মানুষের মৌলিক প্রয়োজন হলো অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা ও এসব চাহিদা পূরণে অক্ষমতাই হচ্ছে দারিদ্র্য। বিশ্ব ব্যাংকের মতে যাদের দৈনিক মাথাপিছু আয় ১.৯০ ডলারের কম তারা দরিদ্র। ১৯৭৩-৭৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম খানা ব্যয় জরিপ (Household Expenditure Survey – HES) পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১-৯২ সাল পর্যন্ত আরও কয়েকটি জরিপ পরিচালিত হয়। খাদ্য শক্তি গ্রহণ (Food Energy Intake— FEI) এবং প্রত্যক্ষ ক্যালোরি গ্রহণ (Direct Calory Intake-DCI) পদ্ধতিকে ভিত্তি ধরে এসব জরিপ পরিচালনা করা হয়। অন্যদিকে খাদ্য গ্রহণের সূচক অনুযায়ী যারা প্রতিদিন ২১২২ কিলোক্যালোরি কম খাবার গ্রহণ করে তারা মূলত দারিদ্র্য সীমার নিচে অবস্থান করে অর্থাৎ এরূপ জনপ্রতি খাদ্যগ্রহণকে বলা হয় অনপেক্ষ দারিদ্র্যে (Absolute Poverty) এবং যারা প্রতিদিন ১৮০৫ কিলোক্যালরির কম খাবার পায় তারা চরম দারিদ্র্যের মুখোমুখি অর্থাৎ এরূপ খাদ্যগ্রহণকে বলা হয় চরম দারিদ্র্যে (Hard Core Poverty)। এ দারিদ্র্য হলো সমাজের অভিশাপ।
অন্যদিকে দারিদ্র্য বিমোচন হলো উপরিউক্ত অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া। অর্থাৎ দারিদ্র্য বিমোচন হলো মানুষের অর্থনৈতিক ও মানবিক কর্মসূচির সমষ্টি যার লক্ষ্যে হলো মানুষকে দারিদ্র্য থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি দেওয়া। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের দারিদ্র্য হার ছিল ৫৬.৭ শতাংশ এবং ২০০৫ সালে যেখানে বাংলাদেশে দরিদ্র হার ছিল ৪০ শতাংশ সেখানে ২০১৮ সালে দাঁড়ায় ২১.৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে দরিদ্র হার কমে দাঁড়িয়েছে ২০.৫ শতাংশ। খানা ও ব্যয় জরিপ প্রতিবেদনে ২০২২ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ এবং অতি দারিদ্র্যের হার ৫.৬ শতাংশ। ২০২১-২২ সালের সংশোধিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১,১১,৪৬৭.০০ কোটি টাকা। যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১.৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,১৩,৫৭৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ বরাদ্দ মোট বাজেটের ১৬.৭৫ এবং জিডিপির ২.৫৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার ১৫.৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে অষ্টম পরিকল্পনা বার্ষিকীতে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ৯.৭ শতাংশ এবং অপুষ্ঠির হার ১০ শতাংশের নিচে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ সরকার যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে
দারিদ্র্য হ্রাসকরণে সরকারের গৃহীত নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা, ক্ষুদ্রঋণ প্রদানসহ নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তারমধ্যে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’, ‘গৃহায়ন’, ‘আশ্রয়ন’, ‘ঘরে ফেরা’, কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বয়স্কভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তাদের ভাতা, দুঃস্থ মহিলাদের ভাতা প্রদানের মাধ্যমে সরকার দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে কাজ করে যাচ্ছে।
১. প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৭৩-৭৮): প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতে গ্রামীণ উন্নয়নের প্রচেষ্টার পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয় এবং সম্পদের সুষম বন্টনের নিশ্চয়তাকল্পে এরূপ পরিকল্পনায় দৃষ্টি দেওয়া হয়।
২. দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৮০-৮৫): দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে দরিদ্র মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস করা।
৩. তৃতীয় ও চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা : তৃতীয় (১৯৮৫-১৯৯০) ও চতুর্থ (১৯৯০-১৯৯৫) পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কৃষি, অবকাঠামো, ভৌতকাঠামো ও কৃষিবহির্ভুত খাতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানমুখী সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীতি প্রণয়ন করা ।
৪. পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৯৭-২০০২): পঞ্চম পরিকল্পনা বার্ষিকীতে দরিদ্র বিমোচনের হার ৪৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৩০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছিল।
৫.৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১১-২০১৫): এমডিজি অর্জনের লক্ষ্যে তথা এমডিজির সাতটি লক্ষ্যে অর্জনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের অর্থনীতি বিভাগ ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে থাকে। ২০১১-১২ সালে পরিকল্পনার মূলমন্ত্র নির্ধারণ করা হয় Accelerating growth and Reducing Poverty. বর্ণিত পরিকল্পনার আওতায় মোট বিনিয়োগ প্রাক্কলন করা হয় ১৩ লাখ ৪৭ হাজার কোট টাকা। এ অনুযায়ী প্রতিবছর ৭.৩ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।
৬. সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০) প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য নিরসনের সঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কর্মকৌশল, নীতি ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গড়ে বার্ষিক ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২০ সাল নাগাদ ৮ শতাংশে পৌঁছবে । সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনের একটি অন্যতম কৌশল হবে অধিক হারে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগে গতিশীলতা আনা ৷
৭. অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২০-২৫) অষ্টম পরিকল্পনা বার্ষিকী পরিকল্পনায় গৃহীত কার্যক্রমের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট, বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২০২১-এর মূল লক্ষ্যেসমূহ অর্জন ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে সহায়ক হবে। এ পরিকল্পনায় দুটি মূল বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে -ত্বরান্বিত সমৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি । ৮ম পরিকল্পনা বার্ষিকী পরিকল্পনায় ২০২৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্য রেখা অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ১৫.৬ শতাংশ এবং নিম্ন দারিদ্র্যর রেখা ব্যবহার করে চরম দারিদ্র্য হার ৭.৪ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যেমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সামজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কার্যক্রম
৮. নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান: ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বাজেটে নগদ প্রদানসহ (বিভিন্নভাতা), কার্যক্রমে ৪৩৩৮৯.৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
৯. বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি: দেশের বয়স্ক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা চালু করে আসছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫৮.০১ লক্ষ জন। মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪২০৫.৯৬ কোট টাকা এবং ভুক্তভোগীর সংখ্যা ৫৮.০১ লক্ষ টাকা । যারা প্রত্যেকে মাসিক ৬০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন ।
১০. বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুঃস্থ মহিলা ভাতা কার্যক্রম: ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থবছর থেকে দরিদ্র, অসহায় ও অবহেলিত মহিলা জনগোষ্ঠী বিশেষ করে বিধবাদের জন্য ভাতা প্রদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে । ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৫.৭৫ লক্ষ বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুঃস্থ মহিলাকে প্রত্যেকে মাসিক ৫৫০ টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এ কর্মসূচিতে ১৭১১.৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
১১. প্রতিবন্ধী ভাতা: ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে চালু করা হয়েছে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীভাতা কর্মসূচি। এ কর্মসূচির শুরুতেই ১.০৪ লক্ষ প্রতিবন্ধীকে মাসিক ২০০ শত টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হত। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৩.৬৫ লাখ জন হতে বৃদ্ধি করে ২৯ লক্ষ জনে এবং মাসিক ভাতার পরিমাণ ৭৫০ থেকে ৮৫০ উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে ২৯৭৮.৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
১২. শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সম্মানী ভাতা : মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পরিবারবর্গ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে চিকিৎসা ও সম্মানী ভাতা কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৬১কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
১৩. প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি: ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ স্তরে যথাক্রমে মাসিক ৯০০ টাকা, ৯৫০টাকা, ৯৫০টাকা ও ১৩০০ টাকা হারে উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপবৃত্তি গ্রহণকারীর সংখ্যা ১ লক্ষ এবং বাজেট বরাদ্দ ১১২.৭৪ কোটি টাকা।
১৪. বেসরকারি এতিম খানায় ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট: সরকারি শিশু পরিবার ও অন্যান্য বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বসবাসরত এতিম শিশুদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। তার পাশাপাশি বেসরকারি এতিমখানায় শিশুদের কল্যানে সরকার সহায়তা করে আসছে। ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট হিসেবে এ অনুদান দেওয়া হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ২৮০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ হতে ৪,০৪২টি বেসরকারি এতিমখানায় ১১৬৬৬৬ জন নিবাসাকে ভরণপোষণের জন্য জনপ্রতি ২০০০ টাকা হিসেবে ১৪০ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
১৫. বেদে ও অগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম: কতিপয় অপরিহার্য পেশার সঙ্গে জড়িত দলিত, হরিজন ও বেদে সম্প্রদায়কে সমাজের মূল স্রোতধারার নিয়ে আসতে এ কর্মসূচির আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ৬৪টি জেলায় এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৯.২৩ কোটি টাকা এবং উপকারভোগীদের সংখ্যা ৯৪৬৪ হাজার জন।
১৬. অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি: অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোতে আনতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ কর্মসূচি পৃথক হয়ে ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি’ নামে স্বতন্ত্র কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ কর্মসূচি বাবদ ৬৮.৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা ৮৫,৫০৩ জন।
১৭. হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যক্রম: সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। কতিপয় অপরিহার্য পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত দলিত, হরিজন ও বেদে সম্প্রদায়কে সমাজের মূল স্রোতে নিয়ে আসতে প্রাথমিকভাবে ৭টি জেলায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু হয়। ২০১১-২২ অর্থবছর থেকে ৬৪টি জেলায় এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৬.৩২ কোটি টাকা। মোট ৬৮৮০ জনকে বরাদ্দ দেওয়া হবে ।
খাদ্য সাহায্য কর্মসূচির আওতায় চলমান বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি
১. ওএমএস কর্মসূচি (Open Market Sale –OMS): নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার খোলা বাজারে বিক্রয় (ওএমএস) কর্মসূচি চালু করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিশেষ ভর্তুকির মাধ্যমে বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে খাদ্য সামগ্রী বিক্রয় করা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে ১.৪৬ লাখ মে.টন চাল ও ২.৩৬ লক্ষ মে.টনগমের ফলিত আটা বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি ২৪ পর্যন্ত ৩.৭৬ লক্ষ মে.টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
২. খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি: ২০১৬ সালে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে ৪.৪০ লক্ষ মে.টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
৩. কাজের বিনিময় খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময় টাকা (কাবিটা) কর্মসূচি: গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যে কাজের বিনিময় খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময় টাকা (কাবিটা) কর্মসূচি দুটি চালু করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) মোট এই কর্মসূচির আওতায় ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এবং কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) বাজেটে মোট ৯৯১.৯৬ কাটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ।
৪. টিআর এই কর্মসূচির আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেটে মোট ১৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ বরাদ্দ অপরিবর্তিত রয়েছে।
৫. ভিজিএফ (Vulnerable Group Feeding) : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে। সাধারণত দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে দরিদ্র মানুষের জীবিকা পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহকে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রতি পরিবারকে মাসিক ২০-৪০ কেজি করে ২ থেকে ৫ মাস পর্যন্ত এ সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া, মা ইলিশ ও জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলেরাও ভিজিএফ সহায়তা পেয়ে থাকেন। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে দরিদ্র জনগণও ভিজিএফ সহায়তা পান। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেটে এ খাতে ১০৮৯.৭৮কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
৬. অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি: অতি দরিদ্র মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন ও দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বছরের বেকার সময়ে তাঁদের জীবিকা নির্বাহের জন্যে এ কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে এটি চালু হয়েছে। এ কর্মসূচির উদ্দেশ্যে হলো ক. বাংলাদেশে অতিদরিদ্র বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, খ. সার্বিকভাবে জনগোষ্ঠী ও দেশের জন্য সম্পদ সৃষ্টি করা এবং গ. গ্রামীণ এলাকায ক্ষুদ্র পরিসরে অবকাঠামো ও যোগাযোগ উন্নয়ন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবেশ উন্নয়ন। ২০২৩- ২৪ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ১,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং উপকারভোগীর সংখ্যা ৪.৭৭ লক্ষ জন ।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় চলমান কমূসূচি/প্রকল্প
১. পল্লি দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ): পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) পল্লীর দরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, আয় উৎসারী ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসৃজন প্রশিক্ষণ প্রদান, সঞ্চয় আহরণ, মানবসম্পদ সৃষ্টি ও কর্মসৃজন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী পুরুষের সমতা বিধানের রক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিডিএফ সংঘটি ক্রমপুঞ্জিত সুফলভোগীর সংখ্যা ৩৩,৩৪,৮৫২ জন। যার ৯৭ শতাংশ মহিলা ।
২. আশ্রয়ণ ২ (দারিদ্র্য বিমোচন ও পুনর্বাসন) প্রকল্প: ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে গ্রহণ করা হয় আশ্রায়ণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ২,১৭৬টি গ্রাম প্রকল্প তৈরিপূর্বক ৪,৭১,০০৬টি পরিবার পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং নিজ জমিতে গৃহনির্মাণের মাধ্যমে ১৫৩৮৫৩ টি পরিবারকে গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে । ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ১১০০টি পরিবারের জন্য ১১০০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
৩. গৃহায়ন তহবিল: গ্রামীন দরিদ্র মানুষের বাসস্থান নিশ্চিতকরণ তথা দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ১৯৯৭-১৯৯৮ অর্থবছরে গৃহায়ন তহবিল গঠন করা হয়। গৃহায়ন ঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী সংস্থা এ তহবিল হতে মাত্র ১.৫ শতাংশ সরল সুদে ঋণ গ্রহণ এবং ৫.৫০ শতাংশ সরল সুদে সর্বোচ্চ ৭ বছর মেয়াদি সুবিধাভোগীদের গৃহ নির্মাণ ঋণ বিতরণ করে থাকে। ২০২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৭৪.১৪কোটি টাকা ঋণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। সূত্র: অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২৪।