I2 মানে দুইটা I— India, Israel
U2 মানে দুইটা U— USA, UAE (আরব আমিরাত)
ইন্দো-আবরাহাম এলায়েন্সঃ এই মিডল ইস্টার্ন কোয়াড তৈরি হইছে ২০২১ এ, আর ফাইনাল সাইন হইছে কবে? ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে, আবরাহাম একর্ড চুক্তির ঠিক ৩ বছর পূর্তির দিন! আবরাহাম একর্ডকে ফলো করেই এই চুক্তি করা হইছে, যার কারণে এর আরেক নাম ইন্দো-আবরাহাম এলায়েন্স। ভারত এর উল্লেখযোগ্য স্বাক্ষরকারীদেশ।
আবরাহাম একর্ড (Abraham Accords):
আবরাহাম একর্ড হইলো প্যালেস্টাইনের স্বার্থ সামনে না রাইখা ইসরায়েলের সাথে আরব রাষ্ট্রগুলার চুক্তি। ফিলিস্তিনিদের রক্তের সাথে বেঈমানি করা এই চুক্তিতে সাইন করেছে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ আরব আমিরাত (UAE) এবং বাহরাইন । আফ্রিকার আছে সুদান ও মরক্কো। সাইন করার পর্যায়ে আছে সৌদি আরব। এর ১ মাস পর ২০২৩ সালের ১৫ই অক্টোবর ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়ে সৌদি আরবের এই চুক্তিতে সাইন করার কথা ছিলো, যেটাকে আটকানোর জন্যই ৭ই অক্টোবর হামাস তুফানুল আকসা শুরু করে, যা ছিলো এই মিডল ইস্টার্ন কোয়াড গঠনের ২ সপ্তাহ পরে! টাইমলাইনের গুরুত্ব এবং কানেকশনটা আমাদের বুঝতে হবে ।
ইন্দো-প্যাসিফিক কোয়াড:
এরপর আছে ইন্দো-প্যাসিফিক কোয়াড, যার সদস্য আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া। এরা বাংলাদেশকে এরমধ্যে ঢুকাইতে চাইছিলো, ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ যায় নাই। ছলেবলে কৌশলেও যেন বাংলাদেশকে এই কোয়াড ব্যবহার করতে না পারে, সেইটা নিয়ে আমরা একাধিক বিবৃতির মধ্যে বলছিলাম।
যাইহোক, এই প্রতিটা চুক্তি বা এলায়েন্সের পেছনে বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। সেগুলো কী, জানেন? 1202 বা মিডল ইস্টার্ন কোয়াড তৈরি হইছে ইরানকে আটকানোর জন্য, আবরাহাম একর্ড চুক্তি হইছে প্যালেস্টাইনের পক্ষে আরব রাষ্ট্রগুলিকে নিষ্ক্রিয় রেখে উলটা ইরানের বিরুদ্ধে খেলানোর জন্য, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহনে ইরানের ইনফ্লুয়েন্স কমানোর জন্য, আর ইন্দো প্যাসিফিক কোয়াড তৈরি হইছে চীনকে আটকানোর জন্য ।
এসবের প্রভাব
আপনি খেয়াল করে দেখেন, এইসব এলায়েন্সের মধ্যে থাকার কারণেই ইরানের বিশেষ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হওয়ার পরেও ভারত ইরানকে সাহায্য তো দূর, তাদের পক্ষে একটা বিবৃতি দিতে পারে নাই, ইসরায়েলের হামলার নিন্দা করতে পারে নাই। উলটা ইরান ভারতকে তাদের যে ‘চাবাহার বন্দর’ চালাইতে দিছিলো, সেইটা দিয়ে ঢুকে ভারতীয়রা ইরানেরই বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হয়ে গোয়েন্দাগিরি করেছে, কিংবা ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে ঝাঁকে ঝাঁকে ঢুকছে মোসাদ এজেন্ট । খতম করে দিছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ লিডারদেরকে।
আমাদের শিক্ষা
এইসব ঘটনা থেকে কি বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা নেয়ার আছে? বাংলাদেশ তার বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের হৃদপিন্ড চট্টগ্রাম বন্দর (নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল) চালাতে দিচ্ছে যে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে, সেটার মালিকানা আরব আমিরাতের হলেও চালায় মূলত ভারতীয়রা। এটার ডেপুটি সিইও একজন ভারতীয়। কিছুদিন আগে ফিল্ড ভিজিটে চট্টগ্রাম বন্দরে ডিপি ওয়ার্ল্ডের যে ২১ জন কর্মকর্তা এসেছিলেন, ২১ জনই ভারতীয়! চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থা চাবাহারের মতো হবে কিনা, এটা কি ভেবে দেখেছি আমরা? ভারত যেটা ইরানের জন্য পারে নি, সেটা কি বাংলাদেশের জন্য পারবে?
অন্যদিকে দেখুন, আরব আমিরাত একই সাথে আব্রাহাম একর্ড এবং 1202 এর সদস্য। ডিপি ওয়ার্ল্ড আবার I2U2 এর সমন্বিত Food Corridor Initiative এর বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। একইসাথে এটি যুক্তরাষ্ট্রের নেভির সহযোগী, এবং ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সহযোগী। ডিপি ওয়ার্ল্ড তার রমরমা ব্যবসার পরিবেশ পাইছে মূলত আব্রাহাম একর্ড চুক্তির পর, যেই চুক্তি ফিলিস্তিনিদের রক্তের সাথে বেঈমানি করে প্রতিষ্ঠিত। সেই ডিপি ওয়ার্ল্ড কিংবা আরব আমিরাত কি দরকারের সময়ে ইসরায়েল-আমেরিকার স্বার্থ বাদ দিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ দেখতে পারবে?
বাংলাদেশের হার্ট চট্টগ্রাম বন্দর আবার কোন জায়গায় সেটা দেখেন, যুদ্ধ-বিগ্রহ চলমান অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আরাকান এর ঠিক পাশে। উপরে যে লিখেছিলাম 1202 (ইন্দো- আবরাহাম এলায়েন্স) বানানো হইছে ইরানকে আটকাতে, অন্যদিকে ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বানানো হইছে চীনকে আটকাতে– এটার একটা উদাহরণ দেখেন।
চীনকে শত্রুতা বানানো
ইরান থেকে তেল নেয়ার জন্য চীন আরাকান থেকে চীনের ইউনান প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত একটা পাইপলাইন বানিয়েছে, এই পাইপলাইনের দখল নিয়ে চীনকে আটকানোর জন্যই আমেরিকা আরাকান আর্মিকে এতোভাবে সাহায্য করছে! এই অঞ্চলে যেকোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্যে পাগলা কুত্তা হয়ে গেছে আমেরিকা, তা দরকারে যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়ে হলেও হোক ! আপনারা জানেন এজন্যে তারা আরাকান আর্মির জন্য খাদ্য সহায়তার নামে করিডোরও তৈরি করতে চাইছে! এমতাবস্থায় বাংলাদেশের কি আসলেই ইরানের ভারতকে চাবাহার দেয়ার মতো করে, ভারতীয়দের পরিচালিত আরব আমিরাতের কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দর দেয়া উচিত?
আমাদের কি ইন্দো-প্যাসিফিক কোয়াড বা ইন্দো-আবরাহাম কোয়াডের স্বার্থে নিজেদের স্বার্থ এবং স্বকীয়তা স্যাক্রিফাইস করা উচিত? রোহিঙ্গাদের স্বার্থ না দেখে ভারত-আমেরিকা জোটের স্বার্থ দেখা উচিত? ঠিক যেমন করে আরবের বাহরাইন, আমিরাত ফিলিস্তিনিদের ভুলে ইসরায়েলের সাথে চুক্তি করেছে? আমরাও কি তাদের সহযোগীদের হাতেই আমাদের হৃদপিণ্ড তুলে দেবো? তাছাড়া, আপনারা কি এখনও মনে করেন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারত- আমেরিকা পরস্পর শত্রু?!
সৌজন্য: মহিউদ্দিন রাহাত।