামিন বি ৬
গ) ভিটামিন বি ১
ঘ) ভিটামিন বি ৯
সঠিক উত্তর : ঘ) ভিটামিন বি ৯
ব্যাখ্যা :
ফোলিক অ্যাসিড ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অন্তর্গত এক ধরনের বি ভিটামিন।
ফোলিক অ্যাসিডের অন্য নাম ভিটামিন বি ৯।
এর কাজের মধ্যে রয়েছে:
– রক্তকণিকা তৈরিতে অংশ নেওয়া।
– বংশগতি বহনকারী উপাদান ডিএনএ (DNA) গঠনে কাজ করা।
– কোষ গঠন ও বিভাজনে ভূমিকা রাখা।
কলিজা (যকৃত), মাছ, মাংস, বাদাম, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি ফোলিক অ্যাসিডের ভালো উৎস।
Folate is the natural form of vitamin B9, water-soluble and naturally found in many foods. It is also added to foods and sold as a supplement in the form of folic acid; this form is actually better absorbed than that from food sources—85% vs. 50%, respectively. Folate helps to form DNA and RNA and is involved in protein metabolism.
উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি পাঠ্যক্রম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; https://www.hsph.harvard.edu/।
৫৫. যে কারণে শৈশব-অন্ধত্ব হতে পারে তা হলো –
ক) এইচআইভি/এইডস
খ) ম্যালেরিয়া
গ) হাম
ঘ) যক্ষা
সঠিক উত্তর : গ) হাম
ব্যাখ্যা :
হামের জীবাণু আক্রান্ত শিশু থেকে বাতাসের মাধ্যমে সুস্থ শিশুর শরীরে প্রবেশ করে এবং হাম রোগ সৃষ্টি করে।
৯ মাস বয়স পূর্ণ হলে এক ডোজ এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা এবং ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হলে হামের দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিলে শিশুকে হাম রোগ থেকে প্রতিরোধ করা যায়।
হামের কারণে শৈশব-অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে।
Measles blindness is the single leading cause of blindness among children in low-income countries, accounting for an estimated 15,000 to 60,000 cases of blindness per year.
উৎস: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, National Library of Medicine, US Govt।
৫৬. শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিতে হয় –
ক) বছরে একবার
খ) বছরে দুইবার
গ) বছরে তিনবার
ঘ) এর কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর : খ) বছরে দুইবার
ব্যাখ্যা :
শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিন পূর্ণ হলেই পেন্টাভ্যালেন্ট (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, Hib) ও ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (OPV) এর প্রথম ডোজ দিতে হবে; এভাবে প্রথম বছরেই সবগুলো টিকা দেওয়ার জন্য কমপক্ষে ৪ বার টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে।
শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হয়ে ১০ মাসের মধ্যে হলেই হাম টিকা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দিতে হবে।
১৫ বছর বয়স হলে সকল মহিলাদের ধনুষ্টংকার প্রতিষেধক টিটি টিকা দেওয়া শুরু করতে হবে এবং সময়সূচি অনুযায়ী ৫ ডোজ টিটি টিকা নিয়ে শেষ করতে হবে।
১–৫ বছর বয়সী শিশুদের প্রতি ৬ মাস অন্তর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।
অর্থাৎ, বছরে দুইবার শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হয়।
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট
৫৭. ব্যাকটেরিয়ার গতিশীলতার জন্য যে গঠন দায়ী তা হলো —
ক) পিলি
খ) ফ্ল্যাজেলা
গ) শীথ
ঘ) ক্যাপসুল
সঠিক উত্তর : খ) ফ্ল্যাজেলা
ব্যাখ্যা :
ফ্ল্যাজেলা হলো সাইটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক ধরনের সূতার মতো গঠন, যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে থাকে।
ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্ল্যাজেলা গঠিত; ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে।
ফ্ল্যাজেলার তুলনায় ছোট ও শক্ত উপাঙ্গকে পিলি বলে। পিলি পিলিন নামক এক ধরনের প্রোটিন দিয়ে গঠিত; ব্যাকটেরিয়াকে কোনো কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সাহায্য করে।
ক্যাপসুল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দ্বারা গঠিত এক প্রকার স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে এবং কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে; একে স্লাইম লেয়ারও বলা হয়। এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি পাঠ্যক্রম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮. ‘কেপলার-৪৫২বি’ কী?
ক) একটি মহাকাশযান
খ) পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ
গ) সূর্যের মতো একটি নক্ষত্র
ঘ) NASA-এর অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ
সঠিক উত্তর : খ) পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ
ব্যাখ্যা :
‘কেপলার-৪৫২বি’ পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ।
এটি আমাদের সূর্যের মতো একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, তবে ওই নক্ষত্রটি প্রায় ১৫০ কোটি বছর পুরোনো এবং সূর্যের চেয়ে প্রায় ৪% বড় ও ১০% উজ্জ্বল।
কেপলার-৪৫২বি একটি পাথুরে গ্রহ বলে ধারণা করা হয়।
২০১৫ সালে নাসার বিজ্ঞানীরা এই গ্রহ আবিষ্কার করেন।
উৎস: প্রথম আলো অনলাইন প্রতিবেদন।
৫৯. ধারালো যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার ভাল পদ্ধতি –
ক) বয়েলিং
খ) বেঞ্জিন ওয়াশ
গ) ফরমালিন ওয়াশ
ঘ) কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন
সঠিক উত্তর : ঘ) কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন
ব্যাখ্যা :
বয়েলিং তথা সেদ্ধ করার ক্ষেত্রে ধাতব যন্ত্রে বারবার পানির সংস্পর্শে মরিচা ধরার সম্ভাবনা থাকে।
বেঞ্জিন ও ফরমালিন মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর; তাই এগুলো ভালো পদ্ধতি নয়।
সব দিক বিবেচনায় ধারালো যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার জন্য কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন একটি কার্যকর পদ্ধতি।
স্টেরিলাইজেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে জীবাণুসহ সব অণুজীবও ধ্বংস হয়ে যায়।
যে বস্তু যে পদার্থ দিয়ে তৈরি, কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন করার সময় তা অনুযায়ী রাসায়নিক নির্বাচন করতে হয়, নইলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।
উৎস: Guideline for Disinfection and Sterilization in Healthcare Facilities, Centers for Disease Control and Prevention, US Govt.
৬০. সাবানের আয়নিক রূপ হলো—
ক) R₃NH⁺
খ) SO₃⁻Na⁺
গ) R₂NH₂⁺
ঘ) COO⁻Na⁺
সঠিক উত্তর : ঘ) COO⁻Na⁺
ব্যাখ্যা :
সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি অ্যাসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি অ্যাসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK)।
এর রাসায়নিক নাম সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C₁₇H₃₅COONa)।
সাবানের আয়নিক রূপ হলো COO⁻Na⁺।
সাবান তৈরি করা হয় চর্বি এবং ক্ষার থেকে।
সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।
উৎস: রসায়ন, এসএসসি পাঠ্যক্রম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১. কোন জোড়াটি সঠিক?
ক) যক্ষার জীবাণু : রবার্ট কচ
খ) হোমিওপ্যাথি : হ্যানিমান
গ) ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক
ঘ) অ্যানাটমি : ভেসালিয়াস
সঠিক উত্তর : গ) ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা :
ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক ১৬৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর নিজ উদ্ভাবিত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
তিনি এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী; তাই তাঁকে ‘Father of Bacteriology’ বলা হয়।
জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
যক্ষা হলো ব্যাকটেরিয়াজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা Mycobacterium tuberculosis নামক জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট; ড. রবার্ট কচ ১৮৮২ সালে এই জীবাণু আবিষ্কার করেন।
স্যামুয়েল হ্যানিমান ছিলেন জার্মানির বিখ্যাত চিকিৎসক; তাঁকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জনক বলা হয়।
আন্দ্রেয়াস ভেসালিয়াস ছিলেন একজন বেলজিয়ান অ্যানাটমিস্ট ও চিকিৎসক; তাঁকে আধুনিক শারীরবিদ্যার জনক বলা হয়।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, এইচএসসি পাঠ্যক্রম; ohsu.edu।
৬২. এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোন -এর মৌলিক উপাদান —
ক) প্রোটিন
খ) ক্যালসিয়াম
গ) ভিটামিন
ঘ) লবণ
সঠিক উত্তর : ক) প্রোটিন
ব্যাখ্যা :
প্রোটিন জীবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক পদার্থ।
বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড বিভিন্নভাবে শৃঙ্খলিত হয়ে এক একটি প্রোটিন গঠন করে; অ্যামিনো অ্যাসিড হলো প্রোটিনের মূল গাঠনিক একক।
প্রোটিন অণু বহু সংখ্যক অ্যামিনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে তৈরি বৃহদাকার জৈব অণু। ‘প্রোটিন’ শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন জে. মুলার ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে।
একটি কোষের অভ্যন্তরে সারাক্ষণ শত শত ধরনের প্রোটিন তৈরি হয়।
জীবদেহের প্রায় সর্বত্রই প্রোটিন বিদ্যমান থাকে। জৈব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী এনজাইম, অ্যান্টিবডি ও হরমোন—সবই প্রোটিন।
সব এনজাইম প্রোটিন, তবে সব প্রোটিন এনজাইম নয়।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি পাঠ্যক্রম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩. মকরক্রান্তি রেখা কোনটি?
ক) ২৩°৩০′ দক্ষিণ অক্ষাংশ
খ) ২৩°৩০′ উত্তর অক্ষাংশ
গ) ২৩°৩০′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
ঘ) ২৩°৩০′ পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ
সঠিক উত্তর : ক) ২৩°৩০′ দক্ষিণ অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা :
দক্ষিণ গোলার্ধের ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা বা ২৩°৩০′ দক্ষিণ অক্ষাংশকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
উত্তর গোলার্ধের ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়।
পৃথিবীর বার্ষিক গতি এবং নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে থাকার ফলে সূর্যের রশ্মি এই দুই অক্ষরেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে লম্বভাবে পড়ে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি পাঠ্যক্রম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪. পরম শূন্য তাপমাত্রা কোনটি?
ক) ২৭৩° সেলসিয়াস
খ) -২৭৩° ফারেনহাইট
গ) ০° সেলসিয়াস
ঘ) ০° কেলভিন
সঠিক উত্তর : ঘ) ০° কেলভিন
ব্যাখ্যা :
যে তাপমাত্রায় শার্ল বা গে-লুসাকের সূত্র অনুযায়ী কোনো গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয়ে যায়, তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে।
এই পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো -২৭৩° সেলসিয়াস।
তাপমাত্রাকে শুরু বা শূন্য ধরে প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রার ব্যবধানকে এক ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমান ধরে যে তাপমাত্রা একক তৈরি করা হয়েছে, তাকে তাপমাত্রার পরম একক বা কেলভিন স্কেল বলে।
পরম শূন্য তাপমাত্রা কেলভিন স্কেলে ০ K।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫. আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ কত?
ক) অসীম
খ) শূন্য
গ) অতি ক্ষুদ্র
ঘ) অনেক বড়
সঠিক উত্তর : খ) শূন্য
ব্যাখ্যা :
বিদ্যুৎ কোষের সাহায্যে কোনো বৃত্তে তড়িৎ প্রবাহ চালালে কোষের ধনাত্মক পাট থেকে ঋণাত্মক পাটে এবং কোষের অভ্যন্তরে ঋণাত্মক পাট থেকে ধনাত্মক পাটে তড়িৎ প্রবাহ হয়।
বহির্বর্তী রাসায়নিক পদার্থ তড়িৎ প্রবাহে যে বাধার সৃষ্টি করে তাকে কোষের অভ্যন্তরীণ রোধ বলে।
একটি আদর্শ ভোল্টেজ উৎস বা আদর্শ ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য বলে ধরা হয়।
আদর্শ ব্যাটারির টার্মিনাল ভোল্টেজ সর্বদা ধ্রুব এবং তা ব্যাটারির ইএমএফ-এর সমান; এতে অভ্যন্তরীণ রোধ না থাকার কারণে প্রবাহের মানের উপর টার্মিনাল ভোল্টেজ নির্ভর করে না।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং University Physics Volume 2 (Samuel J. Ling, William Moebs, Jeff Sanny)।
কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি
৬৬. নিচের কোনটি Structured Query Language নয়?
ক) Java
খ) MySQL
গ) Oracle
ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর : ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা :
Java, MySQL এবং Oracle – এর কোনটাই Structured Query Language (SQL) নয়। অর্থাৎ সঠিক সঠিক উত্তর : ঘ) উপরের সবগুলো (Structured Query Language নয়)।
এটি আসলে একটি টেকনিক্যাল ট্রিক কুইশ্চেন; তাই বিভ্রান্তিতে পড়ার আগে MySQL এবং Oracle সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
অপশন ক) Java: এটি একটি Programming Language, তবে SQL নয়; এ নিয়ে কোনো সন্দেহের সুযোগ নেই।
অপশন খ) MySQL: এটি একটি Relational Database Management System (RDBMS), কোনো ভাষা নয়। MySQL, the most popular open-source SQL database management system, is developed, distributed, and supported by Oracle Corporation. SQL is the most common standardized language used to access databases.
অর্থাৎ, রিলেশনাল ডাটাবেস অ্যাক্সেস করার জন্য SQL হলো একটি টুল/Language; MySQL হলো একটি Database Management System, যা Structured Query Language (SQL) ব্যবহার করে; নিজে SQL ভাষা নয়।
অপশন গ) Oracle: Oracle Corporation-এর তৈরি আরেকটি Relational Database Management System (RDBMS), এটি নিজে SQL ভাষা নয়।
Structured Query Language (SQL) হলো একটি শক্তিশালী Data Manipulation এবং Data Definition Language। ১৯৭৪ সালে IBM (International Business Machines) এর Research Center-এ SQL তৈরি করা হয়।
অন্যদিকে, RDBMS-এর পূর্ণরূপ Relational Database Management System। Relational Database Management System-এর উদাহরণ: MS Access, Oracle, MySQL, Microsoft SQL Server, Informix ইত্যাদি।
উৎস: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক বইসমূহ, MySQL এবং Oracle-এর অফিসিয়াল সাইট।
৬৭. ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থায় Hostname-কে IP Address-এ অনুবাদ করে –
ক) FTP Server
খ) Firewall
গ) DNS Server
ঘ) Gateway
সঠিক উত্তর : গ) DNS Server
ব্যাখ্যা :
DNS এর পূর্ণরূপ Domain Name System।
ডোমেইন নেম হলো ইন্টারনেটে এক বা একাধিক IP Address শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত একটি অনন্য আলফানিউমেরিক ঠিকানা।
Hostname হলো কোনো Host কম্পিউটারের জন্য ব্যবহৃত প্রাকৃতিক ডোমেইন নেম; এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি কম্পিউটারকে অনন্যভাবে শনাক্ত করা যায়।
DNS Server মূলত Hostname-কে IP Address-এ অনুবাদ করে দেয়।
একজন ব্যবহারকারী যখন কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য ঠিকানা লিখে, সেই নির্দেশ প্রথমে DNS Server-এ পৌঁছায়; DNS তখন Hostname-এর পরিবর্তে তার IP Address বের করে দেয়, ফলে ব্যবহারকারী সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারে।
উৎস: কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক।
৬৮. নিচের কোন মডেলটি Cloud Computing সেবা প্রদানকারীগণ ব্যবহার করে না?
ক) CaaS
খ) IaaS
গ) PaaS
ঘ) SaaS
সঠিক উত্তর : ক) CaaS
ব্যাখ্যা :
সেবার ধরন অনুসারে Cloud Computing-কে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়: IaaS, PaaS এবং SaaS।
১. Infrastructure-as-a-Service (IaaS): ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের নেটওয়ার্ক, CPU, Storage ও অন্যান্য মৌলিক কম্পিউটিং রিসোর্স ভাড়া দেয়; যেমন: Amazon Elastic Compute Cloud (EC2)।
২. Platform-as-a-Service (PaaS): এখানে সরাসরি Virtual Machine ভাড়া না দিয়ে এমন একটি Platform ভাড়া দেওয়া হয়, যার উপর ব্যবহারকারীরা অ্যাপ্লিকেশন তৈরি ও ডেভেলপ করতে পারেন; যেমন: Google App Engine।
৩. Software-as-a-Service (SaaS): এখানে ক্লাউড ভিত্তিক প্রস্তুত চলমান সফটওয়্যার ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারেন; যেমন: Google Docs।
এখানে CaaS Cloud Computing সেবার প্রচলিত কোনো ধরন নয়।
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (একাদশ-দ্বাদশ), মাহবুবুর রহমান; ২০২১ সংস্করণ।
৬৯. Amazon-এর Cloud Platform কোনটি?
ক) Azure
খ) AWS
গ) Cloudera
ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর : খ) AWS
ব্যাখ্যা :
Amazon-এর Cloud Platform হলো AWS।
AWS এর পূর্ণরূপ Amazon Web Services।
ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ধারণাগত ইতিহাস শুরু হয় ১৯৬০-এর দশক থেকেই; তবে ২০০৬ সালে বিশ্ববিখ্যাত Amazon Web Services বাণিজ্যিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা প্রদান শুরু করে।
অন্যদিকে, Azure হলো Microsoft-এর ক্লাউড সেবা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম এবং Cloudera হলো মূলত ডাটা ম্যানেজমেন্ট ও অ্যানালিটিক্স ভিত্তিক সেবা প্রদানকারী কোম্পানি।
উৎস: aws.amazon.com এবং সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টেশন।
৭০. নিচের কোন সাইবার আক্রমণ সংঘটিত হলে গ্রাহক নিজ Computer System ব্যবহার করতে পারেন না এবং System-কে ব্যবহার উপযোগী করতে অর্থ দাবি করা হয়?
ক) Phishing
খ) Denial of Service
গ) Ransomware
ঘ) Man-in-the-Middle
সঠিক উত্তর : গ) Ransomware
ব্যাখ্যা :
Malware: এটি হলো কম্পিউটারের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই কোনো নেটওয়ার্কে আক্রমণ, তথ্য বা ডাটা চুরি অথবা সিস্টেমের ক্ষতি করা যায়।
Ransomware: এটি এমন এক ধরনের Malware যা কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে সিস্টেম বা ফাইলগুলোর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং ব্যবহারকারীকে সিস্টেমে প্রবেশ করতে দেয় না যতক্ষণ না নির্দিষ্ট অর্থ (ransom) পরিশোধ করা হয়।
Ransomware সাধারণত সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ সব ফাইল এনক্রিপ্ট করে ফেলে এবং একটি বার্তা দেখায়—যদি ফাইল মুক্ত করতে চান, তবে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সাধারণত একটি Encryption Key বা প্রোগ্রামিং কোড দিয়ে ফাইলগুলো এনক্রিপ্ট করা হয়, যার তথ্য কেবল আক্রমণকারীর নিকট থাকে। অর্থ না দিলে অনেক ক্ষেত্রে ফাইল স্থায়ীভাবে নষ্ট বা মুছে ফেলা হয়।
DoS (Denial of Service): এটি এমন এক ধরনের আক্রমণ, যেখানে কোনো সিস্টেম বা ওয়েবসাইটের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে ব্যবহারকারীদের জন্য অপ্রাপ্য করে দেয়।
Man-in-the-Middle: দুই কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগের পথে তৃতীয় পক্ষের অনুপ্রবেশকে এ ধরনের আক্রমণ বলা হয়, সাধারণত গোপন বা আর্থিক তথ্য চুরির উদ্দেশ্যে।
Phishing: ই-মেইল, মেসেজ বা নকল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর গোপনীয় তথ্য (যেমন পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্য) হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল।
উৎস: প্রথম আলো; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ (২০২১ সংস্করণ)।
৭১. SCSI-এর পূর্ণরূপ কী?
ক) Small Computer System Interface
খ) Small Computer Software Interface
গ) Small Computer Storage Interface
ঘ) Small Computer Standard Interface
সঠিক উত্তর : ক) Small Computer System Interface
ব্যাখ্যা :
SCSI-এর পূর্ণরূপ Small Computer System Interface।
SCSI মূলত “Scuzzy” হিসেবে উচ্চারিত হয়।
SCSI হার্ডডিস্ক ড্রাইভের ডাটা ট্রান্সফার রেট সর্বাধিক।
কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ড্রাইভকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়:
১. IDE বা PATA (IDE/PATA) হার্ডডিস্ক ড্রাইভ
২. SATA হার্ডডিস্ক ড্রাইভ
৩. SCSI হার্ডডিস্ক ড্রাইভ
৪. SAS হার্ডডিস্ক ড্রাইভ
IDE/PATA ড্রাইভগুলো সাধারণত 133 MB/sec ট্রান্সফার রেট প্রদান করে।
SATA ড্রাইভগুলো সাধারণত 300 MB/sec ট্রান্সফার রেট প্রদান করে।
SCSI ড্রাইভগুলো সাধারণত 640 MB/sec ট্রান্সফার রেট প্রদান করে।
উৎস: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি-২, ৯ম–১০ম শ্রেণি (ভোকেশনাল ২০২১ সংস্করণ)।
৭২. নিচের কোন ডিভাইসটি ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে?
ক) Scanner
খ) Mouse
গ) Touch Screen
ঘ) Projector
সঠিক উত্তর : গ) Touch Screen
ব্যাখ্যা :
ইনপুট ডিভাইস: যে সব ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটারে ডাটা বা তথ্য ইনপুট বা কমান্ড দেওয়া যায়, সেগুলোই ইনপুট ডিভাইস। যেমন: কীবোর্ড, মাউস, অপটিকাল রিডার, জয়স্টিক, মাইক্রোফোন, স্ক্যানার, গ্রাফিক্স প্যাড, লাইট পেন, ওয়েবক্যাম, OCR ইত্যাদি।
আউটপুট ডিভাইস: যে ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে কম্পিউটার থেকে ডাটা/তথ্য বা যেকোনো আউটপুট নেওয়া যায়, সেগুলো আউটপুট ডিভাইস। যেমন: মনিটর, প্রিন্টার, প্রজেক্টর, স্পিকার, প্লটার, হেডফোন ইত্যাদি।
ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস: কিছু ডিভাইস আছে যা ইনপুট ও আউটপুট – দুই ধরনের কাজই করে, যেমন: পেনড্রাইভ, টাচ স্ক্রিন, মোডেম।
টাচ স্ক্রিনে ব্যবহারকারী স্পর্শের মাধ্যমে ইনপুট দিতে পারে এবং একই স্ক্রিনে আউটপুট প্রদর্শিত হয়। তাই এটি ইনপুট ও আউটপুট উভয় ডিভাইস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নবম–দশম শ্রেণি ও কলেজ পর্যায়ের কম্পিউটার পাঠ্যপুস্তক।
৭৩. নিচের কোন Octal সংখ্যাটি Decimal সংখ্যা ৫৫ -এর সমতুল্য?
ক) ৫৫
খ) ৭৭
গ) ৬৭
ঘ) ৮৭
সঠিক উত্তর : গ) ৬৭
ব্যাখ্যা :
দশমিক পূর্ণ সংখ্যাকে অক্টাল সংখ্যায় রূপান্তর করার জন্য সংখ্যাটিকে ৮ দ্বারা (যেহেতু অক্টাল সংখ্যার ভিত্তি ৮. উপর্যুপরি ভাগ করতে হয় যতক্ষণ পর্যন্ত ভাগফল ০ (শূন্য) না হয়।
অতঃপর ভাগশেষগুলোকে সর্বশেষ ভাগশেষ থেকে প্রথম ভাগশেষের দিকে (অর্থাৎ LSD থেকে MSD) ধারাবাহিকভাবে সাজিয়ে সংখ্যাটির সমতুল্য অক্টাল মান নির্ণয় করা যায়।
উদাহরণ: Decimal 55 কে Octal-এ রূপান্তরঃ
Division by 8 Quotient (ভাগফল) Remainder (ভাগশেষ)
55 ÷ 8 = 6 … 7
6 ÷ 8 = 0 … 6
সুতরাং, (55)₁₀ = (67)₈
উৎস: ডিজিটাল লজিক ডিজাইন ও কম্পিউটার ভিত্তিক বইসমূহ।
৭৪. নিচের কোনটি system software নয়?
ক) Linux
খ) Android
গ) Mozilla Firefox
ঘ) Apple iOS
সঠিক উত্তর : গ) Mozilla Firefox
ব্যাখ্যা :
সিস্টেম সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেম হলো কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রক সফটওয়্যার।
এটি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামের মধ্যে যোগসূত্র রচনা ও রক্ষা করে।
সিস্টেম সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার চালু করা যায় না; কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ কাজগুলো পরিচালনা করে সিস্টেম সফটওয়্যার।
বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেমের উদাহরণ: DOS, Windows, UNIX, Linux, Mac OS, Apple iOS, Android ইত্যাদি।
অন্যদিকে Mozilla Firefox হলো একটি Web Browser, যা Application Software-এর অন্তর্গত। তাই এটি System Software নয়।
উৎস: বিবিএ প্রোগ্রামের ‘মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা’, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫. এক মেশিন থেকে অন্য মেশিনে ই-মেইল মেসেজ স্থানান্তর করতে কোন TCP/IP প্রোটোকল ব্যবহার হয়?
ক) FTP
খ) RPC
গ) SNMP
ঘ) SMTP
সঠিক উত্তর : ঘ) SMTP
ব্যাখ্যা :
যে সকল ই-মেইল বাহিরে পাঠানো হয় সেগুলোকে Outgoing Mail বা Outbox-এর মেইল বলা হয়।
Outgoing ই-মেইল পাঠানোর জন্য SMTP প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।
SMTP-এর পূর্ণরূপ হলো Simple Mail Transfer Protocol।
ব্যবহারকারী যে সকল ই-মেইল গ্রহণ করে সেগুলো Incoming Mail বা Inbox-এর মেইল হিসেবে পরিচিত।
সার্ভার থেকে Incoming ই-মেইল গ্রহণের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রোটোকল হলো POP3 (Post Office Protocol version 3)।
উৎস: কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট প্রযুক্তি বিষয়ক বই।
৭৬. যে কম্পিউটার প্রোগ্রাম নিজে নিজেই অন্য কম্পিউটারে ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কপি হয় তাকে কী বলে?
ক) Program Virus
খ) Worms
গ) Trojan Horse
ঘ) Boot Virus
সঠিক উত্তর : খ) Worms
ব্যাখ্যা :
Computer Worm: A self-replicating program that propagates itself through a network onto other computer systems without requiring a host program or any user intervention to replicate.
অর্থাৎ, কম্পিউটার ওয়ার্ম হলো এমন একটি প্রোগ্রাম, যা নিজেই নিজের কপি তৈরি করে নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যান্য কম্পিউটারকেও সংক্রমিত করে।
নিজের অনুলিপি তৈরি করতে এ ধরনের প্রোগ্রামের আলাদা কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয় না।
অন্যদিকে Program Virus এবং Boot Virus হলো Computer Virus-এর উদাহরণ এবং Trojan Horse এক ধরনের Malware।
উৎস: National Institute of Standards and Technology (NIST), US।
৭৭. নিচের কোন প্রতিষ্ঠানটি 4G Standard নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখে?
ক) ISO
খ) ITU
গ) 3GPP
ঘ) ETSI
সঠিক উত্তর : খ) ITU
ব্যাখ্যা :
ITU-এর পূর্ণরূপ International Telecommunication Union। এটি ১৮৬৫ সালের ১৭ মে প্রতিষ্ঠিত হয়।
শুরুর দিকে এর নাম ছিল International Telegraph Union; ১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এটি ITU নাম ধারণ করে।
ITU বিভিন্ন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক যেমন 4G/5G-এর মান (স্ট্যান্ডার্ড) ও স্পেসিফিকেশন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উৎস: ITU ওয়েবসাইট ও আনুষ্ঠানিক ডকুমেন্টেশন।
৭৮. নিচের কোনটি Open Source Software?
ক) Google Chrome
খ) Microsoft Windows
গ) Zoom
ঘ) Adobe Photoshop
সঠিক উত্তর : ক) Google Chrome
ব্যাখ্যা :
প্রকৃতপক্ষে এখানে কিছু টেকনিক্যাল ভুল থাকলেও পরীক্ষায় সাধারণভাবে যে উত্তর ধরা হয় তা হলো: ক) Google Chrome।
Microsoft Windows, Zoom, Adobe Photoshop – এগুলো যে Open Source নয়, তা নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই; ফলে সাধারণ ধারণায় উত্তর ক) Google Chrome হয়ে যায়।
তবে জানা উচিত, Google Chrome ব্রাউজার নিজে মোটেও পূর্ণাঙ্গ Open Source নয়। গুগলের পরিচিত The Chromium Projects-এর দুটি অংশ হলো Chromium এবং Chromium OS।
Chromium: Chromium is an open-source browser project that aims to build a safer, faster, and more stable way for all users to experience the web.
Chromium OS: Chromium OS is an open-source project that aims to provide a fast, simple, and more secure computing experience for people who spend most of their time on the web।
অর্থাৎ, Google Chromium একটি Open Source ব্রাউজার প্রকল্প।
অন্যদিকে Google Chrome ব্রাউজারটি একটি Freeware, তবে এটি Open Source নয়; এটি Google-এর Proprietary Software। সফটওয়্যারটি ফ্রি হলেও এর সোর্স কোড উন্মুক্ত নয় এবং ইচ্ছামতো পরিবর্তন করে বাণিজ্যিক বা অবাণিজ্যিক কাজে বিতরণের আইনি অনুমতি নেই; কপিরাইট Google LLC-এর।
যে সকল সফটওয়্যার-এর সোর্স কোড সবার জন্য উন্মুক্ত, যা বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যায় এবং যে কেউ এই কোড নিজের মতো করে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ইত্যাদি করে ব্যবহার ও পুনর্বিতরণ করতে পারে, সেগুলোকে Open Source Software বলে।
Chrome এবং Chromium এক নয়; ঠিক তেমনি Freeware এবং Open Source-ও এক নয়।
তবুও পরীক্ষায় প্রণেতার অভিপ্রায় অনুযায়ী ‘Google Chrome’–কেই Open Source Software হিসেবে সঠিক অপশন হিসেবে ধরা হয়েছে।
উৎস: Google Chrome-এর Terms of Service, Chromium Project সাইট এবং অন্যান্য রেফারেন্স।
৭৯. নিচের কোন প্রোটোকলটি ইন্টারনেট তথ্য আদান-প্রদানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে?
ক) FTP
খ) HTTPS
গ) TCP
ঘ) DNS
সঠিক উত্তর : খ) HTTPS
ব্যাখ্যা :
কোনো ওয়েবসাইটের ঠিকানায় ব্যবহৃত https-এর ‘S’ দ্বারা Secure (সুরক্ষিত) বোঝায়।
HTTPS-এর পূর্ণরূপ Hypertext Transfer Protocol Secure।
HTTPS প্রোটোকলটি ক্লায়েন্ট ও সার্ভারের মধ্যে তথ্য আদান–প্রদানের সময় এনক্রিপশন ব্যবহারের মাধ্যমে ডাটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
উৎস: ওয়েব ও ইন্টারনেট প্রযুক্তি বিষয়ক মানসম্পন্ন রেফারেন্স।
৮০. Piconet কী?
ক) Wifi Network
খ) Wide Area Network
গ) Bluetooth Network
ঘ) 5G Network
সঠিক উত্তর : গ) Bluetooth Network
ব্যাখ্যা :
Bluetooth একটি Personal Area Network (PAN), যা সাধারণত 2.45 GHz ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে এবং এর পরিসর প্রায় ৩ থেকে ১০ মিটার।
Bluetooth নেটওয়ার্ককে Piconet-ও বলা হয়।
একটি Piconet-এ সর্বোচ্চ ৮টি ডিভাইস থাকতে পারে; এর মধ্যে একটি Master Device এবং বাকি গুলো Slave Device হিসেবে কাজ করে।
একাধিক Piconet মিলিয়ে একটি Scatternet গঠিত হতে পারে।
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি পাঠ্যক্রম (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
মানসিক দক্ষতা
৮১। নির্ধারক চিত্রের স্থানে কোন চিত্রটি বসবে?
ক) ১
খ) ২
গ) ৩
ঘ) ৪
সঠিক উত্তর : খ) ২
ব্যাখ্যা :
১ম ত্রিভুজটি যেখানে ২য় চিহ্ন দাগাঙ্কিত, ৩য় আয়তক্ষেত্রটি হবে ৪র্থ চিহ্ন দাগাঙ্কিত। তাই নির্ধারক চিত্রের স্থানে ২ নম্বর চিত্রটি বসবে।
৮২। P এবং Q দুই ভাই। R এবং S দুই বোন। P-এর ছেলে হলো S-এর ভাই। তাহলে Q হলো R-এর —
ক) পুত্র
খ) ভাই
গ) পিতা
ঘ) চাচা
সঠিক উত্তর : ঘ) চাচা
ব্যাখ্যা :
এখানে, P এবং Q দুই ভাই; R এবং S দুই বোন।
P-এর ছেলে হলো S-এর ভাই, অর্থাৎ P-এর ছেলে এবং S একই পিতা-মাতার সন্তান।
তাই R হলো S-এর বোন এবং একই সঙ্গে P-এর মেয়ে।
অর্থাৎ, R হলো P-এর মেয়ে ⇒ Q হলো R-এর চাচা।
৮৩। স্ট্যাপলার-এর সাথে যেমন স্ট্যাপল, সূচের সাথে তেমন —
ক) চিত্র
খ) কাপড়
গ) সুতা
ঘ) সেলাই মেশিন
সঠিক উত্তর : গ) সুতা
ব্যাখ্যা :
স্ট্যাপলার দিয়ে কাগজ ‘স্ট্যাপল’ এর সাহায্যে আটকে/বাঁধা হয়। অনুরূপভাবে, সূচ দিয়ে সুতার সাহায্যে কাপড় সেলাই করা হয়।
অর্থাৎ, সূচ : সুতা :: স্ট্যাপলার : স্ট্যাপল। তাই সঠিক উত্তর ‘সুতা’।
৮৪। 165135 যদি ‘Peace’ হয়, তবে 1215225 দ্বারা কী বোঝায়?
ক) Lead
খ) Love
গ) Loop
ঘ) Castle
সঠিক উত্তর : খ) Love
ব্যাখ্যা :
এখানে ইংরেজি বর্ণগুলোর অবস্থানগত সংখ্যামান ব্যবহার করা হয়েছে।
P = ১৬, e = ৫, a = ১, c = ৩, e = ৫ ⇒ 165135 = Peace
একইভাবে,
L = ১২, o = ১৫, v = ২২, e = ৫ ⇒ 1215225 = Love
৮৫। নিচের চিত্রে মোট কতটি ত্রিভুজ আছে?
ক) ১০টি
খ) ১২টি
গ) ১৪টি
ঘ) ১৬টি
সঠিক উত্তর : ঘ) ১৬টি
ব্যাখ্যা :
১টি করে ফাঁকা ঘর নিয়ে ত্রিভুজ আছে: AGE, EGC, GFC, BGF, DGB এবং ADG ⇒ মোট ৬টি।
২টি করে ফাঁকা ঘর নিয়ে ত্রিভুজ আছে: AGC, BGC এবং ABG ⇒ মোট ৩টি।
৩টি করে ফাঁকা ঘর নিয়ে ত্রিভুজ আছে: AFC, BEC, BDC, ABF, ABE এবং DAC ⇒ মোট ৬টি।
সব মিলিয়ে বড় ত্রিভুজ ABC ⇒ ১টি।
মোট ত্রিভুজ = (৬ + ৩ + ৬ + ১.টি = ১৬টি।
৮৬। ভারসাম্য রক্ষা করতে নিচের চিত্রে বাম দিকে কত কেজি ওজন রাখতে হবে?
ক) ৪ কেজি
খ) ৬ কেজি
গ) ৮ কেজি
ঘ) ১০ কেজি
সঠিক উত্তর : খ) ৬ কেজি
ব্যাখ্যা :
ধরি,
বাম দিকের ভারের অবলম্বন থেকে দূরত্ব l₁ = ৪ মি, ওজন w₁ = ?
ডান দিকের ভারের অবলম্বন থেকে দূরত্ব l₂ = ৩ মি, ওজন w₂ = ৮ কেজি
ভারসাম্যের জন্য, l₁ × w₁ = l₂ × w₂
⇒ ৪ × w₁ = ৩ × ৮
⇒ ৪ × w₁ = ২৪
⇒ w₁ = ২৪ ÷ ৪ = ৬
অতএব, বাম দিকে ৬ কেজি ওজন রাখতে হবে।
৮৭। ২০১৮ সালের ১২ জানুয়ারি শুক্রবার হলে, একই বছরের ১৭ মার্চ কী বার ছিল?
ক) শনিবার
খ) সোমবার
গ) বৃহস্পতিবার
ঘ) শুক্রবার
সঠিক উত্তর : ক) শনিবার
ব্যাখ্যা :
২০১৮ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত দিন সংখ্যা = ৬৪ দিন।
আমরা জানি, কোনো নির্দিষ্ট বার থেকে প্রতি ৭ দিন পর (অর্থাৎ ৮ম দিনে) আবার একই বার হয়।
৬৪ দিন = (৯ × ৭. + ১ দিন ⇒ ৯টি পূর্ণ সপ্তাহ + ১ দিন।
শুক্রবার থেকে ৬৪তম দিন হবে শুক্রবারের পরের দিন অর্থাৎ শনিবার।
৮৮। ৫, ৭, ১০, ১৪, ………, ২৫ ধারার শূন্যস্থানের সংখ্যা কত?
ক) ১৭
খ) ১৮
গ) ১৯
ঘ) ২১
সঠিক উত্তর : গ) ১৯
ব্যাখ্যা :
ধারাটি: ৫, ৭, ১০, ১৪, ১৯, ২৫
১ম পদ = ৫
২য় পদ = ৫ + ২ = ৭
৩য় পদ = ৭ + ৩ = ১০
৪র্থ পদ = ১০ + ৪ = ১৪
৫ম পদ = ১৪ + ৫ = ১৯
৬ষ্ঠ পদ = ১৯ + ৬ = ২৫
প্রদত্ত উত্তরে শূন্যস্থানের সংখ্যা ১৯ উল্লেখ করা হয়েছে।
৮৯। “MEMORY” শব্দটির আয়নার প্রতিচ্ছবি কোনটি?
ক) ক
খ) খ
গ) গ
ঘ) ঘ
সঠিক উত্তর : খ) খ
ব্যাখ্যা :
“MEMORY” শব্দটি আয়নায় দেখালে যে প্রতিচ্ছবি তৈরি হয়, তা অপশন ‘খ’-তে দেওয়া আছে।
৯০। প্রশ্ন-চিহ্নিত স্থানে কোন সংখ্যা বসবে?
ক) ৬৪
খ) ৬৬
গ) ৬৮
ঘ) ৭২
সঠিক উত্তর : গ) ৬৮
ব্যাখ্যা :
এখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রথম দুই সংখ্যার গুণফলের সাথে তৃতীয় সংখ্যা যোগ করা হয়েছে।
৫ × ৯ + ৩ = ৪৮
৭ × ৮ + ৪ = ৬০
৯ × ৭ + ৫ = ৬৮
অতএব, শূন্যস্থানে ৬৮ বসবে।
৯১। কোনো কিছুর কারণ জানতে আমরা ইংরেজিতে যে প্রশ্ন করি, তা সাধারণত কোন শব্দ দিয়ে শুরু হয়?
ক) how
খ) what
গ) why
ঘ) who
সঠিক উত্তর : গ) why
ব্যাখ্যা :
• কোনো কিছুর কারণ জানতে “why” ব্যবহৃত হয়।
• কোনো কিছুর কী বা কোন বস্তু জানতে “what” ব্যবহৃত হয়।
• কোনো কিছুর কীভাবে ঘটে তা জানতে “how” ব্যবহৃত হয়।
• কর্তা সম্বন্ধে জানতে “who” ব্যবহৃত হয়।
৯২। নিচের কোন গ্রুপের শব্দগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো রয়েছে?
ক) নিচার্ৎ, নিদর্শন, নিরাশ্রয়, নিরাময়, নিনিয়ম, নিসর্গ
খ) নিদর্শন, নিচার্ৎ, নিরাময়, নিরাশ্রয়, নিনিয়ম, নিসর্গ
গ) নিনিয়ম, নিসর্গ, নিচার্ৎ, নিদর্শন, নিরাশ্রয়, নিরাময়
ঘ) নিদর্শন, নিরাশ্রয়, নিনিয়ম, নিসর্গ, নিচার্ৎ, নিরাময়
সঠিক উত্তর : খ) নিদর্শন, নিচার্ৎ, নিরাময়, নিরাশ্রয়, নিনিয়ম, নিসর্গ
ব্যাখ্যা :
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজালে পাই:
নিদর্শন → নিচার্ৎ → নিরাময় → নিরাশ্রয় → নিনিয়ম → নিসর্গ
অতএব, সঠিক উত্তর বিকল্প ‘খ’।
৯৩। যদি PLAY-এর কোড ৮১২৩ এবং RHYME-এর কোড ৪৯৩৬৭ হয়, তবে MALE-এর কোড হবে —
ক) ৬৩২৩
খ) ৬১৯৮
গ) ৬২১৭
ঘ) ৬২৮৫
সঠিক উত্তর : গ) ৬২১৭
ব্যাখ্যা :
PLAY = ৮১২৩ ⇒ P = ৮, L = ১, A = ২, Y = ৩
RHYME = ৪৯৩৬৭ ⇒ R = ৪, H = ৯, Y = ৩, M = ৬, E = ৭
এখন, MALE = M A L E ⇒ ৬ ২ ১ ৭ ⇒ ৬২১৭
৯৪। এই সিরিজটিতে পরের সংখ্যা কত হবে? ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১, …
ক) ২৪
খ) ২৬
গ) ২৯
ঘ) ৩৪
সঠিক উত্তর : ঘ) ৩৪
ব্যাখ্যা :
এটি একটি ফিবোনাচ্চি ধারা, যেখানে প্রতিটি পদ = আগের দুই পদের যোগফল।
৩, ৫ ⇒ পরের পদ = ৩ + ৫ = ৮
৫, ৮ ⇒ পরের পদ = ৫ + ৮ = ১৩
৮, ১৩ ⇒ পরের পদ = ৮ + ১৩ = ২১
১৩, ২১ ⇒ পরের পদ = ১৩ + ২১ = ৩৪
অতএব, পরের সংখ্যা = ৩৪
৯৫। একটি দেয়ালঘড়িতে যখন ৩টা বাজে তখন ঘণ্টার কাঁটা যদি পূর্বদিকে থাকে তবে মিনিটের কাঁটা কোন দিকে থাকবে?
ক) উত্তর
খ) পশ্চিম
গ) দক্ষিণ
ঘ) পূর্ব
সঠিক উত্তর : ক) উত্তর
ব্যাখ্যা :
দেয়ালঘড়িতে যখন ৩টা বাজে তখন সাধারণভাবে ঘণ্টার কাঁটা ৩-এর দিকে এবং মিনিটের কাঁটা ১২-এর দিকে থাকে।
ধরা হয়েছে, ৩-এর দিককে পূর্ব ধরা হলো ⇒ ১২-এর দিক হবে উত্তর।
অতএব, ঘণ্টার কাঁটা পূর্বদিকে থাকলে মিনিটের কাঁটা উত্তরদিকে থাকবে।
বাংলাদেশ বিষয়াবলী
৯৬. UNESCO কত তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
ক) ১৮ নভেম্বর ১৯৯৯
খ) ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
গ) ১৯ নভেম্বর ২০০১
ঘ) ২০ নভেম্বর ২০০১
সঠিক উত্তর : খ) ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
ব্যাখ্যা :
প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন হয়।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশ এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু করে।
২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক ভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।
উৎস: UNESCO ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৯৭. বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষক কে?
ক) জাতীয় সংসদ
খ) শাসন বিভাগ
গ) সুপ্রিম কোর্ট
ঘ) আইন মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর : গ) সুপ্রিম কোর্ট
ব্যাখ্যা :
বাংলাদেশের সংবিধান বাংলাদেশের মৌলিক ও সর্বোচ্চ আইন।
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট তা নির্ধারণ করার অধিকারী, নির্বাহী বিভাগ নয়। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট হলো সংবিধানের ব্যাখ্যাকারক বা অভিভাবক।
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সংবিধান প্রয়োজন হয়।
সংবিধান প্রণয়নের জন্য ১৯৭২ সালে ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়।
এই খসড়া কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল।
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৯৮. বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম কী?
ক) পুণ্ড্র
খ) তাম্রলিপ্তি
গ) গৌড়
ঘ) হরিকেল
সঠিক উত্তর : ক) পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা :
প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
পুণ্ড্র জন বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুণ্ড্ররা বহুসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর।
এটি বাংলার প্রাচীনতম জনপদ।
বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুণ্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মাহাস্থানগড়।
সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩–২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনতা হারায়।
এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল পর্যন্ত ছিল।
এছাড়াও প্রাচীন বাংলার অন্য জনপদসমূহ হলো: বঙ্গ, বরেন্দ্র, সমতট, হরিকেল, রাঢ়, চন্দ্রদ্বীপ, তাম্রলিপ্তি, গঙ্গারিডাই, গৌড় ইত্যাদি।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম–দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৯. বাংলাদেশের বৃহৎ ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
ক) সমতট
খ) পুণ্ড্র
গ) বঙ্গ
ঘ) হরিকেল
সঠিক উত্তর : গ) বঙ্গ
ব্যাখ্যা :
প্রাচীন বাংলা কিছু অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিল।
এর মধ্যে ‘বঙ্গ’ জনপদ ছিল অন্যতম।
বৃহত্তর ফরিদপুর, ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহের পূর্বাঞ্চল, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিম্ন জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ’ জনপদ গঠিত ছিল।
এই অঞ্চলে বসবাসকারী ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী থেকে ‘বঙ্গ’ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
লিখিতভাবে তিন হাজার বছর আগে ‘বঙ্গ’ নামে দেশের উল্লেখ পাওয়া যায়।
সর্বপ্রথম বঙ্গ দেশের নাম পাওয়া যায় ‘ঋষিদের ঐতেরেয় আরণ্যক’-এ।
হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত ছিল।
রাঢ় জনপদের অবস্থান ছিল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে।
রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চল ছিল বরেন্দ্র।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম–দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১০০. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কতজন মুক্তিযোদ্ধাকে ‘বীর বিক্রম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
ক) ৭ জন
খ) ৬৮ জন
গ) ১৭৫ জন
ঘ) ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর : গ) ১৭৫ জন
ব্যাখ্যা :
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরোচিত অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বিভিন্ন খেতাব প্রদান করা হয়।
এই খেতাবগুলো হলো: বীরশ্রেষ্ঠ – ৭ জন, বীর উত্তম – ৬৮ জন, বীর বিক্রম – ১৭৫ জন, বীর প্রতীক – ৪২৬ জন।
তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
তারা হলেন: লে. কর্নেল শরীফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী], লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক) ও নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)।
ফলে বর্তমানে (২০২১. মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা মোট ৬৭২ জন: বীরশ্রেষ্ঠ – ৭ জন, বীর উত্তম – ৬৭ জন, বীর বিক্রম – ১৭৪ জন, বীর প্রতীক – ৪২৪ জন।
উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
১০১. মুজিবনগর সরকারের গৃহ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন?
ক) তাজউদ্দীন আহমদ
খ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ঘ) এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর : খ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা :
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের গঠন ছিল নিম্নরূপঃ
– রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
– উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
– প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ
– গৃহ-কল্যাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
– অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
– পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খোন্দকার মোশতাক আহমদ।
উৎস:বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম–দশম শ্রেণি।
১০২. কোন শাসকদের আমলে বাংলাভাষী অঞ্চল ‘বাংলা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে?
ক) মৌর্য
খ) গুপ্ত
গ) পাল
ঘ) মুসলিম
সঠিক উত্তর : ঘ) মুসলিম
ব্যাখ্যা :
বাংলায় সুলতানী আমলের সূচনা ১৩৩৮ সালে, যা ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
সুলতানী আমলে বাংলায় মুসলিম শাসন বিকাশ লাভ করে।
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ছিলেন ‘ইলিয়াস শাহী’ বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
তার রাজত্বকাল ছিল ১৩৪২ সাল থেকে ১৩৫৮ সাল পর্যন্ত। এ সময় তিনি সমগ্র বাংলা একীভূত করে ‘বাংলাহ’ নাম দেন এবং এর অধিবাসীদের ‘বাংলালি’ নাম দেন।
লখনৌতি, সাতগাঁও এবং সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভ করেন।
এই কৃতিত্বের কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে ‘শাহ-ই-বাংলাহ’ এবং ‘সুলতান-ই-বাংলাহ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে বাংলার প্রথম প্রকৃত স্বাধীন সুলতান হিসেবে অভিহিত করা হয়।
উৎস:বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম–দশম শ্রেণি।
১০৩. বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
ক) শায়েস্তা খান
খ) মুর্শিদ কুলি খান
গ) সিরাজউদ্দৌলা
ঘ) আলীবর্দী খান
সঠিক উত্তর : খ) মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা :
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান ১৭০৭ সালে নবাবী শাসনের সূচনা করেন।
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার ইংরেজদের হাতে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে নবাবী আমলের অবসান ঘটে।
এরপর থেকে শুরু হয় ইংরেজ উপনিবেশিক যুগ।
উল্লেখ্য, বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ; তবে সুলতানী আমল শুরু করেন ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
উৎস:একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১০৪. চীনদেশের কোন ভ্রমণকারী গুপ্তযুগে বাংলায় আগমন করেন?
ক) হিউয়েন সাঙ
খ) ফা হিয়েন
গ) ইৎসিং
ঘ) এদের সকলেই
সঠিক উত্তর : খ) ফা হিয়েন
ব্যাখ্যা :
ফা-হিয়েন বাংলায় ভ্রমণকারী প্রথম চীনা পর্যটক।
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (৩৮০–৪১৩ খ্রিঃ) এর সময় তিনি বাংলায় আসেন। অর্থাৎ গুপ্তযুগে বাংলায় আগমনকারী চীনা পর্যটক হলেন ফা-হিয়েন।
৩৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ফা-হিয়েন ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন। গবি, খোটান, পামির মালভূমি ও গাঙ্গার দেশ অতিক্রম করে তিনি ৪০১ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে প্রবেশ করেন।
তিনি টানা ১০ বছর ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেন।
ফা-হিয়েনের ভ্রমণবৃত্তান্ত ‘ফা-কুও-কি’ নামে পরিচিত; এটি ভারতের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ্য দলিল।
উৎস:ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি পাঠ্যক্রম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০৫. কোন নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি মামলা করতে পারেন?
ক) ৪৪
খ) ৪৭
গ) ১০২
ঘ) ১০৩
সঠিক উত্তর : গ) ১০২
ব্যাখ্যা :
সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অনুচ্ছেদগুলোতে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৪৪: মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ –
১. এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১. দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হলো।
২. এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের মাধ্যমে অন্য কোনো আদালতকে তার এখতিয়ারের সীমার মধ্যে ঐ সকল বা তার যে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবে।
অনুচ্ছেদ ১০২ : কিতপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা – এর অধীনে বলা হয়েছে, সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি এই অনুচ্ছেদের অধীন সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা রুজু বা রিট করতে পারবেন।
অনুচ্ছেদ ৪৭ : কিতপয় আইনের সুরক্ষা।
অনুচ্ছেদ ১০৩ : আপিল বিভাগের এখতিয়ার।
উৎস:বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান সম্পাদিত সংস্করণ এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১০৬. বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি –
ক) এককেন্দ্রিক
খ) যুক্তরাষ্ট্রীয়
গ) রাজতান্ত্রিক
ঘ) রাষ্ট্রপতিশাসিত
সঠিক উত্তর : ক) এককেন্দ্রিক
ব্যাখ্যা :
বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক সরকার কাঠামোভিত্তিক রাষ্ট্র হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সকল প্রশাসনিক ক্ষমতা ন্যস্ত।
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থার ধরন : সংসদীয় গণতন্ত্র।
রাজধানী ঢাকা থেকে সারাদেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে সারা দেশকে বিভিন্ন প্রশাসনিক এককে ভাগ করা হয়েছে।
তবে সকল প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হলো কেন্দ্রীয় সচিবালয়।
কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের সকল প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতির নামে রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান হিসেবে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
উৎস:পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি পাঠ্যক্রম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৭. BSTI-এর পূর্ণরূপ কী?
ক) Bangladesh Salt Testing Institute
খ) Bangladesh Strategic Training Institute
গ) Bangladesh Standards and Testing Institution
ঘ) Bangladesh Society for Telecommunication and Information
সঠিক উত্তর : গ) Bangladesh Standards and Testing Institution
ব্যাখ্যা :
BSTI এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Standards and Testing Institution।
BSTI বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। এটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
BSTI বিভিন্ন পণ্যের অনুমোদন, মান ও পরিমাপ পরীক্ষা ইত্যাদি কাজ করে থাকে।
উৎস:BSTI ওয়েবসাইট।
১০৮. বঙ্গভঙ্গের কারণে কোন নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়েছিল?
ক) পূর্ববঙ্গ ও বিহার
খ) পূর্ববঙ্গ ও আসাম
গ) পূর্ববঙ্গ ও উড়িষ্যা
ঘ) পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ
সঠিক উত্তর : খ) পূর্ববঙ্গ ও আসাম
ব্যাখ্যা :
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময় বাংলাকে প্রশাসনিকভাবে ভেঙে দুটি প্রদেশ করা হয়, যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী করা হয় ঢাকায়।
পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ, যার রাজধানী ছিল কলকাতা।
কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বর মাসে দিল্লিতে রাজা পঞ্চম জর্জের ভারত আগমনের প্রেক্ষিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেওয়া হয়।
উৎস:পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি; অধ্যাপক মোঃ মজাহারুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৯. ‘তামাদুন মজলিশ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
ক) হাজী শরীয়তুল্লাহ
খ) শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক
গ) আবুল কাসেম
ঘ) মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর : গ) আবুল কাসেম
ব্যাখ্যা :
তামাদুন মজলিশ ইসলামী আদর্শভিত্তিক একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয়ে ভারত বিভাজনের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে ওঠে এই সংগঠনটি।
১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তামাদুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংগঠনটির ভূমিকা ছিল প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনিই এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তামাদুন মজলিশের মুখপত্র ছিল সাপ্তাহিক ‘সৈনিক’ পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫.।
শুরুতে ‘সৈনিক’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন শহীদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।
১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর “পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?” শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তামাদুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
উৎস:স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খণ্ড) ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম–দশম শ্রেণি।
১১0) ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি কে রচনা করেন?
ক) মুনীর চৌধুরী
খ) জহির রায়হান
গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর : গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা :
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।”
এই কবিতাটি রচনা করেছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুল গাফফার চৌধুরী।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের প্রেক্ষাপটে রচিত হয় এ কবিতাটি।
এটি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ও মোহাম্মদ সুলতান কর্তৃক প্রকাশিত “একুশে ফেব্রুয়ারি” সংকলনে ‘একুশের গান’ হিসেবে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে প্রথম ছাপা হয়।
এতে প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ এবং বর্তমানে যে সুরে গাওয়া হয়, তা করেছেন আলতাফ মাহমুদ।
উৎস:জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
১১১. কোন দেশ বাংলা ভাষাকে তাদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
ক) লাইবেরিয়া
খ) নামিবিয়া
গ) হাইতি
ঘ) সিয়েরা লিয়ন
সঠিক উত্তর : ঘ) সিয়েরা লিয়ন
ব্যাখ্যা :
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিয়ন বাংলা ভাষাকে তাদের সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে।
দেশটিতে নিয়োজিত জাতিসংঘের বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সিয়েরা লিয়নের প্রেসিডেন্ট আহমাদ তেজান কাব্বাহ ২০০২ সালে বাংলা ভাষাকে তার দেশের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন।
সিয়েরা লিয়ন পশ্চিম আফ্রিকার একটি দেশ।
সিয়েরা লিয়নের সাংবিধানিক নাম – Republic of Sierra Leone (সিয়েরা লিয়ন প্রজাতন্ত্র)।
রাজধানী – ফ্রিটাউন।
দেশটিতে প্রায় ১৬টি জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে, যাদের প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা ভাষা ও রীতিনীতি।
ইংরেজি ভাষা সিয়েরা লিয়নের সরকারি ভাষা। তাছাড়া এখানে আরও প্রায় ২০টি ভাষা প্রচলিত।
উৎস:BBC বাংলা আর্কাইভ ও ব্রিটানিকা।
১১২. বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা –
ক) ২০
খ) ৪৮
গ) ২৫
ঘ) ৩২
সঠিক উত্তর : খ) ৪৮
ব্যাখ্যা :
বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির সংখ্যা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য প্রচলিত।
অনেক সূত্রে উপজাতির সংখ্যা ৫০ বলা হলেও, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ এর ধারা ১৯-এর ক্ষমতাবলে সরকার ১৯ মার্চ ২০১৯ তারিখে ওই আইনের তফসিলে ২৭টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নামে ৫০টি গেজেট আকারে প্রকাশ করে।
আদিবাসী ফোরামের মতে সংখ্যা ৪৫ এবং আদমশুমারি ২০১১ অনুসারে ২৭টি।
উপরের তথ্য এবং প্রশ্নের অপশনগুলো বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ৪৮-কে সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
উৎস:সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশিত গেজেট, ২০১৯।
১১৩. নিম্নের কোন পত্রিকাটির প্রকাশনা উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন?
ক) সবুজপত্র
খ) শনিবারের চিঠি
গ) কথাকাহিনী
ঘ) ধূমকেতু
সঠিক উত্তর : ঘ) ধূমকেতু
ব্যাখ্যা :
‘ধূমকেতু’ কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত আধা-সাহিত্যিক পত্রিকা।
‘বিদ্রোহীদের মুখপত্র’ এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ ভাদ্র (১১ আগস্ট ১৯২২. আত্মপ্রকাশ করে।
এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নজরুলের ‘ধূমকেতু’ পত্রিকাকে আশীর্বাদ করে দু’লাইনের একটি অভিনন্দন বাণী পাঠিয়েছিলেন –
“আয় রে চেয়ে আয় রে ধূমকেতু / আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু / দুর্দিনের এই দুর্দশার / পশ্চাতে রচে বিজয় কেতন।”
উৎস:বাংলাপিডিয়া এবং ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা’, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৪. বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে কয়টি তারকা আছে?
ক) ২টি
খ) ৩টি
গ) ৪টি
ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর : গ) ৪টি
ব্যাখ্যা :
বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(৩. নং অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বলা হয়েছে।
তাতে বলা হয় – বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পারে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরিচিত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বাংলাদেশের প্রকৃতি ও অর্থনীতি।
এই তিন উপাদানের উপর ভাসমান জলজ সৌন্দর্যশোভিত শাপলা হলো অগ্রগতি, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
তারকাগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে জাতির লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা।
উৎস:বাংলাদেশ সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।
১১৫. বাঙালির মুক্তির সনদ ‘ছয় দফা’ কোন তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল?
ক) ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪
খ) ২২ মার্চ ১৯৫৮
গ) ২০ এপ্রিল ১৯৬২
ঘ) ২৩ মার্চ ১৯৬৬
সঠিক উত্তর : ঘ) ২৩ মার্চ ১৯৬৬
ব্যাখ্যা :
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে এক সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যা ইতিহাসে ‘ছয় দফা’ কর্মসূচি নামে পরিচিত।
পরবর্তীতে ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেন।
ছয় দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে পরিচিত। ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’-এর ভিত্তিতে রচিত।
দফাগুলো হলো –
– প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
– দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
– তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্পর্কিত ক্ষমতা।
– চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সংক্রান্ত ক্ষমতা।
– পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
– ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।
উৎস:পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি; অধ্যাপক মোঃ মজাহারুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৬. ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ – জাতির পিতা কবে এই ঘোষণা দেন?
ক) ২৬ মার্চ ১৯৭১
খ) ৭ মার্চ ১৯৭১
গ) ৩ মার্চ ১৯৭১
ঘ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
সঠিক উত্তর : খ) ৭ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা :
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তিনি ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা করেন – “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
এই ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান চারটি দাবি উপস্থাপন করেনঃ
১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার।
২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
৩. গণহত্যার তদন্ত।
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।
উৎস:বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম–দশম শ্রেণি।
১১৭. বাংলাদেশে জুম চাষ কোথায় হয়?
ক) বান্দরবান
খ) ময়মনসিংহ
গ) রাজশাহী
ঘ) দিনাজপুর
সঠিক উত্তর : ক) বান্দরবান
ব্যাখ্যা :
জুম হলো বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকার এক ধরনের চাষাবাদ পদ্ধতি।
পাহাড়ের ঢালু এলাকায় জঙ্গল কেটে বা পুড়িয়ে পাহাড়িরা সাধারণত চাষাবাদ করে থাকে।
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মধ্যে জুম চাষ পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে।
উৎস:ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সহায়িকা গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৮. বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে?
ক) চট্টগ্রাম
খ) সিলেট
গ) পঞ্চগড়
ঘ) মৌলভীবাজার
সঠিক উত্তর : ঘ) মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা :
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম চা বাগান গড়ে ওঠে সিলেটের মালনীছড়ায় ১৮৫৪ সালে।
বর্তমানে বাংলাদেশ চা বোর্ডের অধীনে মোট ১৬৭টি চা বাগান ও টি এস্টেট রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়; সেখানে মোট ৯১টি চা বাগান আছে।
অন্য জেলাগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জে ২৫টি, চট্টগ্রামে ২১টি, সিলেটে ১৯টি, পঞ্চগড়ে ৮টি, রাঙামাটিতে ২টি এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় ১টি চা বাগান রয়েছে।
উৎস:বাংলাদেশ চা বোর্ড।
১১৯. ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত?
ক) অনুচ্ছেদ ৩৮
খ) অনুচ্ছেদ ৫০
গ) অনুচ্ছেদ ৪১
ঘ) অনুচ্ছেদ ১০০
সঠিক উত্তর : গ) অনুচ্ছেদ ৪১
ব্যাখ্যা :
অনুচ্ছেদ ৪১: ধর্মীয় স্বাধীনতা –
(১. আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে –
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে।
(খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজ নিজ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রয়েছে।
(২. কোনো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোনো ব্যক্তির নিজ ধর্ম-বহির্ভূত ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণে বাধ্য করা যাবে না।
জরুরি অবস্থার সময়ও এই বিধান রহিত করা যায় না।
অনুচ্ছেদ ৩৮ – সংগঠনের স্বাধীনতা, অনুচ্ছেদ ৫০ – রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ, অনুচ্ছেদ ১০০ – সুপ্রিম কোর্টের আসন।
উৎস:বাংলাদেশের সংবিধান।
১২০. বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি (জনগণনা) কবে অনুষ্ঠিত হয়?
ক) ১৯৭২ সালে
খ) ১৯৭৩ সালে
গ) ১৯৭৪ সালে
ঘ) ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর : গ) ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা :
অবিভক্ত বাংলায় প্রথম আনুষ্ঠানিক আদমশুমারি হয় ১৮৭২ সালে লর্ড মেয়োর সময়।
পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে; এই আদমশুমারি অনুযায়ী তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭.৬৪ কোটি।
দ্বিতীয় আদমশুমারি : ১৯৮১ সাল।
তৃতীয় আদমশুমারি : ১৯৯১ সাল।
চতুর্থ আদমশুমারি : ২০০১ সাল।
পঞ্চম আদমশুমারি : ২০১১ সাল।
পরবর্তীতে ষষ্ঠ আদমশুমারি ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’ শিরোনামে ১৫–২১ জুন ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশে প্রতি ১০ বছর পরপর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আদমশুমারি পরিচালনা করে।
উৎস:বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
১২১. বাংলাদেশের জিডিপি (GDP)-তে কোন খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি?
ক) কৃষি
খ) শিল্প
গ) বাণিজ্য
ঘ) সেবা
সঠিক উত্তর : ঘ) সেবা
ব্যাখ্যা :
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১ অনুযায়ী –
– জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৩.৪৭ শতাংশ এবং কৃষি খাতে নিয়োজিত জনসংখ্যা ৪০.৬ শতাংশ।
– জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৩৪.৯৯ শতাংশ এবং শিল্প খাতে নিয়োজিত জনসংখ্যা ২০.৪ শতাংশ।
– জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান ৫১.৫৩ শতাংশ এবং সেবা খাতে নিয়োজিত জনসংখ্যা ৩৯.০ শতাংশ।
অতএব, জিডিপিতে সর্বাধিক অবদান রাখে সেবা খাত।
উৎস:অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১।
১২২. ২০২০–২০২১ অর্থবছরের জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির হার কত?
ক) ৫.৬৮%
খ) ৯.৯৪%
গ) ৭.৬৬%
ঘ) ৬.৯৪%
সঠিক উত্তর : ঘ) ৬.৯৪%
ব্যাখ্যা :
২০২০–২০২১ অর্থবছরের জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির হার ৬.৯৪%।
২০২০–২০২১ অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে এই হার ছিল ৫.৪৩ শতাংশ।
বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০–২১ অর্থবছরের জিডিপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১৬ বিলিয়ন ডলার এবং মাথাপিছু আয় ২,৫৯১ ডলার।
প্রাথমিক হিসাবে ২০২১–২২ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.২৫% এবং মাথাপিছু আয় ২,৮২৪ মার্কিন ডলার।
উৎস:বিবিএস (BBS) পকেট বুক।
১২৩. বিশ্বব্যাংক কবে বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে?
ক) ১ জুন ২০১৪
খ) ১ জুন ২০১৫
গ) ১ জুলাই ২০১৫
ঘ) ১ জুলাই ২০১৬
সঠিক উত্তর : গ) ১ জুলাই ২০১৫
ব্যাখ্যা :
বিশ্বব্যাংকের মতে মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ।
বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১,০৪৫ মার্কিন ডলারের বেশি হওয়ায় ২০১৫ সালের ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা করে।
পরবর্তীকালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
উৎস:বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট।
১২৪. বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট–২ কী ধরনের স্যাটেলাইট হবে?
ক) কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট
খ) ওয়েদার স্যাটেলাইট
গ) আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট
ঘ) ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট
সঠিক উত্তর : গ) আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট
ব্যাখ্যা :
রাশিয়া সরকারের সহযোগিতায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের দ্বিতীয় কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট–২’ নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
আর্থ অবজারভেশন ক্যাটাগরির এই স্যাটেলাইটটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হবে।
এতে অপটিক্যাল ইমেজিং ও Synthetic Aperture Radar (SAR) ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থলভূমি ও সমুদ্র এলাকার ছবি তোলা যাবে।
‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট–২’ তৈরি ও উৎক্ষেপণ করবে Glavkosmos, Russia; এটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা Roscosmos-এর একটি সহপ্রতিষ্ঠান।
এই সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সই করেছে Bangladesh Satellite Company Limited (BSCL); ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
উৎস:বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সরকারি বিবৃতি, ২০২২।
১২৫. বাংলাদেশের Perspective Plan-এর (দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা) সময়সীমা কত?
ক) ২০২১–২০৩০
খ) ২০২৪–২০৩২
গ) ২০২১–২০৪১
ঘ) ২০২২–২০৫০
সঠিক উত্তর : গ) ২০২১–২০৪১
ব্যাখ্যা :
পরিকল্পনা কমিশন প্রণীত দেশের দ্বিতীয় Perspective Plan একটি ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা।
এর মেয়াদকাল ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত।
২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
এই সময়ে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৯.৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০৪১ সাল নাগাদ চরম দারিদ্র্যের হার ০.৬৮ শতাংশ এবং উচ্চ দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
উৎস:পরিকল্পনা কমিশন, বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
১২৬. কোন দেশ থেকে ‘আরব বসন্ত’-এর সূচনা হয়?
ক) মিশর
খ) তিউনিসিয়া
গ) লিবিয়া
ঘ) সিরিয়া
সঠিক উত্তর : খ) তিউনিসিয়া
ব্যাখ্যা :
– ‘আরব বসন্ত’ হলো আরব মুসলিম দেশগুলোতে সংঘটিত ধারাবাহিক গণঅভ্যুত্থান।
– ২০১০ সালের ডিসেম্বরে মোহাম্মদ বুয়াজিজি নামের এক ফল ব্যবসায়ী নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তিউনিসিয়ায় প্রথম গণবিক্ষোভ তথা আরব বসন্তের সূচনা ঘটে।
– এর ফলে ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি তিউনিসিয়ার স্বৈরশাসক জাইন আল আবিদিন বেন আলী-এর পতন ঘটে।
– পরবর্তীতে এই গণবিক্ষোভ মিশর, ইয়েমেন, লিবিয়া, সিরিয়া, বাহরাইন ও মরক্কোয় ছড়িয়ে পড়ে।
– লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনে গণআন্দোলন গৃহযুদ্ধে রূপ নেয় এবং এসব দেশে এখনো সংঘাত চলছে।
উৎস : ইতিহাস বিষয়ক প্রবন্ধ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
১২৭. কোন সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে?
ক) ২০১০
খ) ২০১২
গ) ২০১৪
ঘ) ২০১৬
সঠিক উত্তর : গ) ২০১৪
ব্যাখ্যা :
– ২০১৪ সালের ১৬ মার্চ ইউক্রেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ক্রিমিয়ায় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
– ওই গণভোটে ক্রিমিয়ার জনগণ রাশিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়ার পক্ষে রায় দেয়।
– ১৭ মার্চ ২০১৪ ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করে।
– ১৮ মার্চ ২০১৪ রাশিয়া ক্রিমিয়া অধিগ্রহণ করে নেয় এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ ফেডারেশনের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে।
উৎস : history.com, BBC World, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
১২৮. কোন দেশটি ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়?
ক) গায়ানা
খ) বলিভিয়া
গ) ব্রাজিল
ঘ) কলম্বিয়া
সঠিক উত্তর : খ) বলিভিয়া
ব্যাখ্যা :
– ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত একটি দেশ।
– ভেনেজুয়েলার উত্তরে ক্যারিবিয়ান সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর, পূর্বে গায়ানা, দক্ষিণে ব্রাজিল এবং দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিমে কলম্বিয়া অবস্থিত।
– অর্থাৎ গায়ানা, ব্রাজিল ও কলম্বিয়া—এই তিনটি দেশ ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী।
– বলিভিয়া দক্ষিণ-মধ্য আমেরিকায় অবস্থিত একটি স্থলবেষ্টিত দেশ; এর সীমানা রয়েছে ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা, চিলি ও পেরুর সঙ্গে—কিন্তু ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নয়।
উৎস : Encyclopaedia Britannica, World Atlas।
১২৯. ‘নেকড়েযাওয়া কূটনীতি’ (Wolf Warrior Diplomacy) কোন দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত?
ক) ভিয়েতনাম
খ) উত্তর কোরিয়া
গ) চীন
ঘ) রাশিয়া
সঠিক উত্তর : গ) চীন
ব্যাখ্যা :
– ‘নেকড়েযাওয়া কূটনীতি’ শব্দটি মূলত চীনা অ্যাকশন ফিল্ম Wolf Warrior 2 থেকে অনুপ্রাণিত।
– এটি চীনের এক ধরনের আগ্রাসী, মুখোমুখি অবস্থান নেওয়া কূটনৈতিক ধরনকে বোঝায়, যেখানে চীনা কূটনীতিকরা তীক্ষ্ণ ভাষায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং সমালোচনার কড়া জবাব দেন।
– বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের সঙ্গে মতপার্থক্য, নিষেধাজ্ঞা বা চাপ মোকাবিলায় এই ধরনের কূটনৈতিক ভাষা ও আচরণ বেশি দেখা যায়।
– শি জিনপিংয়ের আমলে চীনের জাতীয়তাবাদী অবস্থান ও আত্মপ্রকাশ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ‘নেকড়েযাওয়া কূটনীতি’ বেশি আলোচিত হয়।
উৎস : The Diplomat, BBC, Deutsche Welle এবং দেশীয় পত্রিকার বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন।
১৩০. নিচের কোন দেশটি আসিয়ান (ASEAN)-এর সদস্য নয়?
ক) লাওস
খ) হংকং
গ) ভিয়েতনাম
ঘ) কম্বোডিয়া
সঠিক উত্তর : খ) হংকং
ব্যাখ্যা :
– ASEAN-এর পূর্ণরূপ Association of Southeast Asian Nations। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট।
– আসিয়ান প্রতিষ্ঠিত হয় ৮ আগস্ট ১৯৬৭ সালে।
– বর্তমান সদস্যদেশ ১০টি: মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনেই, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া।
– হংকং দক্ষিণ চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল; এটি কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নয় এবং আসিয়ানের সদস্যও নয়।
উৎস : ASEAN অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৩১. নিচের কোন দেশটি ডি–৮ (D–8)-এর সদস্য নয়?
ক) জর্ডান
খ) ইরান
গ) মিশর
ঘ) মালয়েশিয়া
সঠিক উত্তর : ক) জর্ডান
ব্যাখ্যা :
– ১৯৯৭ সালের ১৫ জুন তুরস্কের উদ্যোগে ৮টি মুসলিম উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে D-8 (Developing Eight) গঠন করা হয়।
– ডি–৮-এর সদস্যদেশগুলো হলো: তুরস্ক, ইরান, মিশর, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।
– জর্ডান মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হলেও ডি–৮-এর সদস্য নয়।
– ডি–৮ সদরদপ্তর তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত।
উৎস : D-8 অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৩২. World Economic Forum-এর বার্ষিক অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
ক) প্যারিস
খ) জুরিখ
গ) দাভোস
ঘ) বার্ন
সঠিক উত্তর : গ) দাভোস
ব্যাখ্যা :
– World Economic Forum (WEF) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালে।
– এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান জার্মান অর্থনীতিবিদ ক্লাউস শোয়াব।
– শুরুতে সংস্থার নাম ছিল European Management Forum; ১৯৮৭ সালে নাম পরিবর্তন হয়ে World Economic Forum হয়।
– প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
উৎস : World Economic Forum অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৩৩. ‘তাসখন্দ চুক্তি’ কোন দুই রাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
ক) পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
খ) ভারত ও আফগানিস্তান
গ) পাকিস্তান ও ভারত
ঘ) আফগানিস্তান ও সোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর : গ) পাকিস্তান ও ভারত
ব্যাখ্যা :
– ১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি ‘তাসখন্দ চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়।
– সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ শহরে এ চুক্তি হয় বলে এটি ‘তাসখন্দ চুক্তি’ নামে পরিচিত।
– তৎকালীন সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী আলেক্সেই কসিগিনের মধ্যস্থতায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
– এ চুক্তির মাধ্যমে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে এবং দুই দেশ যুদ্ধপূর্ব অবস্থানে ফিরে যেতে সম্মত হয়।
উৎস : Encyclopaedia Britannica ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইতিহাসবিষয়ক গ্রন্থ।
১৩৪. প্রথাগতভাবে বছরের কোন দিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়?
ক) সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সোমবার
খ) অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার
গ) আগস্ট মাসের শেষ সোমবার
ঘ) অক্টোবর মাসের প্রথম শনিবার
সঠিক উত্তর : — এই প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে
ব্যাখ্যা :
– প্রদত্ত অপশনগুলোর কোনোটিই সঠিক নয়, তাই প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
– জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নিয়মিত অধিবেশন প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার শুরু হয় (প্রথম যে সপ্তাহে অন্তত একটি কর্মদিবস থাকে, সেখান থেকে তৃতীয় সপ্তাহের মঙ্গলবার)।
উৎস : United Nations Official Website (UN.org)।
১৩৫. বিগত কপ–২৬ (COP–26) কোন শহরে অনুষ্ঠিত হয়?
ক) জেনেভা
খ) প্যারিস
গ) গ্ল্যাসগো
ঘ) ব্রাসেলস
সঠিক উত্তর : গ) গ্ল্যাসগো
ব্যাখ্যা :
– COP-এর পূর্ণরূপ Conference of the Parties—জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC)-এর সদস্য দেশগুলোর সম্মেলন।
– কপ–২৬ অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাজ্যের গ্ল্যাসগো শহরে, ৩১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর ২০২১ ইং।
– এখানে বিশ্বনেতারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো, অভিযোজন–সহনশীলতা ইত্যাদি বিষয়ে নানা অঙ্গীকার ও ঘোষণা দেন।
উৎস : UNFCCC অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৩৬. বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি কবে শেষ হবে?
ক) ২০৪০
খ) ২০২৬
গ) ২০২৪
ঘ) ২০৩০
সঠিক উত্তর : খ) ২০২৬
ব্যাখ্যা :
– ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
– এ চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর, অর্থাৎ ১৯৯৬–২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর।
– চুক্তি অনুযায়ী ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানিবণ্টনের একটি নির্দিষ্ট সূত্র অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে।
উৎস : বাংলাপিডিয়া এবং সরকারি নথি।
১৩৭. কোন দেশকে ইউরোপের ‘রুটির ঝুড়ি’ (Breadbasket of Europe) বলা হয়?
ক) জার্মানি
খ) ইতালি
গ) পোল্যান্ড
ঘ) ইউক্রেন
সঠিক উত্তর : ঘ) ইউক্রেন
ব্যাখ্যা :
– উর্বর কালো মাটির বিশাল সমতলভূমি এবং অনুকূল জলবায়ুর কারণে ইউক্রেনে গম, সূর্যমুখী, ভুট্টা প্রভৃতি শস্যের প্রচুর উৎপাদন হয়।
– ইউক্রেন প্রতিবছর বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ শস্য রপ্তানি করে; ইউরোপের অনেক দেশের খাদ্যশস্যের বড় অংশই ইউক্রেন থেকে আসে।
– এ কারণেই ইউক্রেনকে ‘ইউরোপের রুটির ঝুড়ি’ বলা হয়ে থাকে।
উৎস : World Atlas, FAO রিপোর্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন।
১৩৮. গণতন্ত্রের ধারণা প্রথম কোন দেশে উৎসারিত হয়?
ক) যুক্তরাষ্ট্র
খ) প্রাচীন গ্রিস
গ) প্রাচীন রোম
ঘ) প্রাচীন ভারত
সঠিক উত্তর : খ) প্রাচীন গ্রিস
ব্যাখ্যা :
– ‘ডেমোক্রেসি’ শব্দটি গ্রিক ভাষার Demos (জনগণ) এবং Kratos (শাসন/ক্ষমতা) থেকে এসেছে—অর্থাৎ জনগণের শাসন।
– খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের দিকে প্রাচীন গ্রিসের শহররাষ্ট্র, বিশেষ করে এথেন্সে, সরাসরি গণতন্ত্রের ধারণা বিকশিত হয়।
– পরবর্তীতে প্রতিনিধি গণতন্ত্র ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গড়ে ওঠে এবং আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অংশ হয়ে যায়।
উৎস : রাজনীতি বিজ্ঞান টেক্সটবুক ও Encyclopaedia Britannica।
১৩৯. কখন এবং কোথায় International Union for Conservation of Nature (IUCN) প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ১৯৪৮, প্যারিস
খ) ১৯৪৯, সুইজারল্যান্ড
গ) ১৯৬১, রোম
ঘ) ১৯৫২, লন্ডন
সঠিক উত্তর : ক) ১৯৪৮, প্যারিস
ব্যাখ্যা :
– International Union for Conservation of Nature (IUCN) হলো প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।
– এটি ১৯৪৮ সালের ৫ অক্টোবর ফ্রান্সের ফোঁতেঁনব্লো (প্যারিসের নিকটবর্তী)-তে প্রতিষ্ঠিত হয়।
– বর্তমানে এর সদরদপ্তর সুইজারল্যান্ডের গ্ল্যান্ড শহরে অবস্থিত এবং এর সদস্যসংখ্যা প্রায় ১,৪০০টি প্রতিষ্ঠান; স্বেচ্ছাসেবী বিশেষজ্ঞ প্রায় ১৭,০০০ জন।
উৎস : IUCN অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৪০. কোন দুটি আরব রাষ্ট্র ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পরিণতিতে ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে?
ক) জর্ডান ও মিশর
খ) কুয়েত ও বাহরাইন
গ) লিবিয়া ও ওমান
ঘ) তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়া
সঠিক উত্তর : ক) জর্ডান ও মিশর
ব্যাখ্যা :
– ১৯৭৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ক্যাম্প ডেভিডে মিশর ও ইসরাইলের মধ্যে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
– যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মধ্যস্থতায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
– এর পরিণতিতে ১৯৭৯ সালে মিশর প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে এবং পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
– পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে দ্বিতীয় আরব দেশ হিসেবে জর্ডান ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে এবং পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
উৎস : Encyclopaedia Britannica, history.com এবং আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা।
১৪১. মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
ক) নিউইয়র্ক
খ) লন্ডন
গ) বার্লিন
ঘ) ক্যানবেরা
সঠিক উত্তর : ক) নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা :
– ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয়।
– এর উদ্দেশ্য ছিল কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থীদের সহায়তা করা।
– এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন ভারতীয় বিখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর।
– তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রখ্যাত ব্রিটিশ সঙ্গীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনসহ অন্যান্য বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা অংশ নেন।
উৎস : মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, BBC ও অন্যান্য ঐতিহাসিক দলিল।
১৪২. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ কত সময়ের জন্য?
ক) ১ বছর
খ) ২ বছর
গ) ৪ বছর
ঘ) ৫ বছর
সঠিক উত্তর : খ) ২ বছর
ব্যাখ্যা :
– জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য ১৫টি; এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য।
– স্থায়ী সদস্য ৫টি দেশ: যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।
– অস্থায়ী সদস্যরা সাধারণ পরিষদের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় এবং ২ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করে।
উৎস : United Nations Official Website ও বাংলাপিডিয়া।
১৪৩. আন্তর্জাতিক আদালতের (International Court of Justice) একজন বিচারক কয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন?
ক) তিন বছর
খ) সাত বছর
গ) চার বছর
ঘ) নয় বছর
সঠিক উত্তর : ঘ) নয় বছর
ব্যাখ্যা :
– International Court of Justice (ICJ) হলো জাতিসংঘের প্রধান বিচার অঙ্গ, যার সদরদপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত।
– আইসিজে ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৪৬ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করে।
– আইসিজের মোট বিচারক সংখ্যা ১৫ জন; প্রতিটি বিচারক ৯ বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং পুনর্নির্বাচিত হতে পারেন।
উৎস : ICJ ও UN-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৪৪. ইসলাম ও সুফিবাদের প্রভাবে ভারতবর্ষে কী ঘটেছিল?
ক) বর্ণবাদের পুনরুত্থান
খ) রাষ্ট্রবিপ্লব
গ) চিন্তাবিপ্লব
ঘ) অভিবাসন বিপ্লব
সঠিক উত্তর : গ) চিন্তাবিপ্লব
ব্যাখ্যা :
– ইসলাম ও বিশেষ করে সুফিবাদের আগমনের ফলে ভারতবর্ষে এক নতুন চিন্তার জগৎ উন্মোচিত হয়।
– মানুষে–মানুষে ভালোবাসা, সমতা, মানবিকতা ও তৌহিদি চেতনা কেন্দ্র করে সমাজে নতুন ধারা ও ভাবনা তৈরি হয়—যা এক ধরনের ‘চিন্তাবিপ্লব’।
– সুফিরা হিন্দু–মুসলমানসহ নানা ধর্মের মানুষের কাছে মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেন।
উৎস : ভারতবর্ষে ইসলামের ইতিহাসবিষয়ক গ্রন্থ ও গবেষণা।
১৪৫. ২০২২ সালে কোন দেশ জাতিসংঘ শান্তি-গঠন কমিশনের (Peacebuilding Commission) সভাপতি নির্বাচিত হয়?
ক) যুক্তরাষ্ট্র
খ) সুইজারল্যান্ড
গ) বাংলাদেশ
ঘ) ভারত
সঠিক উত্তর : গ) বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা :
– ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ শান্তি-গঠন কমিশনের (Peacebuilding Commission – PBC) সভাপতি নির্বাচিত হন জাতিসংঘে বাংলাদেশের তৎকালীন স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা।
– তিনি এই পদে নির্বাচিত হওয়া প্রথম নারী ও প্রথম বাংলাদেশি।
– এর মাধ্যমে শান্তিরক্ষা ও শান্তি-নির্মাণে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হয়।
উৎস : UN News, বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি।
ভূগোল বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
১৪৬ থেকে ১৫৫ – কপি করার জন্য রেডি টেক্সট
১৪৬. কোন ধরনের শিলায় জীবাশ্ম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে?
ক) আগ্নেয় শিলা
খ) রূপান্তরিত শিলা
গ) পাললিক শিলা
ঘ) উপরের কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর : গ) পাললিক শিলা
ব্যাখ্যা :
ভূত্বক গঠনকারী উপাদানসমূহকে শিলা বলা হয়। গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার: আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা ও রূপান্তরিত শিলা।
এদের মধ্যে পাললিক শিলা গঠিত হয় পলি সঞ্চিত হয়ে স্তরবিন্যাসের মাধ্যমে।
পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো: এতে জীবাশ্ম দেখা যায়, স্তর বা রেখা লক্ষ করা যায়, শিলা সাধারণত তুলনামূলক নরম ও ভঙ্গুর এবং সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাঁদাপাথর, কয়লা, কাওলিন, শেল প্রভৃতি পাললিক শিলার উদাহরণ।
অন্যদিকে আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলায় সাধারণত জীবাশ্ম দেখা যায় না।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম–দশম শ্রেণি।
১৪৭. নিচের কোন দুর্যোগের কার্যকর পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়?
ক) বন্যা
খ) ভূমিকম্প
গ) ঘূর্ণিঝড়
ঘ) খরা
সঠিক উত্তর : খ) ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা :
যে ধরনের দুর্যোগের কোনো কার্যকর আগাম সতর্ক সংকেত বা পূর্বাভাস ছাড়াই হঠাৎ সংঘটিত হয়, তা হলো ভূমিকম্প।
ভূমিকম্প–প্রবণ অঞ্চল বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা মানচিত্রের মাধ্যমে চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও ভূমিকম্প ঠিক কখন, কোন মাত্রায় সংঘটিত হবে তা নির্ভরযোগ্যভাবে পূর্বাভাস দেওয়া এখনো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও শৈত্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও জলবায়ু তথ্যের ভিত্তিতে কিছুটা আগে থেকেই পূর্বাভাস দেওয়া যায়।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভৌত ভূগোল।
১৪৮. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোন ধাপটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল?
ক) প্রস্তুতি (Preparedness)
খ) সাড়াদান (Response)
গ) প্রশমন (Mitigation)
ঘ) পুনরুদ্ধার (Recovery)
সঠিক উত্তর : গ) প্রশমন
ব্যাখ্যা :
দুর্যোগের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিকার এবং দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপকে দুর্যোগ প্রশমন বলা হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো যায়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত ও অকাঠামোগত – দুই ধরনের প্রশমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন, যেমন: বাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি অত্যন্ত ব্যয়বহুল; অনেক উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে এ ব্যয় বহন করা কঠিন।
অন্যদিকে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ প্রদান ইত্যাদি অকাঠামোগত প্রশমন তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়সাপেক্ষ।
প্রশমনই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের একটি মূল ও ব্যয়বহুল উপাদান।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান: দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন ও দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি। দুর্যোগের আগে থেকেই অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করতে হয়। দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন কার্যক্রম চলে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম–দশম শ্রেণি; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
১৪৯. নিচের কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস?
ক) প্রাকৃতিক গ্যাস
খ) চুনাপাথর
গ) বায়ু
ঘ) কয়লা
সঠিক উত্তর : গ) বায়ু
ব্যাখ্যা :
নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy) হলো এমন শক্তি, যা বারবার ব্যবহার করলেও স্বল্প সময়ে ফুরিয়ে যায় না এবং অদূর ভবিষ্যতে যার ঘাটতির আশঙ্কা তুলনামূলক কম।
যেমন: সূর্যের আলো, সমুদ্রের জোয়ার–ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বায়ু, নদীর বহমান পানি, পৃথিবীর গভীরের উষ্ণ ম্যাগমা ইত্যাদি।
অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy) হলো এমন শক্তি, যা একবার ব্যবহার করলে পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না বা অতি দীর্ঘ সময় লাগে; এগুলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ। যেমন: তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম ইত্যাদি।
তাই প্রাকৃতিক গ্যাস, চুনাপাথর ও কয়লা অনবায়নযোগ্য সম্পদ; বায়ু হলো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫০. নিচের কোনটি বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র?
ক) বাখরাবাদ
খ) হরিপুর
গ) তিতাস
ঘ) হবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর : গ) তিতাস
ব্যাখ্যা :
বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র তিতাস গ্যাসক্ষেত্র কুমিল্লা/ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে অবস্থিত (প্রশ্নে প্রচলিতভাবে তিতাস বলা হয়)।
এই গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি আবিষ্কার করে।
প্রায় ৬৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই গ্যাসক্ষেত্রটির ভূ-গঠন গম্বুজাকৃতির।
প্রাথমিক মজুদের পরিমাণের হিসেবে বাংলাদেশের আরেকটি বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র হলো বিবিয়ানা, যা হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত এবং ১৯৯৮ সালে Unocal এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে।
উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১; বাংলাপিডিয়া।
১৫১. বাংলাদেশ জি-কেএ (G-K) প্রকল্প একটি—
ক) জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
খ) নদী নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প
গ) জল পরিবহন প্রকল্প
ঘ) সেচ প্রকল্প
সঠিক উত্তর : ঘ) সেচ প্রকল্প
ব্যাখ্যা :
গড়াই–কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি–কে প্রকল্প) গড়াই নদীর দক্ষিণ তীরবর্তী বিস্তৃত এলাকা জুড়ে সেচের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার প্রায় ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এই সেচ প্রকল্পের আওতাভুক্ত।
এটি বাংলাদেশের প্রথম বৃহৎ সেচ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য।
১৫২. COP 26-এ COP এর পূর্ণরূপ কী?
ক) Conference of Paris
খ) Conference of the Power
গ) Conference of the Parties
ঘ) Conference of the Protocol
সঠিক উত্তর : গ) Conference of the Parties
ব্যাখ্যা :
UNFCCC (United Nations Framework Convention on Climate Change) ১৯৯২ সালের ৩–১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো শহরে অনুষ্ঠিত The United Nations Conference on Environment and Development সম্মেলনে গৃহীত হয়।
চুক্তিটি ১৯৯৪ সালের ২১ মার্চ কার্যকর হয় এবং বর্তমানে এর পক্ষভুক্ত দেশ সংখ্যা ১৯৭।
এই চুক্তির বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনার জন্য ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর UNFCCC Conference of the Parties (COP) আয়োজন করে আসছে।
COP মানে Conference of the Parties; এতে UNFCCC–তে স্বাক্ষরকারী দেশসমূহ ও বিভিন্ন সংস্থা অংশগ্রহণ করে।
উৎস: UNFCCC অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৫৩. বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ নয় কোনটি?
ক) ঘন ঘন বন্যা
খ) সামুদ্রিক দূষণ
গ) দুর্বল সমুদ্র শাসন
ঘ) উপরের কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর : ক) ঘন ঘন বন্যা
ব্যাখ্যা :
ব্লু ইকোনমি (Blue Economy) হলো সমুদ্র সম্পদনির্ভর অর্থনীতি; সাগরের জলরাশি ও এর তলদেশের বিশাল সম্পদকে টেকসইভাবে কাজে লাগানোর অর্থনীতি।
ব্লু ইকোনমি ধারণাটি সর্বপ্রথম উপস্থাপন করেন বেলজিয়ামের অর্থনীতিবিদ গুন্টার পাউলি; ১৯৯৪ সালে তিনি এ ধারণা ব্যবহার শুরু করেন এবং ২০১০ সালে তাঁর ‘Blue Economy’ বইয়ে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈশ্বিকভাবে ২০১২ সালে রিও ডি জেনেইরো শহরে অনুষ্ঠিত Rio+20 সম্মেলনে ব্লু ইকোনমি আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পায়।
২০১৪ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা জয় করে বঙ্গোপসাগরের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করে এবং ব্লু ইকোনমির বড় অংশীদার হয়; এর পর থেকেই সমুদ্র অর্থনীতি ঘিরে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
বাংলাদেশের ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় ব্লু ইকোনমির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ব্লু ইকোনমির প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহের মধ্যে রয়েছে: শক্তিশালী সামুদ্রিক নীতির অভাব, দুর্বল সমুদ্র শাসন, সামুদ্রিক দূষণ, অপরিকল্পিত উপকূলীয় উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি, অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ ও পর্যটন ইত্যাদি।
এই প্রেক্ষাপটে ‘ঘন ঘন বন্যা’ মূলত অভ্যন্তরীণ দুর্যোগ হলেও সরাসরি ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত নয়।
উৎস: SDG–সংক্রান্ত ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন নীতি–রিপোর্ট।
১৫৪. ডাউকি ফল্ট বরাবর একটি প্রচণ্ড ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশের কোন নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে?
ক) পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী
খ) পদ্মা নদী
গ) কর্ণফুলি নদী
ঘ) মেঘনা নদী
সঠিক উত্তর : ক) পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী
ব্যাখ্যা :
ভূমিকম্প হলো ভূ–পৃষ্ঠে সংঘটিত আকস্মিক ও স্বল্পস্থায়ী কাঁপন; যা পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ঘটে।
ভূমিকম্পের ফলে কখনো–কখনো নদীর গতিপথও পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে।
১৭৮৭ সালে আসামের ডাউকি ফল্ট অঞ্চলে সংঘটিত এক প্রচণ্ড ভূমিকম্পের ফলে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ কিছুটা উঁচু হয়ে যায় এবং এর মূল স্রোতপথ পরিবর্তিত হয়ে যমুনা নদীপথে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম–দশম শ্রেণি।
১৫৫. বাংলাদেশের প্রথম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
ক) কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি
খ) সাভার, ঢাকা
গ) সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
ঘ) বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর
সঠিক উত্তর : ঘ) বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর
ব্যাখ্যা :
দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলাধীন ভবানীপুরের বড়পুকুরিয়ায় বাংলাদেশের প্রথম কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত।
এটি দেশে প্রথম কয়লাখনি থেকে উত্তোলিত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
বর্তমানে দুইটি ইউনিটের মাধ্যমে প্রায় ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দিনাজপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে, পার্বতীপুর উপজেলা সদর থেকে ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
উৎস: পার্বতীপুর উপজেলা ওয়েবসাইট এবং শক্তি–বিষয়ক প্রকাশনা।
নৈতিকতা মূল্যবোধ ও সুশাসন
১৫৬. জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে ‘শুদ্ধাচার’ হলো –
ক) শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল
খ) সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড
গ) সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
ঘ) দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড
সঠিক উত্তর : গ) সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
ব্যাখ্যা :
দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অ-রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
PDF Link – [Link]
উৎস: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (National Integrity Strategy of Bangladesh)।
১৫৭. বাংলাদেশে দুর্নীতিকে দণ্ডনীয় ঘোষণা করা হয়েছে যে বিধানে-
ক) ১৮৬০ সালে প্রণীত দণ্ডবিধিতে
খ) ২০০৪ সালে প্রণীত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে
গ) ২০১৮ সালে প্রণীত সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালায়
ঘ) উপরের সবগুলোতে
সঠিক উত্তর : ঘ) উপরের সবগুলোতে
ব্যাখ্যা :
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ হলো বাংলাদেশে ফৌজদারি অপরাধ সংক্রান্ত দণ্ড দানের জন্য প্রধান আইন। এতে বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কাজ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
২০০৪ সালে প্রণীত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে দুর্নীতিমূলক কার্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং আইনমতে দুর্নীতিকে সর্বত্র নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
২০১৮ সালে প্রণীত সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালায় অসদাচরণ, দুর্নীতি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ‘গুরুদণ্ড’ ও ‘লঘুদণ্ড’ – এই দুই ধরনের দণ্ড আরোপের বিধান রয়েছে।
অতএব, উল্লিখিত তিনটি বিধানই দুর্নীতিকে সর্বত্র প্রতিরোধ ও দণ্ডনীয় করার ব্যবস্থা গঠন করেছে।
উৎস: দণ্ডবিধি ১৮৬০, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮।
১৫৮. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে –
ক) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
খ) দুর্নীতি দূর হয়
গ) প্রতিষ্ঠানের সুনাম হয়
ঘ) যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর : ক) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা :
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
এতে দেশি–বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্প–কারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়; ফলে কর্মসংস্থান বাড়ে ও বেকারত্ব কমে।
অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি বিনিয়োগের সম্পর্ক রয়েছে। তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথম পত্র; মো. মাজহারুল হক।
১৫৯. জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের নাম –
ক) UNCLOS
খ) UNCTAD
গ) UNCAC
ঘ) CEDAW
সঠিক উত্তর : গ) UNCAC
ব্যাখ্যা :
UNCAC (United Nations Convention Against Corruption) হলো জাতিসংঘ গৃহীত দুর্নীতির বিরোধী বৈশ্বিক কনভেনশন।
এটি ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয় এবং ১৪ ডিসেম্বর ২০০৫ সালে কার্যকর হয়।
বাংলাদেশসহ ১৮৭টি দেশ এই কনভেনশনের অংশীদার।
উৎস: জাতিসংঘের সরকারি ওয়েবসাইট।
১৬০. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান –
ক) নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য
খ) স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
গ) শক্তিশালী রাজনৈতিক দল
ঘ) পরমতসহিষ্ণুতা
সঠিক উত্তর : ঘ) পরমতসহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা :
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অন্যতম; এছাড়া আছে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, নৈতিক, আধুনিক ও আধুনিকোত্তর মূল্যবোধ।
নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমতসহিষ্ণুতা ইত্যাদি গুণাবলি মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়।
একটি রাষ্ট্র কেবল নিজেকে গণতান্ত্রিক ঘোষণা করলেই হবে না; নাগরিকদের মধ্যেও গণতান্ত্রিক সচেতনতা, সংবেদনশীলতা, উদ্দেশ্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকা আবশ্যক।
সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা–অসুবিধা, অন্যের অধিকার ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা করা মূলত মূল্যবোধেরই অংশ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম ও ২য় পত্র); মো. মাজহারুল হক ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬১. সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (conflict of interest)-এর উদ্ভব হয় যখন গৃহীতব্য সিদ্ধান্তের সঙ্গে –
ক) সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে
খ) প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িত থাকে
গ) সরকারের স্বার্থ জড়িত থাকে
ঘ) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে
সঠিক উত্তর : ক) সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে
ব্যাখ্যা :
Conflict of Interest?
A conflict of interest occurs when an individual’s personal interests – family, friendships, financial, or social factors – could compromise his or her judgment, decisions, or actions in the workplace.
Taken From: Compliance document of University of Central Florida.
Cambridge Dictionary অনুসারে,
Conflict of interest – A situation in which someone’s private interests are opposed to that person’s responsibilities to other people.
Britannica Dictionary অনুসারে,
Conflict of interest – A problem caused by having official responsibilities that involve things that might be helpful or harmful to you.
অর্থাৎ, যখন একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থ (যেমন পরিবার, বন্ধু, আর্থিক বা সামাজিক কারণসমূহ) কর্মক্ষেত্রে তার বিচার-বিবেচনা, সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তখন তাকে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) বলে।
এটি মূলত ব্যক্তিগত পরিসরের স্বার্থকে বোঝায়।
তাই, সঠিক উত্তর হবে: সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকলে তা ‘স্বার্থের সংঘাত’ সৃষ্টি করে।
উৎস: University of Central Florida Compliance Document; Cambridge ও Britannica Dictionary।
১৬২. রাষ্ট্র ও সমাজ দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী –
ক) আইনের প্রয়োগের অভাব
খ) নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব
গ) দুর্বল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা
ঘ) অসৎ নেতৃত্ব
সঠিক উত্তর : খ) নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব
ব্যাখ্যা :
দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ সমাজভেদে ও যুগভেদে নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পার্থক্য দেখা দেয়।
দুর্নীতি যেহেতু নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থী কাজ, তাই দুর্নীতির উদাহরণ দিতে গেলে স্থান–কাল–পাত্র–পরিস্থিতি, আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনা করতে হয়।
সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধাচরণমূলক কাজকে বোঝায়।
দুর্নীতির সঙ্গে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ–সুবিধা, পদ-মর্যাদা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান গভীরভাবে জড়িত।
সুতরাং, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৩. প্রাথমিকভাবে একজন মানুষের মানবীয় গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে –
ক) সমাজে বসবাসের মাধ্যমে
খ) বিদ্যালয়ে
গ) পরিবারের
ঘ) রাষ্ট্রের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর : গ) পরিবারের
ব্যাখ্যা :
পরিবার হলো মানুষের সেই সংগঠন, যেখানে বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এক বা একাধিক পুরুষ ও মহিলা তাদের সন্তানাদি, পিতা–মাতা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে একসাথে বসবাস করে।
সমাজে আমাদের কীভাবে চলাফেরা করতে হবে, কীভাবে কথা বলতে হবে, অন্যের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে – এসব ব্যবহারের প্রাথমিক শিক্ষা, অর্থাৎ মানবীয় গুণাবলি ও মূল্যবোধ বিকাশের প্রথম ধাপ শুরু হয় পরিবার থেকেই।
পরিবার তার প্রতিটি সদস্যকে পারিবারিক আদর্শ, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সহযোগিতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি গুণ শেখায়।
পরিবার হলো সবচেয়ে ক্ষুদ্র কিন্তু স্থায়ী ও গুরুত্বপূর্ণ সমাজীকরণ প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে বিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো আনুষ্ঠানিক/প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যম।
উৎস: পৌরনীতি প্রথম পত্র, এইচএসসি পাঠ্যক্রম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৪. ‘সততার জন্য সিদ্ধা’র কথা বলেছেন –
ক) ডেকার্ট
খ) ডেভিড হিউম
গ) ইমানুয়েল কান্ট
ঘ) জন লক
সঠিক উত্তর : গ) ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা :
ইমানুয়েল কান্ট ছিলেন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
তার নীতিবিদ্যার মূল কথা তিনটি:
- সৎ ইচ্ছা (Good Will)
- কর্তব্যের খাতিরে কর্তব্য (Duty for Duty’s Sake)
- শর্তহীন আদেশ (Categorical Imperative)
নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহঃ
- Groundwork for the Metaphysics of Morals
- Critique of Pure Reason
- Critique of Practical Reason
- Critique of Judgement
উৎস: ব্রিটানিকা।
১৬৫. যে গুণের মাধ্যমে মানুষ ‘ভুল‘ ও ‘শুদ্ধ‘ – এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে, তা হলো –
ক) সততা
খ) সদাচার
গ) কর্তব্যবোধ
ঘ) মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর : ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা :
মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে। অর্থাৎ মূল্যবোধের মাধ্যমেই মানুষ ‘ভুল’ ও ‘শুদ্ধ’, ‘ভাল’ ও ‘মন্দ’ – এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
জন্মের পর থেকেই মানুষ পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে থাকে, যা আজীবন চলমান একটি প্রক্রিয়া।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি; মো: মাজহারুল হক।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
১৬৬. ‘আেনায়ারা‘ উপন্যাসের রচিয়তার নাম –
ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
খ) কাজী আবদুল ওদুদ
গ) নজিবর রহমান
ঘ) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
সঠিক উত্তর : গ) নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা :
‘আেনায়ারা’ মহানন্দা নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দ) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আেনায়ারার আত্মদীপ্তা।
- উপন্যাসের চরিত্র: আেনায়ারা, নুরুল ইসলাম, খাদেম, আজিম শাহ, গালাপজান ইত্যাদি।
লেখকের অন্যান্য রচনা:
- চাঁদতারা বা হাসান গোরার বাহমিন (১৯১৭.
- পরিণাম (১৯১৮.
- গরীবের মেয়ে (১৯২৩.
- দুনিয়া আর চাই না (১৯২৪. ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬৭. বর্ণ-পরিবর্তনের নিয়মে কোনটি বর্ণ-বিপর্যের দৃষ্টান্ত?
ক) রতন
খ) কবাট
গ) পিশাচ
ঘ) মুলুক
সঠিক উত্তর : গ) পিশাচ
ব্যাখ্যা :
বর্ণ-বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুইটি বর্ণের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে বর্ণ-বিপর্যয় বলে।
- এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন –
- পিশাচ ˃ পিচাশ
- লাফ ˃ ফল
- বাক্স ˃ বাস্ক
- রিক্সা ˃ riskা (রিক্সা ˃ রিক্সা – উদাহরণধর্মী)
অন্যান্য:
- রক্ত ˃ রতন এবং মূলক ˃ মুলুক — মধ্যে অনুপ্রাস বা বিকৃতি বা প্রভাবজাত পরিবর্তনের উদাহরণ।
- কবাট ˃ কপাট — বর্ণ বিকৃতির উদাহরণ।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬৮. নিচের কোনটি ‘অগ্নি‘র সমার্থক শব্দ নয়?
ক) বিদ্যুৎ
খ) আবীর
গ) বায়ুশিখা
ঘ) বৈদ্যুত
সঠিক উত্তর : খ) আবীর
ব্যাখ্যা :
অগ্নি (বিশেষ্য):
অর্থ –
১. আগুন
২. তেজ, শক্তি
৩. পরিপাক শক্তি, ক্ষুধা
৪. দক্ষিণ-পূর্ব কোণ ইত্যাদি।
- এটি একটি তৎসম শব্দ।
অগ্নি শব্দের সমার্থক শব্দ:
- হুতাশন, অনল, পাবক, আগুন, দহন, সর্বভুক, শিখা, বিদ্যুৎ, বৈদ্যুত, কৃশানু, বিভাবসূ, সর্বশুচি, বায়ুশিখা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
আবীর (বিশেষ্য):
অর্থ –
১. সুগন্ধি রং, অল্পের গুঁড়া মেশানো রং, ফাগ।
২. অস্তাচলগামী সূর্যের রক্তিম আভা।
আবীর শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)।
১৬৯. ‘দেশের যত নদীর ধারা জল না, ওরা অশ্রুধারা‘ – এই উক্তিটি নিচের কোন পারিভাষিক অলংকার দ্বারা শোভিত?
ক) অপহৃতি
খ) যমক
গ) অর্থালংকার
ঘ) অভিঞ্জন
সঠিক উত্তর : ক) অপহৃতি
ব্যাখ্যা :
অপহৃতি:
প্রকৃতকে অর্থাৎ উপমেয়কে নিষেধ করে বা গোপন করে অপ্রকৃতকে অর্থাৎ উপমানকে প্রতিষ্ঠা করলে, সেখানে ‘অপহৃতি’ অলংকার হয়।
এখানে সাধারণত দু’ভাবে এই নিষেধ হয় –
- প্রথমত: ‘না’, ‘নয়’ ইত্যাদি না-সূচক অব্যয় ব্যবহার করে;
- দ্বিতীয়ত: ‘বাজ’, ‘ছল’, ‘ছলনা’ ইত্যাদি সত্য গোপনকারী শব্দ যোগ করে।
উদাহরণ:
(ক) “মেয়ে ত নয়, হলুদ পাখির ছা,” — জসীমউদ্দীন
উপমেয়- ‘মেয়ে’; উপমান- ‘ছা’; না-সূচক অব্যয় – ‘নয়’। ‘নয়’ ব্যবহার করে উপমেয়কে নিষেধ করে উপমানকে প্রতিষ্ঠা করায় এখানে অপহৃতি অলংকার।
(খ) “তারাই আজি নিঃস্ব দেশে, কাঁদে শূন্য হারা;
দেশের যত নদীর ধারা জল না, ওরা অশ্রুধারা।” — কাজী নজরুল ইসলাম
এখানে উপমেয়- ‘জল’; উপমান- ‘অশ্রু’। কবি ‘না’ অব্যয় ব্যবহার করে উপমেয়কে অস্বীকার করে উপমানকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই এখানে ‘অপহৃতি’ অলংকার হয়েছে।
(গ) “নীরবিন্দু যত
দেখিতে কুসুম-দলে, হে সুধাংশু নিধি,
অভাগীর অশ্রুবিন্দু কহিনু তোমার।” — মাইকেল মধুসূদন দত্ত
এখানেও জল-ধারা অনস্বীকার করে অশ্রু ধারা প্রতিষ্ঠিত – অপহৃতি।
(ঘ) “নারী নহ, কাব্য তুুমি, তোমার পেরে কবির সাধ,” — বুদ্ধদেব বসু
এখানে ‘নারী নহ’ বলে নারী (উপমেয়) অস্বীকার করে ‘কাব্য’ (উপমান) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে – অপহৃতি।
উৎস: প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র [রূপরীতি, রসরীতি, অলংকার ও ছন্দ] : প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
১৭০. ‘যথারীতি‘ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
ক) অব্যয়ীভাব
খ) দ্বিগু
গ) বহুব্রীহি
ঘ) তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর : ক) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা :
পূর্বপদে অব্যয় যোগে নিত্য সমাস যদি অব্যয়েরই অর্থের আধিক্যে হয়, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থেই ব্যাসবাক্যটি গঠিত হয়।
যেমন:
অনিত্যম্যতা (যথা) অর্থ –
- রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য
এরূপ: যথাবিধি, যথাযোগ্য ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম–দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭১. ‘মৃৎকা দিয়ে তৈরি’ – কথাটি সংকোচন করলে হবে –
ক) তাম্র
খ) মাটির
গ) মৃৎ
ঘ) চিত্র
সঠিক উত্তর : গ) মৃৎ
ব্যাখ্যা :
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
মৃৎ (বিশেষণ):
অর্থ – মাটির তৈরি।
- এটি একটি তৎসম শব্দ।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য-সংকোচন:
মৃৎকার দ্বারা নির্মিত – মৃৎ।
তৃণা-ইত্যাদিতে ভুমি – কাদল।
নীল বর্ণ পট – ইন্দ্র।
বুকে হেঁটে গমন করে যে – উরগ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭২. ‘অধরচুম্বন‘ কথাটির অর্থ –
ক) অমাবস্যা
খ) গলাধঃকরণ করা
গ) কাছে টানা
ঘ) কষ্ট
সঠিক উত্তর : খ) গলাধঃকরণ করা
ব্যাখ্যা :
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
অধরচুম্বন (বিশেষ্য):
অর্থ –
১. অধরে প্রকাশিত চুম্বন
২. গলাধঃকরণ
৩. সৈন্য সমাবেশের কৌশল বিশেষ।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা ও অর্থ:
- ‘অধরচুম্বন’ বাগধারার অর্থ – গলা ধরা / গলাধঃকরণ (প্রেক্ষিতভেদে)।
- ‘অগ্নি পরীক্ষা’ বাগধারার অর্থ – কঠিন পরীক্ষা।
- ‘অধীকুল সংকট’ বাগধারার অর্থ – ভীষণ বিপদ।
- ‘আতেল গুঁড়ুম’ বাগধারার অর্থ – হতবুদ্ধি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
১৭৩. ‘হরতাল‘ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
ক) পর্তুগিজ
খ) হিন্দি
গ) গুজরাটি
ঘ) ফরাসি
সঠিক উত্তর : গ) গুজরাটি
ব্যাখ্যা :
হরতাল (বিশেষ্য):
- শব্দটির উৎসমূল গুজরাটি।
অর্থ –
- প্রতিবাদ বা চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আহূত ধর্মঘট।
- দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে শ্রমিক সংগঠনের আহূত ধর্মঘট।
- বন্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৭৪. কোনটি ‘জিগীষা‘র সৎসামর্থক প্রকাশ?
ক) জানিবার ইচ্ছা
খ) জয় করিবার ইচ্ছা
গ) হরণ করিবার ইচ্ছা
ঘ) যুদ্ধ করিবার ইচ্ছা
সঠিক উত্তর : খ) জয় করিবার ইচ্ছা
ব্যাখ্যা :
কয়েকটি শুদ্ধ শব্দের সৎসামর্থক রূপ:
১. জিগীষা (বিশেষ্য) – জয়লাভ করার ইচ্ছা।
২. জিজীবিষা (বিশেষ্য) – বেঁচে থাকার ইচ্ছা।
৩. জিজ্ঞাসা (বিশেষ্য) – জানার ইচ্ছা / কৌতূহল।
৪. জিঘাংসা (বিশেষ্য) – বধ/হত্যা করার ইচ্ছা।
৫. যুযুৎসা (বিশেষ্য) – যুদ্ধ করার অভিলাষ/ইচ্ছা।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৭৫. নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
ক) পছন্দ
খ) হিসাব
গ) ধূলি
ঘ) শৌখিন
সঠিক উত্তর : গ) ধূলি
ব্যাখ্যা :
পছন্দ (বিশেষণ):
- শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ – - মনের মতো, মনঃপূত, ইচ্ছানুযায়ী মেনোনীত,
- নির্বাচিত।
পছন্দ (বিশেষ্য):
অর্থ –
- নির্বাচন
- মনোনয়ন
- রুচি।
হিসাব (বিশেষ্য):
- শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ – - গণনা, সংখ্যাকরণ
- জমাখরচের বিবরণ
- দর
- কৈফিয়ত
- বিচারবিবেচনা।
ধূলি (বিশেষ্য):
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
অর্থ – - শুকনো মাটির সূক্ষ্ম কণা, রেণু।
শৌখিন (বিশেষণ):
- শব্দটি আরবি ‘শওকিন’ থেকে আগত।
অর্থ – - বিলাসী
- শখের মানুষ।
অতএব, ‘ধূলি’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত অর্থাৎ তৎসম শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৭৬. নিচের কোনটি বাংলা ধাতুর দৃষ্টান্ত?
ক) কহ্
খ) কথ্
গ) বুধ্
ঘ) গঠ্
সঠিক উত্তর : ক) কহ্
ব্যাখ্যা :
ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসব ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
ধাতু ৩ প্রকার:
১. মৌলিক ধাতু
২. সাঙ্ঘাতিক ধাতু
৩. যৌগিক সংযোজকমূলক ধাতু
মৌলিক ধাতু:
যেসব ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোকেই মৌলিক ধাতু বলে। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন – চল্, পড়্, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।
মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার:
ক) বাংলা ধাতু
খ) সংস্কৃত ধাতু
গ) বিদেশি ধাতু
বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সরাসরি আসেনি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন – কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্, কহ্, কর্ ইত্যাদি।
অন্যদিকে, কথ্, বুধ্ ও গঠ্ – সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৭. নিচের কোনটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গ্রন্থ নয়?
ক) ব্যথার দান
খ) দোলনচাঁপা
গ) সোনার তরী
ঘ) শিউলিমালা
সঠিক উত্তর : গ) সোনার তরী
ব্যাখ্যা :
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর জন্ম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯. ব্রিটিশ ভারতের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- নজরুলের ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে তিনি ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা
- সাম্যবাদী
- ঝাঁকফুল
- দোলনচাঁপা
- সিন্দু-হিন্দোল
- চন্দ্রবিন্দু
- নতুন চাঁদ
- মরুভাস্কর ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান
- রিক্তের বেদনা
- শিউলিমালা
নাটক:
- ঝিলিমিল
- আলেয়া
উল্লেখ্য,
“সোনার তরী” — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭৮. ভুল বানান কোনটি?
ক) মুষূর
খ) মুমূর্ষু
গ) মুষর
ঘ) মূষর
সঠিক উত্তর : খ) মুমূর্ষু
ব্যাখ্যা :
শুদ্ধ বানান: মুমূর্ষু
মুমূর্ষু (বিশেষণ):
- এটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ – - মৃত্যুকাল আসন্ন এমন
- মরণাপন্ন
- মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৭৯. ‘ইতরবিশেষ’ বলতে বোঝায়—
ক) দুর্ভাগ্য
খ) চালাকি
গ) পার্থক্য
ঘ) অপদার্থ
সঠিক উত্তর : গ) পার্থক্য
ব্যাখ্যা :
ইতরবিশেষ (বিশেষ্য):
- এটি সংস্কৃত শব্দ থেকে আগত।
অর্থ – - সামান্য পার্থক্য।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা ও অর্থ:
- ‘গভীর জলের মাছ’ অর্থ – অতি চালাক।
- ‘ঘিটরমি’ / ‘অকাল কুমার’ বাগধারার অর্থ – অপদার্থ।
- ‘বকধামর্ক’ — ভণ্ড।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
১৮০. নিপাতনে সিদ্ধ রূপের দৃষ্টান্ত কোনটি?
ক) গরু + অক্ষ = গবাক্ষ
খ) পৌ + অক = পাবক
গ) বি + অর = বার
ঘ) যতি + ইশ = যতিীশ
সঠিক উত্তর : ক) গরু + অক্ষ = গবাক্ষ
ব্যাখ্যা :
নিপাতনে সিদ্ধ রূপ:
- ধাতু বা শব্দের সংযোগে যে রূপ গঠিত হয় তা যদি সাধারণ নিয়মের অনুসরণ না করে, তাকে নিপাতনে সিদ্ধ রূপ বলে।
উদাহরণ:
- কুল + অতা = কুলটা (কুলাটা নয়)
- গরু + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়)
- ধূ + ঊর্ধ = ধূর্ধ (ধূর্ধ্ব নয়)
- অন্যে + অন্য = অন্যান্য
- মাত্র + অত্র = মাত্রত্র / মাত্র্ত্র (প্রচলিত রূপ মাত্রই)
- শুচি + উদন = শুচোদন (শুদ্ধ উদন নয়)
অন্যদিকে,
পৌ + অক = পাবক
বি + অর = বার
যতি + ইশ = যতিীশ
এগুলো সাধারণ সANDhi-নিয়মে গঠিত; নিপাতনে সিদ্ধ নয়।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮১. নিচের কোন বাক্যটি ব্যবহারগত দিক থেকে শুদ্ধ?
ক) আমি কারও সাথেও নেই, সেতুতোও নেই।
খ) আপনি পরিবারে আপনিই।
গ) তার দু’চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।
ঘ) সারা জীবন ভুতের মজুরি খেটে মরলাম।
সঠিক উত্তর : গ) তার দু’চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।
ব্যাখ্যা :
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে কেবল (গ) “তার দু’চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।” — শুদ্ধ।
অন্যান্য বাক্যের শুদ্ধ রূপ –
অশুদ্ধ: আমি কারও সাথেও নেই, সেতুতোও নেই।
শুদ্ধ: আমি কারও সাথেও নেই, পাঁচেও নেই।
অশুদ্ধ: আপনি পরিবারে আপনিই।
শুদ্ধ: আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত। / আপনি পরিবারের সবাই আমন্ত্রিত। (প্রসঙ্গভেদে)
অশুদ্ধ: সারা জীবন ভুতের মজুরি খেটে মরলাম।
শুদ্ধ: সারা জীবন ভুতের ভুগার খেটে মরলাম। (প্রচলিত রূপ: ভাতের মজুরি / বেগারের মজুরি — প্রেক্ষিত অনুসারে)।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌম্য শেকর।
১৮২. নিচের কোনটি যৌগিক বাক্য?
ক) দোষ স্বীকার করলে তোমাকে শাস্তি দেওয়া হবে না।
খ) তিনি বাজারে এসে কেনাকাটা করলেন।
গ) মহৎ মানুষ বলে সবাই তাঁকে সম্মান করেন।
ঘ) ছেলেটি চঞ্চল, তবু মেধাবী।
সঠিক উত্তর : ঘ) ছেলেটি চঞ্চল, তবু মেধাবী।
ব্যাখ্যা :
যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোগসূত্রের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, তথাপি, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে, তবু ইত্যাদি যোগসূত্র যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
- কমা (, ), সেমিকোলন (:), কোলন (;), ড্যাশ (–) ইত্যাদি যতিচিহ্নও অনেক সময় যোগসূত্রের কাজ করে।
উদাহরণ:
- উদার পরিশ্রম করবে, তথাপি অন্যের উপর ভরসা করবে না।
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন, কিন্তু কোন পথ দেখাতে পারলেন না।
তদ্রূপ:
- ছেলেটি চঞ্চল, তবু মেধাবী। — এখানে ‘ছেলেটি চঞ্চল’ ও ‘(ছেলেটি) মেধাবী’ – দুইটি স্বাধীন বাক্য ‘তবু’ যোগে যুক্ত হয়েছে; তাই এটি যৌগিক বাক্য।
অন্যগুলো সরল বাক্য।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১৮৩. ‘চণ্ডীমঙ্গল‘ কাব্যের উপাস্য ‘চণ্ডী‘ কার পত্নী?
ক) জগন্নাথ
খ) বিষ্ণু
গ) ব্রহ্মা
ঘ) শিব
সঠিক উত্তর : ঘ) শিব
ব্যাখ্যা :
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
‘চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক–পুরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দ্রম চক্রবর্তী। তিনি ষোড়শ শতকের কবি।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে দুইটি প্রধান কাহিনি আছে –
- কালকেতু ও ফুলরার কাহিনি
- ধনপতি–লহনা–খুলনার কাহিনি
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- কালকেতু
- ফুলরা
- ধনপতি
- ভাঁড়ুদত্ত
- মুরারিশীল প্রমুখ।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে ‘চণ্ডী’ দেবতা শিবের পত্নী।
- কাব্যে চণ্ডীর ইচ্ছায় পৃথিবীতে তাঁর পূজা প্রচারের জন্য স্বামী শিবের একনিষ্ঠ উপাসক “নীলমণি”কে পাঠানোর প্রসঙ্গ রয়েছে।
- ষড়যন্ত্র করে ‘চণ্ডী’ নীলমণিকে পৃথিবীতে পাঠান এবং পরবর্তীতে ‘ধর্মকেতু’ নামের এক ব্রাহ্মণের ঘরে কালকেতু নামে জন্মগ্রহণ করে; পরে তার পত্নী ‘ছায়া’ জন্ম নিয়ে ‘ফুলরা’ নামে পরিচিত হয়।
উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর।
১৮৪. ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন‘ কাব্যটি কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল?
ক) নেপালের রাজদরবার থেকে
খ) গোয়ালঘর থেকে
গ) পাঠশালা থেকে
ঘ) কাজীর মসজিদ থেকে
সঠিক উত্তর : খ) গোয়ালঘর থেকে
ব্যাখ্যা :
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলায় রচিত মধ্যযুগের প্রথম কাব্য।
- কাব্যের রচয়িতা – বড়ু চণ্ডীদাস। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থও।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় ব্রিটিশ ভারতের বাঁকুড়া জেলার ‘কাঞ্চনপুর’ গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘরের মাচা থেকে পুঁথিটি উদ্ধার করেন।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় পুঁথিটির প্রথম পৃষ্ঠায় কোনো নাম পাওয়া যায়নি।
- সম্পাদকেরূপে বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’।
- একে ‘কৃষ্ণসংহিতা’ নামেও ডাকা হয়।
১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন প্রকাশিত হয়।
কাব্যটি ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত:
- জন্মখণ্ড
- তাড়ুল খণ্ড
- দানখণ্ড
- নৌকাখণ্ড
- ভারখণ্ড
- ছাড়াখণ্ড
- বৃন্দাবন খণ্ড
- কালীয়দমন খণ্ড
- যমুনা খণ্ড
- হাড়িখণ্ড
- বাণখণ্ড
- বংশীখণ্ড
- বিরহখণ্ড (রাধাবিরহ)।
এতে রাধা, কৃষ্ণ ও বড়ায়ী নামে তিনটি প্রধান চরিত্র রয়েছে।
উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর।
১৮৫. বিদ্যাপতি মূলত কোন ভাষার কবি ছিলেন?
ক) মারাঠি
খ) হিন্দি
গ) মৈথিলি
ঘ) গুজরাটি
সঠিক উত্তর : গ) মৈথিলি
ব্যাখ্যা :
মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মুগ্ধ ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এজন্য তিনি বিদ্যাপতিকে ‘কবিকুলগুরু’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় কাব্য রচনা করেছেন।
- বিদ্যাপতি পদাবলী রচনা করেছেন ব্রজবুলি ভাষায়।
- তিনি ‘মৈথিল কৌলিক’ ও ‘অভিনব জয়দেব’ নামে খ্যাত ছিলেন।
বিদ্যাপতি রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- কীর্তিলতা
- গঙ্গাবাক্যাবলী
- বিভাগসার।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১৮৬. ‘মেনকা‘ ও ‘রেণু‘ বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
ক) কপালকুণ্ডলা
খ) দুর্গেশনন্দিনী
গ) মৃণালিনী
ঘ) বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর : গ) মৃণালিনী
ব্যাখ্যা :
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৮৯৪. বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক এবং বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি ‘বাংলার স্কট’ ও ‘সাহিত্যসম্রাট’ নামে পরিচিত।
তাঁর রচিত অন্যতম উপন্যাস ‘মৃণালিনী’।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ষোড়শ শতাব্দীর বাংলাদেশ এবং তুর্কি আক্রমণের পটভূমিতে উপন্যাসটি রচিত।
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্র ও মৃণালিনীর প্রেম এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংগ্রাম ও বেদনাভার; আর এক রহস্যময়ী নারী ‘মেনকা’র ভূমিকা এ উপন্যাসের মূল কাহিনি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর।
১৮৭. ‘ব্যক্তি প্রেম‘ ও ‘গুণ প্রেম‘ কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
ক) ক্ষয়
খ) মানসী
গ) কড়ি ও কোমল
ঘ) সোনার তরী
সঠিক উত্তর : খ) মানসী
ব্যাখ্যা :
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১.:
- তাঁকে বাংলা ছোটগল্পের জনক বলা হয় এবং বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তাঁর রচিত “মানসী” কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং এটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ পরিণতিমূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু “মানসী” কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অনুপম নিদর্শন বলেছেন।
এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- উপহার
- নিঃশব্দ উপহার
- ক্ষণিক মিলন
- নিঃশব্দ কামনা
- অহল্যার প্রতি
- নবদূতির সঙ্ঘলাপ
- মানসিক অভিসার
- পুরুষের উক্তি
- নারীর উক্তি
- ব্যক্তি প্রেম
- গুণ প্রেম
- অনুরাগ
- শেষ উপহার ইত্যাদি।
উৎস: মানসী কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর।
১৮৮. ‘অভীক‘ রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের নায়ক?
ক) নষ্টনীড়
খ) নামমাত্র
গ) রবিবার
ঘ) ল্যাবরেটরি
সঠিক উত্তর : গ) রবিবার
ব্যাখ্যা :
বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প ‘ভিখারিণী’। এটিকেই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প ধরা হয়।
রবীন্দ্রনাথের আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে রচিত ছোটগল্প:
- রবিবার
- শেষ কথা
- ল্যাবরেটরি
এই গল্পগুলো ‘তিন সঙ্গী’ সংকলনে সংযোজিত। এই ছোটগল্পগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য — সময়ের সাইকোলজিক বাস্তবতাকে মান্য করে মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিতে নরনারীর সম্পর্ক বিশ্লেষণ।
- ‘রবিবার’ গল্পের চরিত্র: অভীক কুমার বা অভয়চরণ, বিভা।
- ‘ল্যাবরেটরি’ গল্পের প্রধান চরিত্র: সোহিনী।
- ‘নষ্টনীড়’ গল্পের চরিত্র: চারুলতা, ভূপতি, উমাপতি, মৃণালিনী, অমল ইত্যাদি।
- ‘নামমাত্র’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র: অমিয়া।
উৎস: রবিবার গল্প, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর।
১৮৯. ‘সকলের তরে সকল আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।‘ – কার রচিত পঙ্ক্তি?
ক) রজনীকান্ত সেন
খ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
গ) কামিনী রায়
ঘ) মেঘনাদবধ কাব্যের কবি নয় এমন কেউ
সঠিক উত্তর : গ) কামিনী রায়
ব্যাখ্যা :
উল্লিখিত লাইন দুটি কবি কামিনী রায় রচিত “পরের তরে” কবিতা থেকে গৃহীত।
কামিনী রায় (১৮৬৪–১৯৩৩.:
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায়ের জন্ম ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর, বকুলতলা গ্রামে (বরিশাল)।
- তিনি মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তিনি ‘জ্ঞানবিকাশিনী’ নামে ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন।
- সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক ও জনহিতকর, বিশেষত নারীকল্যাণমূলক কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আলো ও ছায়া’ প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।
অন্যান্য গ্রন্থ:
- নির্মাল্য (১৮৯১.
- পৌরাণিকী (১৮৯৭.
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য, ১৯০৫.
- ধ্রুপদী (অনুবাদ, ১৯০৭.
- মাল্য ও নির্মাল্য (১৯১৩.
- অশোক-সপ্ততি (সনেট, ১৯১৪.
- অজপা (নাটক, ১৯১৫.
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ (১৯১৮.
- ঠাকুরমার চিঠি (১৯২৪.
- দীপ ও ধূপ (১৯২৯.
- জীবনপথে (সনেট, ১৯৩০.।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
‘পরের তরে’
কামিনী রায়
“আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী-পরে,
সকলের তরে সকল আমরা,
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।”
১৯০. ‘আমার স্বামী যেন থাকে দুদ্ধেভাতে‘—এই মনোবাক্যটি কার?
ক) ভবানন্দের
খ) ভাঁড়ুদত্তের
গ) ঈশ্বরী পাটনীর
ঘ) ফুলরার
সঠিক উত্তর : গ) ঈশ্বরী পাটনীর
ব্যাখ্যা :
“আমার স্বামী যেন থাকে দুধেভাতে”— ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের অমর এই উক্তি তথা প্রার্থনাটি করেছেন ঈশ্বরী পাটনী।
- যখন দেবী অন্নদা তাঁর নৌকায় নদী পার হয়ে বর চাইতে বলেন ঈশ্বরী পাটনীকে, তখন ঈশ্বরী পাটনী এই প্রার্থনাটি করেন।
অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- রচয়িতা: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তিনি আঠারো শতকের বাংলা কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবি।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের তিনটি খণ্ড:
১. অন্নদামঙ্গল
২. বিদ্যাসুন্দর
৩. ভবানন্দ–মনসিংহ কাহিনি
উৎস: লাল নীল দীপাবলি – হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৯১. নিচের কোন ব্যক্তি ‘বুদ্ধির মুক্তি‘ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না?
ক) কাজী আবদুল ওদুদ
খ) এস. ওয়াজেদ আলী
গ) আবুল ফজল
ঘ) আবদুল কাদির
সঠিক উত্তর : খ) এস. ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা :
ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ:
- ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ’। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগীয় অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এ প্রতিষ্ঠানের স্লোগান ছিল — “জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আবদ্ধ, মুক্তি সেখানে অসম্ভব”।
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল ‘বুদ্ধির মুক্তি’।
প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন:
- আবুল হোসেন
- মতাদির হোসেন চৌধুরী
- কাজী আবদুল ওদুদ
- আবদুল কাদির
- আবুল ফজল
- আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।
‘বুদ্ধির মুক্তি’ বলতে তাঁরা বোঝাতেন, অন্ধসংস্কার ও শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে মুক্ত করা।
উল্লেখ্য,
এস. ওয়াজেদ আলী ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন না।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর ও বাংলাপিডিয়া।
১৯২. নিচের কোন কাব্য কাজী নজরুল ইসলামের উদার মানবতাবাদী ঐতিহাসিক চিন্তার ধারক?
ক) বিষের বাঁশি
খ) অগ্নিবীণা
গ) সিন্দু-হিন্দোল
ঘ) চক্রবাক
সঠিক উত্তর : ক) বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা :
‘বিষের বাঁশি’:
১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসে (আগস্ট, ১৯২৪. কবি নিজেই ‘বিষের বাঁশি’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।
- একই বছর এ কাব্যগ্রন্থটি সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ। ১৯৪৫ সালের ২৭শে এপ্রিল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়।
- এই গ্রন্থের কবিতাগুলি বিপ্লবধর্মী ও জাতি জাগরণমূলক।
- নজরুলের কবিতায় বিদ্রোহ, যৌবনের উন্মত্ত শক্তি, উদার মানবিকতা, সামাজিক সচেতনতা এবং গীতিমান প্রকাশভঙ্গি – এসবের অপূর্ব সমন্বয় এই কাব্যে পাওয়া যায়।
উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- বিদ্রোহী বাণী
- উদ্বোধন
- উৎসর্গ
- চরকার গান
- জাতির বেদনা
- বাঁশি-গান
- বিদ্রোহীর বাণী
- মুক্তি-পথিক
- যুগের গান
- শিকল-পরা ছেলে ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২. হলো নজরুলের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ‘সিন্দু-হিন্দোল’ (১৯২৮. – প্রেম ও সঙ্গীতঘন কাব্যগ্রন্থ।
- ‘চক্রবাক’ (১৯২৯. – প্রেম ও গানের কাব্যসংকলন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর ও বাংলাপিডিয়া।
১৯৩. নিচের কোনটি বিশ শতকের পত্রিকা?
ক) সাপ্তাহিক বাঙ্গালীর চিঠি
খ) বঙ্গদর্শন
গ) তত্ত্ববোধিনী
ঘ) সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর : ক) শনিবারের চিঠি
ব্যাখ্যা :
‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকা:
- ‘শনিবারের চিঠি’ স্যাটায়ারধর্মী (রসাত্মক, ব্যঙ্গাত্মক) সাহিত্য পত্রিকা। প্রথমদিকে সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল হাস্য–কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্যচর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।
- ১৯৩০–৪০-এর দশকে কলকাতাকেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্য জগতে পত্রিকাটি যথেষ্ট আলোড়ন তোলে।
প্রধান ব্যক্তি:
- পত্রিকাটির প্রাণপুরুষ ছিলেন সজনীকান্ত দাস। তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
অন্যদিকে,
‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্য গঠনে এর ভূমিকা অনন্য।
- ১৮৭৬ সাল পর্যন্ত মাত্র চার বছর পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকা:
- তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকা:
- ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা–সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৮৩১ সালে এ পত্রিকাটি সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হয়; ১৮৩৯ সাল থেকে দৈনিক হিসেবে বেরোতে থাকে।
অতএব, ‘শনিবারের চিঠি’ বিশ শতকের পত্রিকা; বাকি তিনটি উনিশ শতকের।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং Live MCQ লেকচার।
১৯৪. নিচের কোনটি উপন্যাস নয়?
ক) দিবানিশি কাব্য
খ) শেষের কবিতা
গ) পল্লী-সমাজ
ঘ) কবিতার কথা
সঠিক উত্তর : ঘ) কবিতার কথা
ব্যাখ্যা :
‘কবিতার কথা’ — জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ (কবিতা বিষয়ক তত্ত্বগ্রন্থ)।
- এটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি —
“সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি”।
অন্যদিকে,
- ‘শেষের কবিতা’ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস (১৯২৯.। এটি কাব্যোপন্যাস স্বরূপ।
- ‘দিবানিশি কাব্য’ — মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস (১৯৩৫.।
- ‘পল্লী-সমাজ’ — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস (১৯১६); প্রথমে ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং Live MCQ লেকচার।
১৯৫. ‘বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য‘ গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
ক) দীনেশচন্দ্র সেন
খ) গোপাল হালদার
গ) আহমদ শরীফ
ঘ) সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর : গ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা :
আহমদ শরীফ (১৯২১–১৯৯৯.:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য অনুরাগী গবেষক।
- ‘বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য’ গ্রন্থটির রচয়িতা আহমদ শরীফ।
তার রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ‘সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা’ (১৯৬৯.
- ‘দেশ আলোচনা’ (১৯৭০.
- ‘জীবন সমাজ সাহিত্য’ (১৯৭০.
- ‘বিচিত্র চিন্তা’ (১৯৮৬.
- ‘দেশচিন্তা’ (১৯৯৭. ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর।
১৯৬. ‘খোকা‘ ও ‘রশিদু‘ মাহমুদুল হকের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
ক) কালো বরফ
খ) খেলাঘর
গ) অনুর পাঠশালা
ঘ) জীবন আমার বঁধু
সঠিক উত্তর : ঘ) জীবন আমার বঁধু
ব্যাখ্যা :
মাহমুদুল হক একজন বাংলাদেশি কথাশিল্পী।
- তাঁকে বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়।
- তাঁর লেখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুন্সিয়ানা প্রশংসিত।
তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- কালো বরফ (এ উপন্যাসে দেশভাগের কাহিনি বর্ণিত)
- জীবন আমার বঁধু (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)
- খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রেক্ষাপট)
- অনুর পাঠশালা
- নিরাপদ তোড়া
- অশরীরী
- পাতালপুরী
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।
‘জীবন আমার বঁধু’ উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘জীবন আমার বঁধু’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামে এক নিঃসঙ্গ ও জীবনপলাতক মানুষকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, রশিদু প্রমুখ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার প্রতিবেদন।
১৯৭. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক কোনটি?
ক) কবর
খ) বহিপীর
গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ঘ) ওরা কদম আলী
সঠিক উত্তর : খ) বহিপীর
ব্যাখ্যা :
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১., আদমজী পুরস্কার (১৯৬৫., একুশে পদক (১৯৮৩. লাভ করেন।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যকর্ম:
গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প
নাটক:
- বহিপীর
- সূর্য
- তরঙ্গভঙ্গ
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।
উপন্যাস:
- লালসালু
- চাঁদের অমাবস্যা
- কাঁদা নদী কাঁদে
- The Ugly Asian ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- ‘কবর’ — মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক।
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ — সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য।
- ‘ওরা কদম আলী’ — মামুনুর রশীদ রচিত নাটক।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর।
১৯৮. মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদসিন্ধু’ একটি—
ক) মহাকাব্য
খ) ইতিহাসগ্রন্থ
গ) উপন্যাস
ঘ) ইতিহাস-আশ্রিত জীবনীগ্রন্থ
সঠিক উত্তর : গ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা :
মীর মশাররফ হোসেন রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘বিষাদসিন্ধু’ — একটি ইতিহাসাশ্রিত উপন্যাস।
- কারবালার কাহিনির মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও উপন্যাসে ইতিহাসের ওপর সরাসরি নির্ভর না করে কাহিনি বিন্যাস করা হয়েছে।
- হযরত হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামের অধিপতি মু’আবিয়ার একমাত্র পুত্র ইয়াজিদের কারবালায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও তাঁদের করুণ মৃত্যুকাহিনি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
উপন্যাসটির তিনটি পর্ব:
- মহরম পর্ব
- উল্লাস পর্ব
- ইয়াজিদ-বধ পর্ব
মীর মশাররফ হোসেনের অন্যান্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- মুসলিম বীরত্ব
- গরাই নদী বা গৌরী সেতু
উপন্যাস:
- রত্নাবতী
- বিষাদসিন্ধু
- গাজী মিয়ার বস্তানী
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ, একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর।
১৯৯. ‘চাঁদের অমাবস্যা‘ উপন্যাসের যুবক-শিক্ষকের নাম—
ক) আবদুল কাদের
খ) খতিব মিয়া
গ) আকাস আলী
ঘ) আরেফ আলী
সঠিক উত্তর : ঘ) আরেফ আলী
ব্যাখ্যা :
‘চাঁদের অমাবস্যা’ (১৯৬৪. উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচনা করেন।
- এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের এক স্কুলমাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর্জীবনের জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরেফের মনোজগতের প্রতিক্রিয়া ও সংকট এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।
তার অন্যান্য উপন্যাস:
- লালসালু (১৯৪৮.
- কাঁদা নদী কাঁদে
- The Ugly Asian ইত্যাদি।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২০০. ‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যামসমান‘ — পঙ্ক্তিটি কার রচনা?
ক) বিদ্যাপতি
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ) গোবিন্দ দাস
ঘ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
সঠিক উত্তর : খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা :
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক।
মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
- তাঁর জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে।
- তাঁকে বাংলা ছোটগল্পের জনক বলা হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ অবলম্বনে ইংরেজি ‘Song Offerings’ ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘Song Offerings’–এর জন্যই ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত করে; তবে ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি তা ত্যাগ করেন।
আধুনিক কবিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পদাবলী রচনা করেছেন।
- পদাবলী নিয়ে তাঁর রচিত কাব্যের নাম ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’। অধিকাংশ পদই ব্রজবুলি ভাষায়।
- গ্রন্থটি ১৮৮৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’র অন্তর্গত বিখ্যাত পদ:
“মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান!
মেঘবরণ তুঝে, মেঘ জটাজূট রক্ত কমল কর…”
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌম্য শেকর এবং বাংলাপিডিয়া।