• 40th-bcs-preliminary-questions
    • 46th BCS
    • bangla-blogs
    • BCS Question Bank
    • Elementor #1295
    • Elementor #8
    • English Blogs
    • Home
    • Privacy Policy
    • Quiz Game
    • Test Page
bangla blogs Blog আন্তর্জাতিক

519. জি- ২০ সম্মেলনের ব্যর্থতা, গ্লোবাল সাউথ ও গ্লোবাল নর্থ এর মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়পূর্বক চীন ও রাশিয়া কিভাবে গ্লোবাল সাউথকে ব্যবহার করে এগিয়ে তা বিস্তারিত বর্ণনা করুন।

March 23, 2024

ভূমিকা  বিশ্ব অর্থব্যবস্থায় দক্ষিণের দেশগুলোর ভূমিকা বাড়ছে- এই বিবেচনা থেকে জি-৭ ও জি-  20 উভয় ফোরামেই নীতিমালা প্রশ্নে কিছুটা শৈথিল্য দেখা গেছে। নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে  হলে ওদের স্বার্থকে উপেক্ষা করা যাবে না- এই চিন্তা থেকে উভয় ফোরামের আলোচ্যসূচিতে  পরিবর্তন এসেছে। বিশেষত ১৯৯৭-৯৮ সালের এশীয় অর্থব্যবস্থার সংকটের পর ঋণভার  লাঘব বা বৈদেশিক ঋণের কার্যকারিতার মতো বিষয় তাদের আলোচ্য সূচিতে এসেছে। 

 এটি একদিকে বাস্তবতার প্রতি মাথা ঝোঁকানো, অন্যদিকে জি-২০ জোটকে অধিক  অংশগ্রহণমূলক করার চেষ্টা বলা যেতে পারে। কিন্তু বাস্তব সত্য হচ্ছে, শুধু নামমাত্র বা লোক  দেখানো মাথা ঝোঁকানোতে বৈশ্বিক দক্ষিণ আর খুশি নয়। তারা বিশ্বসভায় নিজের জন্য যোগ্য  আসনটুকু চায়। ব্রিকসের অধীনে একটি পাল্টা বিশ্বব্যাংক গঠন, একটি বিকল্প আন্তর্জাতিক  মুদ্রার প্রচলন ইত্যাদি সে চেষ্টার উদাহরণ। এসব চেষ্টার ফল খুব ব্যাপক না হলেও জোটের  রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। 

  জি-২০ সম্মেলন  যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল ইউক্রেনে রুশ হামলার নিন্দা।  এর আগের বছর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশিত ভাষাতেই সে  হামলার নিন্দা করা হয়। কিন্তু যে চূড়ান্ত ইশতেহার গৃহীত হয়, তাতে কোথাও রাশিয়াকে  নিন্দা করে একটি কথাও বলা হয়নি। তার বদলে সর্বসম্মত নীতিমালা হিসেবে এক দেশ অন্য  দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হয়- এমন কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নেবে না, শুধু এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় ।

 মূলত ভারত ও চীনের চাপাচাপিতে বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এই তাৎপর্যহীন বক্তব্য মেনে  নিতে হলো। বলা বাহুল্য, এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেউ কেউ বেজায় চটেছে। তাদের মধ্যে একজন  হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। তিনি  ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় এক নিবন্ধে প্রস্তাব রেখেছেন জি-২০ ভেঙে দেওয়া হোক।  বহুমাত্রিক বৈঠক, সলাপরামর্শ ও যৌথ ইশতেহারের ফলে পৃথিবীর বনরাজির আংশিক ধ্বংস  ছাড়া আর কিছুই জি-২০-এর পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়।   

 গ্লোবাল সাউথ ও গ্লোবাল নর্থ  এদিকে গ্লোবাল সাউথ এখন বহুল উচ্চারিত একটি শব্দবন্ধ, যা ইদানীং রাজনীতিক,  অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ইত্যাদি সবারই মুখে মুখে। যদিও ভৌগোলিকভাবে  দক্ষিণ গোলার্ধভুক্ত ৩২টি উন্নয়নশীল দেশ নিয়ে গ্লোবাল সাউথ গঠিত। দেশগুলো উচ্চতর  অক্ষাংশের এবং বিষুবরেখার নিচে। এর মধ্যে আছে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবীয়  দ্বীপপুঞ্জ, ইসরায়েল এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়া এশিয়ার বাকি দেশগুলো এবং  অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল । 

দেখা যাচ্ছে, গ্লোবাল সাউথে অন্তর্ভুক্ত কিছু দেশ যেমন চীন, ভারত ও আফ্রিকার উত্তর  অংশ পড়েছে উত্তর গোলার্ধের ভেতরে। আবার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড দক্ষিণ গোলার্ধভুক্ত  হলেও গ্লোবাল সাউথে ধরা হয় না। সবচেয়ে বেশি ভূমি রয়েছে উত্তর গোলার্ধে, বিশ্ব  জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ এখানে, কিন্তু সম্পদের ৮০ শতাংশ এই দেশগুলোর দখলে। দক্ষিণ  গোলার্ধভুক্ত ইকুয়েটরিয়াল তথা নিরক্ষীয় দেশগুলো যারা মূলত কৃষিপণ্য উৎপাদন করে, উত্তর  গোলার্ধের উন্নত প্রযুক্তির দেশগুলোর চেয়ে, তারা উন্নয়নের সব সূচকেই পিছিয়ে। 

ভূতপূর্ব উপনিবেশগুলোর অবস্থান ছিল মূলত দক্ষিণ গোলার্ধে আর উত্তর গোলার্ধে ছি  উপনিবেশকারীদের বাস। অনেকদিন হলো, উপনিবেশ আর নেই। কিন্তু গ্লোবাল  এখনো মনে করে, তারা গ্লোবাল নর্থ দ্বারা অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে প্রতারণার  বঞ্চনার শিকার। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সব বিশ্ব সংস্থার নীতি পর্যালোচনা করলে এর সত্য  মেলে। গ্লোবাল সাউথের নেতারা মনে করেন, তারাই বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিনিধি। 

অবশ্য এমন দাবি বৈধতা পেতে পারে আমরা যদি উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত বৃ  জনসংখ্যার দেশ ভারত ও দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ চীনকে গ্লোবাল সাউথের গণ্য করি।  উল্লেখ্য, ভারত ও চীন-উভয়ই গ্লোবাল সাউথের নেতা হওয়ার দৌড়ে আছে এবং তার  ইতোমধ্যেই এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে।    

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন  গ্লোবাল সাউথকে ১৯৬১ সালে গঠিত জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন তথা ন্যাম-এর সঙ্গে তুলনা  করা যায়। শীতল যুদ্ধের সময় যেসব দেশ মার্কিন বা সোভিয়েতের কোনো জোটেই থাকতে  চায়নি, তাদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছিল জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন, যার নেতা ছিলেন ভারতের  প্রধানমন্ত্রী নেহরু, ভারতের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান স্থপতি কৃষ্ণ মেনন, যুগোস্লোভাকিয়ার  প্রেসিডেন্ট টিটো, মিসরের প্রেসিডেন্ট নাসের, ঘানার প্রেসিডেন্ট নক্রুমাহ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুকর্ন। 

জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনভুক্ত দেশগুলোই একসময় তৃতীয় বিশ্ব নামে পরিচিতি পায়।  এদের উদ্দেশ্য ছিল শীতল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে তৃতীয় বিশ্বের স্বার্থ রক্ষা করা। প্রতিষ্ঠার প্রথম  তিন দশকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন। যেমন  উপনিবেশমুক্তকরণ, স্বাধীন দেশের জন্ম, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গণতন্ত্রীকরণ ইত্যাদি। ন্যাম  বর্তমানে দুর্বল হলেও এখনো ১২০টি দেশ এর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত। গ্লোবাল সাউথ আদতে  একটি রাজনৈতিক, কূটনৈতিক স্লোগান ।   

 গ্লোবাল সাউথকে চীন ও রাশিয়ার ব্যবহার  গ্লোবাল সাউথকে কেউই আর ভৌগোলিক অর্থে নেয় না। অনেকটা জি৭৭-এর মতো। ১৩৫টি  দেশ নিয়ে গঠিত এই জোট উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমন্বিত অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষারই চেষ্টা  করে যাচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এই  গ্রুপকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মারছেন। নর্থ-সাউথ  তথা উত্তর-দক্ষিণ বিভাজনের আরেকটা দিক হলো জলবায়ু সমস্যা।    

জলবায়ু সমস্যা: উত্তরের শিল্পোন্নত দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে, বাতাসে কার্বন  নির্গমন করে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে, সব প্রজাতির জীবন ধারণ অসম্ভব করে অপরিমেয়  ক্ষতি সাধন করছে, যার প্রধান শিকার গ্লোবাল সাউথ। শিল্পোন্নত গ্লোবাল নর্থ এভাবে মুনাফার  পাহাড় গড়ছে। পক্ষান্তরে কৃষিপ্রধান গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর শস্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন  ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে এবং এভাবে অপরিমেয় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা।   

 ক্ষতিপূরণ: কিন্তু বিনিময়ে গ্লোবাল নর্থ কার্বন নির্গমন কমানোর ও গ্লোবাল সাউথের  ক্ষতিপূরণের জন্য তেমন কিছুই করছে না। করলেও তা যৎসামান্য। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত,  চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে প্রাথমিকভাবে গঠিত ব্রিকসের মধ্য থেকে চীন ও ভারত গ্লোবাল  সাউথের নেতা হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু চীন আবার মার্কিনদের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে  হুমকি হয়ে উঠছে। কারণ, অর্থনৈতিক শক্তি, প্রযুক্তির উল্লম্ফন, অত্যাধুনিক অবকাঠামো  তাদের পরাশক্তির মর্যাদা দিয়েছে।  

 নিজেকে উপস্থাপন ঃ  উল্লেখ্য যে, গ্লোবাল সাউথের নেতা হওয়ার জন্য নিজেকে উন্নত দেশ  হিসেবে দেখানোর চেয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপন করছে। গ্লোবাল সাউথের নেতা  আক্রমণের পর থেকে গ্লোবাল সাউথ ঘিরে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। রাশিয়া নতুন  হওয়া আর এই জোটের কণ্ঠ উচ্চে তুলে ধরাই এখানে মূল লক্ষ্য। রাশিয়ার ইউ  করে গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   

 বাজার সম্প্রসারণ: পশ্চিমাদের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞায় ও অবরোধে রাশিয়ার অর্থনীতি যখন  পিঙ্গু হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে, তখন বিরাজমান বাজারের সম্প্রসারণ ও নতুন বাজারের সন্ধান  করার জন্য গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে বেছে নিয়েছে দেশটি। সমরাস্ত্র, তেল, পারমাণবিক  নির্মাণ ইত্যাদি সব বাজার তারা পেয়েছে এখানেই। ধস নামার পরিবর্তে,  আইএমএফের ভবিষ্যদ্বাণীর চেয়েও বেশি হারে রাশিয়ার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।    

নতুন ন্যারেটিভ: অর্থনৈতিক স্বার্থ ছাড়াও আদর্শিকভাবেও রাশিয়া গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে  একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করছে। ইউক্রেন আক্রমণকে ঘিরে রাশিয়া একটি নতুন ন্যারেটিভ তথা  উপাখ্যান নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এটাকে তারা বলছে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী, মার্কিন ও  পশ্চিমা আধিপত্যবাদবিরোধী যুদ্ধ। নতুনভাবে নির্মিত সেই উপাখ্যানে এ যুদ্ধ প্রতিরক্ষামূলক  এবং প্রতিরোধমূলক, যা তাদের অস্তিত্বের লড়াই। শীতল যুদ্ধের সময় গঠিত ন্যাটো জোটের  সম্প্রসারণ শুধু নয়, এর অস্তিত্ব নিয়েও মানুষ প্রশ্ন তুলছে, যা খুবই যৌক্তিক। 

তার চেয়েও বেশি যৌক্তিক ইউক্রেনে ন্যাটোর সম্প্রসারণে রাশিয়ার নিরাপত্তার শঙ্কা।  ১৯৯১ সালে যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন নেতৃত্বাধীন ওয়ারশ প্যাক্টের অবসান হয়, তখন  রাশিয়াকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ন্যাটোর আর কোনো সম্প্রসারণ ঘটবে না। ইউক্রেনে  ন্যাটোর সম্প্রসারণই এই যুদ্ধের জন্য দায়ী, গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলো, ভূতপূর্ব  কলোনিগুলো রাশিয়া প্রদত্ত এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছে ।   

 পশ্চিমা বিরোধী মনোভাব  যার প্রমাণ, ইউক্রেন আক্রমণের পরপরই পুতিন রাশিয়ায় আফ্রিকার দেশগুলোর এক  সম্মেলন আয়োজন করেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের বেশ কিছু বাণিজ্য চুক্তিও সম্পাদিত হয়।  গাজায় ইসরাইলি হামলায় যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেখানেও গ্লোবাল সাউথ খুব  শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে। গ্লোবাল সাউথ ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার, যখন  যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে চতুর্থবারের মতো ভেটো প্রদান করেছে ।

 এতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় মার্কিনবিরোধী মনোভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।  পশ্চিমের অন্য সব নেতা যখন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা থেকে বিরত; তখন এগিয়ে এসেছেন  প্রেসিডেন্ট পুতিন ও প্রেসিডেন্ট শি । এই মোক্ষম সময়ে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়ে গ্লোবাল  সাউথের নেতা হওয়ার সুযোগ তারা গ্রহণ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। পুতিন ইতোমধ্যেই  রাশিয়ায় ফিলিস্তিনসহ আরব নেতাদের সম্মেলন ডেকেছেন।

  প্রেসিডেন্ট পুতিন পশ্চিমাদের আরোপ করা নজিরবিহীন অবরোধ পাশ কাটিয়ে গ্লোবাল  সাউথভুক্ত দেশগুলোয় তার পণ্য রপ্তানির নতুন বাজার সৃষ্টিতে বা বিরাজমান বাজার  সম্প্রসারণে পুরোপুরি সফল। ভারত, চীন, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার অনেক  দেশ রাশিয়া থেকে ব্যাপক মাত্রায় তেল আমদানি করেছে। এর একটি বিরাট অর্থ আছে।  ইউক্রেন যুদ্ধ বিষয়ে গ্লোবাল সাউথ, পশ্চিমাদের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ন্যাটোর  সম্প্রসারণই যে পুতিনের বিশেষ মিলিটারি অপারেশনের মূল কারণ- এই পুতিনীয় ব্যাখ্যা তারা গ্রহণ করেছে।

 “সমস্যা হলো, গত ২০-২২ বছরে পৃথিবীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গতিপথ বা  ট্রাজেকটরি যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত অনুশাসন না মেনে ভিন্নপথে এগিয়েছে। সোভিয়েত  ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন চেয়েছিল বিশ্বব্যবস্থা তার নেতৃত্বে এক মেরুর ওপর  দাঁড়িয়ে থাকবে। বাস্তবে তা ঘটেনি। কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে  অর্থনৈতিক নেতৃত্ব হারিয়েছে।  একের পর এক যুদ্ধে জড়িয়ে তার সামরিক নেতৃত্বও এখন প্রশ্নবিদ্ধ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে  করুণ অভ্যন্তরীণ সংকট। যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রিপাবলিকান নেতৃত্ব বিশ্বনেতা হওয়ার বদলে  নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্র এখন আর সেই আগের তেমন অবস্থানে নেই যে,  ২০০৩ সালে ইরাকে হামলা চালিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হওয়ার অর্থ পশ্চিম ইউরোপীয়  জোটের অর্থনৈতিক ও সামরিক কবজির জোর কমে আসা ।   

 উপসংহার  ২০০৮ সালে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার শিকার তারা হয়েছে, এতদিনেও সেখান থেকে  বেরিয়ে আসতে পারেনি। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন হামলা এই সংকটকে আরও তীব্র  করে তুলেছে। এসব ঘটনার প্রভাবে বৈশ্বিক নেতৃত্বে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ  করতে এগিয়ে আসে চীন ও ভারত। বিশ্বজোড়া অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা সত্ত্বেও এই দুটি দেশ  যেভাবে বিপদ সামলে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, তা দেখে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই। এখন  তারা সেই সাফল্যের পুরস্কার চায়। তবে বদলে যাওয়া চীন-রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ  কোনদিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

২৩ মার্চ ২০২৪। রায়হান আহমেদ তপাদার লেখক : যুক্তরাজ্য প্রবাসী গবেষক। সূত্র: জনকণ্ঠ।

←Previous
Next→

Recent post

  • Hello world!
    January 21, 2026
  • ৪৬ তম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা
    January 16, 2026
  • How_to_Learn_Vocabulary
    January 16, 2026
  • 103. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রিতে (পাস কোর্সে) পড়ে বিসিএস ক্যাডার
    January 16, 2026
  • চাকুরি_প্রস্তুতি_প্রিলিমিনারি।
    January 16, 2026
  • প্রশাসন ক্যাডার, ৪৪তম বিসিএস
    January 16, 2026

Tags

BCS Exam BCS Model Test BCS Preliminary BCS Preparation BCS Questions BCS Study Materials BCS Syllabus BCS Viva Preparation BCS Written Exam

Categories

  • bangla blogs
  • bangladesh
  • banking and finance
  • bcs questions
  • Blog
  • economy
  • english blogs
  • environment
  • international
  • technology
  • translations
  • Uncategorized
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • পরিবেশ
  • প্রযুক্তি
  • বাংলাদেশ
  • ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স