• 40th-bcs-preliminary-questions
    • 46th BCS
    • bangla-blogs
    • BCS Question Bank
    • Elementor #1295
    • Elementor #8
    • English Blogs
    • Home
    • Privacy Policy
    • Quiz Game
    • Test Page
bangla blogs অর্থনীতি

310. এসএমই খাতে সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও অর্থনীতিতে এর অবদান নিয়ে আলোচনা করুন ।

February 20, 2024

ভূমিকা  নতুন বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারকে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।  বৈষম্যমুক্ত জাতিগঠনে এগিয়ে চলা এ দেশের মানুষকে দেখতে হচ্ছে নানা অস্থিরতা। অন্যান্য  খাতের পাশাপাশি তৈরী পোশাক খাতেও তৈরি হয়েছিল অসন্তোষ। দেশের মূলধারার মানুষকে  স্বাভাবিক জীবন থেকে সরাতে এ ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছে। দেশ ও জাতিকে  স্বাবলম্বী করতে ভূমিকা রাখছে রফতানি শিল্প। আর এ রফতানি শিল্পের বেশির ভাগজুড়ে  রয়েছে পোশাক খাতের অবদান। মোট রফতানি আয়ের ৮৬ শতাংশ আসছে পোশাক শিল্প  থেকে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ কারণে কি বারবার পোশাক খাতে নেমে আসছে কৃত্রিম বিপর্যয়? এমনও  প্রশ্ন এখন সচেতন মহলে জিজ্ঞাসা চিহ্নের মতো দুলছে। 

কারখানা বন্ধ ও বেতন অপরিশোধ  কয়েক দিন আগে ৫২টি পোশাক কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন মালিকপক্ষ।  ৫২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৩টি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং বাকি ৯টিতে সাধারণ ছুটির ঘোষণা  করা হয়। ২০০৬ সালের ১৩ (১) ধারামতে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ কর হয়। তিন সপ্তাহেরও  বেশি সময় ধরে চলা এন-অসন্তোষ যদিও আলোচনার অবসান হয়েছে, তবুও যেন আস্থা  ফিরছে না। এর আগেও শ্রমিক অসন্তোষ হওয়ায় কারখানা বন্ধ করা হয়েছিল। সে সময়  কোনো কোনো কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত বেতন না দেয়ার জোরালো অভিযোগ ছিল।

 পোশাক কারখানার মালিকদের তথ্যমতে, আগস্ট মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে  এমন কারখানার সংখ্যা দুই হাজার ৩৩টি বা ৯৫ শতাংশ। বেতন দিতে পারেনি ১১১টি  কারখানা বা ৫ শতাংশ। শ্রম-অসন্তোষে এর মধ্যে ১৫-২০ শতাংশ রফতানি আদেশ বাতিল  হয়েছে বলে ১২ সেপ্টেম্বর এই তথ্য জানিয়েছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা।

 শ্রমিক অসন্তোষ কেন?  প্রশ্ন আসতে পারে, কেন ঘন ঘন হচ্ছে শ্রমিক অসন্তোষ? বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন  খাতে বৈষম্য থাকার তা পর্যায়ক্রমে এ অন্তবর্তী সরকার কোনো কোনো খাতে কিছু বৈষম্য দূর  করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পোশাক খাতে তুলে আনা হয়েছে কিছু  বৈষম্যমূলক চিত্র। এর মধ্যে মালিকপক্ষের কেউ অন্যান্য সুবিধাসহ ব্যাংক লোনের সুদ  মওকুফ পাওয়ার ইচ্ছায় শ্রমিকদের বেতন বাকি রেখে কারখানা বন্ধ রেখেছিলেন। আর তারা  ব্যাংকসহ সরকারের ওপর মহলে ধরনা দিচ্ছিলেন। অন্যদিকে শ্রমিকরাও আঁটছিলেন আলাদা  কৌশল। শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের ১৮ দফা দাবি মেনে নিয়ে কাজে ফেরানোর সিদ্ধান্ত হলো। 

আমাদের পোশাক শিল্প আন্তর্জাতিকভাবে রয়েছে ঈর্ষণীয় পর্যায়ে। এ কারণে দেশী-বিদেশী  অপশক্তি উপলক্ষ সৃষ্টি করে শ্রমিকদের ক্ষেপিয়ে তুলছে বারবার। ন্যায্য অধিকার আদায়ের  নামে কারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে বা হামলা করা হলে যে শিল্প ধ্বংস হবে, তা  সাধারণ শ্রমিকরা কতটা ভাবছেন- এ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। তাদের প্রতিবার বোঝানো হয়,  তারা শোষিত। তাদের অধিকার নিজেদের আদায় করতে হবে। কিন্তু দাবি আদায়ের ফাঁদে  পড়ে যে পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে শিল্প ধ্বংস হতে পারে, সেই সাথে লাখ লাখ  শ্রমিকের কর্মপরিধি সঙ্কুচিত হতে পারে- এ বিষয়টা তাদের বোঝায় না কেউ।

 পোশাক রপ্তানিতে বিশ্ব  – এক পরিসংখ্যান মতে, দেশে পোশাক শিল্পে অস্থিরতায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কয়েকটি  রফতানি কারখানায় নতুন করে ৫৪ মিলিয়ন ডলারের আদেশ বেশি পেয়েছে। নয়াদিল্লির  বাইরের আরেকটি গ্রুপের মতে, এ চলমান পরিস্থিতিতে স্প্যানিশ ফ্যাশন ফার্ম জারার কাছ  থেকে ১৫ শতাংশ বেশি অর্ডার পেয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যান্ড এই জারা, এইচঅ্যান্ডএম, র্যাং  লারসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান আমাদের পোশাক পণ্যের অন্যতম পুরোনো ধারার ক্রেতা।

  পোশাক শিল্পে দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক বাজারে শীর্ষ আছে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে  বাংলাদেশ। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের খ্যাতি পোশাকপণ্য যে উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তা  প্রতিযোগী অন্যান্য দেশ এখনো ঈর্ষার চোখে দেখে। আমাদের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান,  শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার পোশাকপণ্য রয়েছে। কিন্তু এ দেশগুলো বাংলাদেশের  মতো সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারেনি। তাছাড়া পোশাক শিল্পের বৃহত্তর বাজার আমেরিকা,  যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে চীনের আন্তঃসম্পর্কের অবনতি হওয়ায় বাংলাদেশের  সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। সেটা আরো কয়েক বছর আগের কথা। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ  বিশ্বে অবস্থান আগের মতো ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। 

মেড ইন বাংলাদেশ  বর্তমানে বাংলাদেশে ২২৯টি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পোশাক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৯১টি  যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) মর্যাদাপূর্ণ নিউ প্লাটিনাম  সনদধারী। ১২৪টি কারখানা গোল্ড, ১০টি সিলভার মর্যাদা ও বাকি কারখানার সার্টিফায়েড  সনদ রয়েছে। শুধু তাই নয়, অবাক করার মতো বিষয়, বিশ্বের সব দেশে পোশাক  তৈরিকারকদের যত কারখানা আছে, তাদের মধ্যে ১০টি পরিবেশবান্ধব কারখানার ৯টিই  বাংলাদেশের দখলে। এ অর্জন জাতিকে বিশ্বজুড়ে গর্বের স্থানে নিয়ে গেছে। তাই ‘মেড ইন  বাংলাদেশ লেখা’ পোশাক সারা বিশ্বের নামিদামি ফ্যাশন হাউজগুলোতে অনেক আগে থেকে  স্থান করে নিয়ে আজ অবধি অবস্থান ধরে রেখেছে।

  আমাদের পোশাক শিল্প একদিনে এত বড় অর্জনের অধিকারী হয়নি। ৪. বছরে পথচলায়  এ শিল্প নিরন্তর এগিয়ে এসে পৌঁছেছে আজকের পর্যায়ে। দক্ষিণ এশিয়ার বড় অর্থনৈতিক  দেশ ভারত ও পাকিস্তানের রফতানি কমলেও একই সময়ে মানে গত এক দশকে বাংলাদেশের  পোশাক রফতানি বেড়েছে ৮০ শতাংশ। বিশ্বে পোশাক শিল্পে সত্যি বিস্ময়কর উত্থান বাংলাদেশের। 

পোশাক খাতে আয়  – আরেক পরিসংখ্যান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪৬ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে  ৪৬ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে এ পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে প্রচলিত  বাজারের চেয়ে নতুন বাজারের অগ্রগতি হয়েছে ৩১.৩৮ শতাংশ। এ অগ্রগতিও একটা  সম্ভাবনা বহন করে।  দেশের পোশাক খাত এখন আরো বিস্তৃত। এ খাতের প্রধান বাজার ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও  যুক্তরাষ্ট্র। এর বাইরে জাপান, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া, চীন, আরব আমিরাত, মেক্সিকো,  সৌদি আরব, তুরস্ক, আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, চিলি ও ব্রাজিল। প্রতিবেশী ভারতেও কিছু  পোশাক রফতানি হয়। এক কথায় আমাদের পোশাকপণ্যের বিস্তৃতি এখন বিশ্বের সর্বত্র।

 দেশের অর্থনীতিতে পোশাক খাত

  লাখো বেকারের দেশে কর্মসংস্থানেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছে পোশাক খাত। বর্তমানে পোশাক  খাতে ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মরত। এর মধ্যে ৩০ লাখ নারী। দুই কোটি উপকারভোগী  মানুষ এ শিল্পের ছায়ায় অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে। আর এ শ্রমিকদের প্রায় সবাই গ্রামীণ  জনপদের। পোশাক কর্মীদের রোজগারে সমৃদ্ধ হচ্ছে তাদের পরিবার। সেই সাথে এর  সুবাতাস গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করছে। গ্রামের পরিবার থেকে হাটবাজার- সবখানে  এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক পরিবার সচ্ছলতার আলোয় আলোকিত হ  নতুন পাকা-আধা পাকা ঘরবাড়িতে সজ্জিত হচ্ছে। অর্থাৎ জাতীয় অর্থনীতি থেকে শুরু করে  গ্রামীণ অর্থনীতি পর্যন্ত যখন পোশাক শিল্পের আয়ের প্রভাব, তখন দেশকে বেকায়দায় ফেলতে  বারবাষ্ট্র শ্রমিক অসন্তোষ আমাদের পথযাত্রা বিঘ্নিত করছে। 

সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে  কাস্টমস প্রক্রিয়াগুলো সহজীকরণ:

 বিশেষ করে এই মুহূর্তে কাস্টমস প্রক্রিয়াগুলো সহজীকরণ  করা দরকার । প্রতিযোগিতায় আরো সক্ষমতা অর্জনের জন্য পণ্য খালাসের সময়সীমা ১০-১৫  দিন থেকে কমিয়ে আনা অত্যাবশ্যক। শনিবারসহ সপ্তাহে ছয় দিন শুল্ক কার্যক্রম চালু রাখা  হলে এবং কায়িক পদ্ধতিতে বিরাজমান প্রতিবন্ধকতাগুলো কমিয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রবর্তন  বরা হলে দক্ষতা বাড়বে। গাজীপুরের মতো শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পণ্য পরিবহনে  অহেতুক সমক্ষেপণ কমাতে এবং সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিত করার জন্য সড়কগুলোর  সংস্কার ও উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত বন্দর সুবিধা এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহসহ  সামগ্রিক লজিস্টিক অবকাঠাময় খাতে উন্নয়ন করা দরকার। এতে পোশাকশিল্পের আমদানি-  রপ্তানিসহ সকল কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে সম্পাদন করা সহজ হবে।

 অটোমেশন ও ডিজিটালাজেশন:

এই শিল্পে আমাদের অটোমেশন ও ডিজিটালাজেশন বাবদ  বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলো  গ্রহণ করে উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো যেতে পারে। কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করা  যেতে পারে। এই শিল্পকে তা উচ্চ মূল্য সংযোজিত পল্য উৎপাদনে রূপান্তরিত হতে সহায়তা  করতে পারে। প্রবৃদ্ধির সহায়তার জন্য পরিবহন নেটওয়ার্ক ও জ্বালানি সরবরাহের মতো  অবকাঠানোগুলোর ক্রমাগত উন্নয়ন অপরিহার্য। টেকসই জ্বালানি সমাধানে বিনিয়োগ করা ও  বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার আধুনিকীকরণ দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতায় অবদান রাখতে পারে। 

কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন: কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।  বিশেষ করে ভাষা, যোগাযোগ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো গেলে তা একদিকে  উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে এ ক্ষেত্রগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের ওপর শিল্পের  নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে। ফলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। এছাড়া নিরাপদ কাজের  পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ন্যয্য মজুরি, সুবিধা ও সুরক্ষার মাধ্যমে কর্মীদের কল্যাণ বাড়ানো  খুবই গুরুতপূর্ণ বিষয়। কর্মীদের অধিকারগুলো সমুন্নত রাখা এবং কারখানা ব্যবস্থাপনা ও ট্রেড  ইউনিয়নের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের ব্যবস্থা থাকলে তা একটি স্থিতিশীল ও অনুপ্রাণিত  কর্মীবাহিনী বজায় রাখতে সাহায্য করবে। 

পণ্যের বৈচিত্র্যতা: এই শিল্পে পণ্যের অফারে বৈচিত্র্য আনতে হবে। স্পোর্টসওয়্যার,  টেকনিক্যাল অ্যাপারেল ও বিশেষায়িত পোশাকের মতো উচ্চমূল্যের পণ্যের ক্যাটাগরিতে  স্থানান্তর গতানুগতিক স্বল্পমূল্যের পণ্য উৎপাদনের ওপর শিল্পের নির্ভরতা কমিয়ে দেবে।  ফেব্রিক ও উপকরণে উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দিতে হবে। রপ্তানি পণ্য পরিবেশবান্ধব ও  টেকসই ফেবিক্সের ব্যবহার শুধু বৈশ্বিক মানই পূরণ করবে না, বরং বৈশ্বিক ফ্যাশন বাজারে  টেকসই পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে সহায়তা করবে। এজন্য সুশাসন ও  সরকরি নীতিসহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এই শিল্পের প্রবৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা  ও একটি নিরপেক্ষ ব্যবসায়িক পরিবেশ অপরিহার্য। শিল্পের জন্য দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও সহায়তা  নিশ্চিত করতে ব্যাংক, শুল্ক ও কর বিভাগে সংস্কার আনাও প্রয়োজন। এছাড়া বৈশ্বিক মানের  সঙ্গে সংগতি রেখে কমপ্লায়েন্স প্রতিপালন করতে হবে। বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার  জন্য উৎপাদন, শ্রম অধিকার ও পরিবেশগত সাসাটেইনেবিলিটি প্রভৃতি ক্ষেত্রে আন্তর্জতিক মান  বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 ব্রান্ড শক্তিশালীকরণ : প্রকৃতপক্ষে বৈশ্বিক বাজারে একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে  বাংলাদেশের ব্র্যান্ডকে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সাসটেইনেবিলিটির ক্ষেত্রে  বাংলাদেশের অর্জনগুলো তুলে ধরতে হবে। যেমন সবুজ শিল্পায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্ব  প্রদনসহ এগিয়ে যাওয়া আশাব্যঞ্জক একটি দিক। এই প্রচারণা এথিক্যাল সোর্সিং গন্তব্য  হিসেবে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করবে। 

ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ: এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের জন্য চাপ দিতে হবে।  স্বল্পমূল্যের উৎপাদন মডেল থেকে দূরে সরে গিয়ে এমন একটি উৎপাদন মডেলে যেতে হবে,  যেখানে উচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্য থাকবে এবং উচ্চ মজুরি প্রদান ও উন্নত কর্মপরিবেশ  নিশ্চিত করার জন্য ন্যায্যমূল্যও থাকবে, যা প্রকারান্তরে এখানে দক্ষ কর্মীদের আকর্ষণ করবে  ও তাদের এই শিলে ধরে রাখবে। 

সামাজিক ও নৈতিক বিষয়: সামাজিক ও নৈতিক বিবেচনাকেও এখানে প্রাধান্য দিতে হবে।  দুর্নীতি দমন, ব্যাবসায়িক কার্যক্রম ও সরকারি প্রক্রিয়াগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ বৈশ্বিক  বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এবং আরো আন্তর্জাতিক  ক্রেতাদের আকৃষ্ট করবে। নিয়োগকর্তা এবং কর্মীদের মধ্যে নিয়মিত সম্পৃক্ততা, নৈতিক শ্রম  অনুশীলনগুলোর কঠোরভাবে প্রতিপালন এই শিল্পকে সামাজিক বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণে –  সহায়তা করবে এবং বিশ্বব্যাপী শিল্পের সুনাম বৃদ্ধি করবে।

 অন্যান্য কার্যক্রমঃ অন্যদিকে নতুন ও উদীয়মান বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজন  উন্নত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং নেগোশিয়েশন দক্ষতা। উচ্চ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময়  অপ্রচলিত বাজারগুলোতে মনোযোগ প্রদান প্রচলিত বাজারগুলোর ওপর নির্ভরতা হ্রাস করবে  এবং প্রচলিত বাজারগুলোর ওপর একতরফাভাবে নির্ভর করার ঝুঁকিও কমিয়ে দিবে। এছাড়া  সাপ্লাই চেইনকে শক্তিশালী করা, বিশেষ করে লিড টাইম কমিয়ে ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে,  বাজারে প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখা অপরিহার্য। এর মধ্য রয়েছে সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনার  বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো গ্রহণ এবং উৎপাদন অপটিমাইজ করার জন্য প্রযুক্তির  সুবিধা গ্রহণ করা।

 ২১ আগস্ট ২০২৪ | মো. মহিউদ্দিন রুবেল। লেখক: বাংলাদেশ পোশাক  প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট  লিমিটেডের অতিরিভত ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সূত্র: ইত্তেফাক। 

310. এসএমই খাতে সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও অর্থনীতিতে এর অবদান নিয়ে আলোচনা করুন ।

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিশেষ করে দ্রুত এবং মজবুত শিল্পভিত্তি গড়ে তোলার জন্য  ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বে এমন একটি দেশের উদাহরণ  দেওয়া যাবে না, যারা এসএমই খাতকে অবজ্ঞা করে উন্নতি অর্জন করতে পেরেছে। এসএমই  শিল্প কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এসএমই খাতের উন্নয়ন এবং বিকাশের  জন্য ২০০৭ সাল থেকেই এসএমই ফাউন্ডেশন গঠনের কাজ শুরু হয়। 

এসএমই খাতের সম্ভাবনা :   কেউ একজন চাইলেই দক্ষ উদ্যোক্তা হতে পারেন না। এজন্য তাকে বেশ কিছু গুণাবলি  অর্জন করতে হয়। তাকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি  জ্ঞান থাকাতে হয়। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হয়।  আমাদের দেশের অধিকাংশ এসএমই শিল্প অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে এবং অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে  কাজ করে। আমাদের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হচ্ছে এসব উদ্যোক্তাকে আনুষ্ঠানিক  খাতে নিয়ে আসা। সরকারের যেসব সেবামূলক কারিগরি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে,  এসএমই উদ্যোক্তাগণ সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এসএমই  ফাউন্ডেশন উদ্যোক্তাদের এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে দিয়ে সহযোগিতা পাওয়ার  পথ উন্মুক্ত করে। যে কোনো কাজ সঠিকভাবে করতে হলে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।  কারণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই একজন উদ্যোক্তার সুপ্ত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলা সম্ভব। আমরা  এসএমই সেক্টরের উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযোগী করে গড়ে তোলার কাজ করছি।

 সরকার এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন বাস্তবসম্মত কার্যক্রম গ্রহণ  করেছে। এসএমই সেক্টরকে থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এমএমই  উদ্যোক্তাদের নানাবিধ সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে এসএমই  উদ্যোক্তাগণ তাদের বিকশিত করার সুযোগ পাচ্ছেন। টেকনোলজি ট্রান্সফার এসএমই খাতের  জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ এসএমই উদ্যোক্তাই এখনো  সনাতন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে তাদের  উৎপাদনশীলতা পুরো মাত্রায় কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না ।

  এখন অনেক এসএমই উদ্যোক্তাই ধীরে ধীরে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত এবং  ব্যবহারে উদ্যোগী হচ্ছেন। এসএমই সেক্টরে নতুন নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং  উদ্যোক্তাদের দক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিও পাচ্ছে। বাংলাদেশে এসএমই ফাউন্ডেশনই  প্রথম ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের ক্লাস্টার-ভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে। 

এসএমই ফাউন্ডেশন যেভাবে ঋণের ব্যবস্থা করে  এসএমই ফাউন্ডেশন কোনো উদ্যোক্তাকে ঋণ প্রদান করে না। ফাউন্ডেশন উদ্যোক্তা এবং  ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করে দেয় মাত্র। অর্থাৎ এসএমই ফাউন্ডেশন  উদ্যোক্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে যোগসূত্র তৈরি করে দেয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান  থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা আছে, আমরা তা দূর করার চেষ্টা করি।  এসএমই ফাউন্ডেশন কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। সেই সব চুক্তিবদ্ধ  প্রতিষ্ঠান এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করে থাকে। এ পর্যন্ত ১৭৭টি ক্লাস্টার চিহ্নিতকরণ  করা হয়েছে। আরো কয়েকটি ক্লাস্টার কিছু দিনের মধ্যেই গঠন করা সম্ভব হবে। তৈরি  পোশাক শিল্প থেকে যে বাই প্রোডাক্ট পাওয়া যায়, তা ব্যবহার করে নতুন পণ্য উৎপাদন করা  হচ্ছে। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে কাজ করা হচ্ছে। মৃৎশিল্পের সঙ্গে কাজ চলছে। ইমিটেশন  জুয়েলারি এবং ক্রিকেট ব্যাট তৈরি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। 

এসএমই খাতের খেলাপিচিত্র 

এসএমই উদ্যোক্তাদের যে ঋণ দেওয়া হচ্ছে, তার পরিমাণ খুবই কম। কিন্তু আমরা একটি  মডেল দাঁড় করাতে চাই। চুক্তিভুক্ত সহযোগী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আমরা বোঝাতে  চাচ্ছি এইভাবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া সম্ভব এবং প্রদত্ত ঋণের কিস্তি নির্ধারিত সময়ে  ফেরত আসে। ২০০৯ সাল থেকে এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অথবা সহযোগিতায় যেসব  এসএমই উদ্যোক্তা ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করেছেন, তাদের কিস্তি ফেরতদানের হার খুবই  সন্তোষজনক। এই খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ খুবই সামান্য। যারা ব্যাংক ও আর্থিক  প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, তাদের মনোজগতে এক ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

 অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা  বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯ সালে এসএমই উইন্ডো খোলে। এখন তা একটি পরিপূর্ণ বিভাগে  পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে অত্যন্ত তৎপর রয়েছে।  আগে কটেজ এবং মাইক্রো শিল্প এসএমই সেক্টরের অওতাভুক্ত ছিল না। ফলে কুটির এবং  অতিক্ষুদ্র শিল্পের উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন পেতে সমস্যা হতো। বাংলাদেশ ব্যাংক  কয়েক বছর আগে এসএমই সেক্টরের সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনেছে। তারা কুটির এবং অতিক্ষুদ্র  মহিদ’স সম্পাদকীয় সমাচার বিশেষ সংখ্যা ৯১  শিল্পকে এসএমই খাতের আওতাভুক্ত করে এই খাতের নতুন নামকরণ করেছে কটেজ,  মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ। ফলে প্রাতিষ্ঠানেক সূত্র থেকে এই খাতের  উদ্যোক্তাদের ঋণ বা অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যা দূর হয়েছে। 

এ খাতে সংস্কার ও চ্যালেঞ্জ  ২০২৬ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত তালিকায় উত্তীর্ণ হওয়ার ব্যবসায়-  বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হবে। সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের সঙ্গে এসএমই  খাতের উদ্যোক্তাগণ যাতে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন, সেজন্য বিভিন্ন আইন-কানুন  পরিবর্তন/সংস্কার করা হচ্ছে। সরকারের যে রেগুলেটরি বডি আছে, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক  বজায় রেখে এই সেক্টরের উন্নয়নের জন্য কাজ চলছে। বাংলাদেশের কিছু কিছু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা  তাদের উৎপাদিত পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশের বাজারে বিক্রি করছেন। স্থানীয়  বাজারেও এসএমই পণ্যের চাহিদা দিন দিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিজিটাল মার্কেট বিশ্বব্যাপী নতুন  সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এসএমই সেক্টরের উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব।   

শুধু এসএমই পণ্যই নয়, যে কোনো পণ্য ব্যবসায় সফলতা অর্জন করতে হলে সঠিক  মার্কেটিং সিস্টেম সম্পর্কে জানতে হবে। অন্যথায় ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করেও  সফলতা পাওয়া যাবে না। ফেইস বুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। তারা তাদের  মার্কেট প্লেসে আমাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ দিচ্ছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের তারা প্রশিক্ষণ  দানের ব্যবস্থা করছে। আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ এসএমই পণ্য বিপণনের  সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। একইসঙ্গে আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্প  গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ এসএমই সেক্টরের গুণগত পরিবর্তন সাধন করবে বলে আশা  করা যাচ্ছে। এসএমই খাতের উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক যে চিন্তাভাবনাগুলো আছে, তার সঙ্গে  স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে ।

  এসএমই খাতের অবদান 

বাংলাদেশের জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ১২ থেকে ১৪ শতাংশের মতো। জিডিপিতে  এসএমই খাতের অবদান ২৮ থেকে ৩০ শতাংশের মতো। তবে জিডিপিতে এসএমই খাতের  অবদান নিয়ে তুষ্ট হবার কিছু নেই। কারণ আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর জিডিপিতে  এসএমই খাতের অবদান অনেক বেশি। কোনো কোনো দেশের জিডিপিতে এসএমই খাতের  অবদান ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মতো। দেশে যারা বৃহৎ শিল্পের উদ্যোক্তা বা মালিক, তাদের  অনেকেই যাত্রা শুরু করেছিলেন এসএমই খাত দিয়ে। এসএমই খাতকে বৃহৎ শিল্পের পটভূমি বলা যেতে পারে। 

ভবিষ্যতে সফলতার সম্ভাবনা

  কোনো একজন উদ্যোক্তা যদি এসএমই খাতে সাফল্য প্রদর্শন করতে পারেন, তাহলে তার  পক্ষে বৃহৎ শিল্প স্থাপন করে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। হঠাৎ করেই একজনের পক্ষে  বৃহৎ শিল্পের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা সম্ভব হয় না। এসএমই খাতের শিল্পে অভিজ্ঞতা থাকলে বৃহৎ  শিল্প স্থাপন করে সফল হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। আজকে যারা তৈরি  পোশাক শিল্পের বড় বড় উদ্যোক্তা, তারা অনেকেই প্রাথমিক পর্যায়ে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে  কাজ শুরু করেছিলেন। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে যদি দ্রুত শিল্পায়ন করতে চাই,  তাহলে আমাদের অবশ্যই এসএমই সেক্টরের ওপর বেশি জোর দিতে হবে। 

 আমাদের দেশের মানুষের শিল্পে বিনিয়োগের মতো উদ্বৃত্ত অর্থের অভাব রয়েছে। তাই  চাইলেই সবার পক্ষে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়না। এক্ষেত্রে এসএমই সেক্টরের  বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা শিল্পায়নের পথে যাত্রা শুরু করতে পারেন। উন্নত দেশগুলোতে  সাব-কন্টাক্টিংয়ের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন করা হয়। আমাদের দেশেও সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের  মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন করা হয়। কিন্তু তা খুব সীমিত পরিসরে। এটা বাড়ানো যেতে পারে।  আমাদের শিল্পায়ন নীতিমালায় এসএমই খাতের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আমরা  অবশ্যই বৃহৎ শিল্প স্থাপন করব দেশের অর্থনীতির প্রয়োজনে। কিন্তু তাই বলে এসএমই  খাতকে অবজ্ঞা করে নয়। এসএমই খাতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে,  যা চূড়ান্ত পর্যায়ে দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। প্রফেসর ড. মো. মাসুদুর  রহমান লেখক : মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সূত্র: ইত্তেফাক। 

←Previous
Next→

Recent post

  • Hello world!
    January 21, 2026
  • ৪৬ তম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা
    January 16, 2026
  • How_to_Learn_Vocabulary
    January 16, 2026
  • 103. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রিতে (পাস কোর্সে) পড়ে বিসিএস ক্যাডার
    January 16, 2026
  • চাকুরি_প্রস্তুতি_প্রিলিমিনারি।
    January 16, 2026
  • প্রশাসন ক্যাডার, ৪৪তম বিসিএস
    January 16, 2026

Tags

Categories

  • bangla blogs
  • bangladesh
  • banking and finance
  • bcs questions
  • Blog
  • economy
  • english blogs
  • environment
  • international
  • technology
  • translations
  • Uncategorized
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • পরিবেশ
  • প্রযুক্তি
  • বাংলাদেশ
  • ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স