(এটি আমার প্রথম বিসিএস ভাইবা ছিলো। যারা বিসিএস দিবেন বা দিচ্ছেন কিংবা যাদের ৪৬ তম ভাইভা সামনে তাদের কাজে লাগবে আশা করি)
তারিখ: ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
বোর্ড: বিজ্ঞ সদস্য জনাব নাজমুল আমীন মজুমদার স্যার।
সময়: আনুমানিক ১০ মিনিট
সিরিয়াল: ১১
পছন্দক্রম: বিসিএস পররাষ্ট্র, প্রশাসন, পুলিশ, কাস্টমস, অডিট…
(ভাইবায় সকল কথোপকথন A to Z ইংরেজিতে হয়েছিলো, উত্তরগুলোও ইংরেজিতেই দিয়েছিলাম। সবার সুবিধার্থে বাংলায় অভিজ্ঞতা লিখলাম)
আমি: স্যার, আসতে পারি?
চেয়ারম্যান স্যার: হ্যাঁ আসুন!
আমি বিনয়ের সাথে সালাম দিলাম এবং সবার দিকে একটু তাকালাম স্মিত হাসিতে… স্যার বসতে বললেন…
ধন্যবাদ দিয়ে বসলাম
স্যার: Mr. Raysur, please introduce yourself to our board members.
আমি: Thank you sir for giving me a chance to introduce myself. I’m Raysur Rahman Rabby, currently working as an Assistant director in Bangladesh Bank. I’ve completed my BSc in Engineering in CSE from RUET. My hometown is in Mymensingh… (এটুকু বলতেই স্যার থামিয়ে দিলেন)
(সার্টিফিকেট চেক করতে করতে…)
স্যার: বাহ, bright career. আপনি বাংলাদেশ ব্যাংকে কতোদিন হলো জব করছেন?
আমি: বললাম।
স্যার: আপনি তো অলরেডি খুব ভালো একটা জবে আছেন। অল্প বয়সে বাড়ি-গাড়ি সবকিছুরই সুবিধা পেতেন। তবু কেন বিসিএস এ আসতে চাচ্ছেন।
আমি: স্যার আসলে সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য চিন্তা করলে অবশ্যই আমি খুব ভালো প্রতিষ্ঠানে আছি, এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অংশ হতে পেরে অবশ্যই আমি গর্বিত। তবে স্যার আমি শুধু নিজ প্রতিষ্ঠানকে represent না করে, নিজের দেশ ও জাতিকে represent করতে চাই। শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে না স্যার, আমি আমার দেশকে অন্তরে ধারণ করতে উৎসুক- যা আমার জন্যে পরম সম্মানের। আমি বিশ্বাস করি আমার পছন্দক্রমের প্রথম ক্যাডারে এ সুযোগ আমি পুরোপুরি পাবো।
(স্যার মৃদু হাসলেন, সন্তুষ্ট মনে হলো)
স্যার: ক্যাডার চয়েজলিস্ট টা বলেন তো আপনার।
আমি: বিসিএস পররাষ্ট্র,…
(একটা বলতেই থামিয়ে দিলেন এবং আমার ভাইবা পুরোপুরি International Politics এর দিকে টার্ন নিলো)
স্যার: The foreign secretary of India, tell me his name, and he came to Bangladesh in January this year & met his counterpart FS of Bangladesh Jashim Uddin. Do you know what they discussed?
আমি: স্যার, ভারতের ফরেন সেক্রেটারি বিক্রম মিশ্রি। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে কথা বলেন। আমি পত্রিকায় এ ব্যাপারে পড়েছিলাম স্যার, কিন্তু আলোচনার বাকি বিষয়গুলো এই মুহুর্তে আর মনে পড়ছে না, সরি স্যার।
স্যার: কোন ব্যাপার না (স্মিত হেসে)। Do you know what agreement the US president Donald Trump signed visiting KSA?
আমি: স্যার, আমেরিকার জন্য সৌদি আরবের প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ সমঝোতা করেছেন এবং প্রায় ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি সই করেছেন।
স্যার: কী টাইপের অস্ত্র?
আমি: F35 fighter jet… বলতেই স্যার বললেন ঠিক আছে।
স্যার: কয়েকদিন আগে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ইতালি সফর করেছেন, কেন বলেন তো?
আমি: স্যার World Food Forum (WFF) এর একটি প্রোগ্রামে যোগ দেয়ার জন্যে।
স্যার: কী টাইপের প্রোগ্রাম এটা?
আমি: স্যার এটা FAO আয়োজিত WFF এর annnual program.
স্যার: এটার অন্য একটা স্পেশাল নাম আছে – সেটা কী জানেন?
আমি: সরি স্যার, এটি আমার জানা নেই।
(১ম এক্সটার্নাল স্যারের নিকট সোপর্দ করলেন)
১ম এক্সটার্নাল স্যার: বাংলাদেশের foreign policy টা একটু বলুন তো।
আমি: মূলকথা “Friendship to all, malice to none” বললাম এবং সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ বললাম।
স্যার: আপনার কী মনে হয় এই foreign policy এখন ঠিক আছে? নাকি চেঞ্জ করা উচিত?
আমি: (সোজাসুজি হ্যা-না না বলে) স্যার আমার মনে হয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অবশ্যই ভারসাম্যপূর্ণ। তবে এ ব্যাপারে আমাদের pragmatic approach গ্রহণ করা উচিত। যথাসাধ্য সকল রাষ্ট্রের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে, কিন্তু সেটা National interest কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে। এ ক্ষেত্রে Flexible realism এর কথা আমরা ভাবতে পারি স্যার।
(স্যার কিছু বললেন না, তবে হাল্কা মাথা ঝাকালেন)
স্যার: Why Bangladesh doesn’t recognise Israel? Who is responsible for Israel conflict?
আমি: বাংলাদেশ তার সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে বলেছে- সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে। এ অনুসারে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী জনগণকে সমর্থন করে। পাশাপাশি নৈতিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে নিজেদের তুলে ধরতে চায় বাংলাদেশ। এ পরিচয় বাংলাদেশের soft power এর জন্য অনুকূল।
আর স্যার, এ conflict এর জন্য দায়ীদের মধ্যে অন্যতম USA, বারবার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে UNSC তে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
স্যার: আরো যদি পিছনে যাই, কে দায়ী?
আমি: (একটু চিন্তা করে) স্যার বৃটেন দায়ী। ১৯৪৭ সালে বৃটেন দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান সমঝোতার ভিত্তিতে না করে ফিলিস্তিন ত্যাগ করে।
স্যার: (খুশি হয়ে মাথা ঝাকালেন)
স্যার: Suppose, you are FS of Bangladesh, what steps will you take to pacificate the Rohingya crisis?
আমি: স্যার এক্ষেত্রে আমি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করব যেমন-
বৈশ্বিক সম্মেলনগুলোতে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনার তৎপরতা চালাবো;
চীন ও ভারত এর সাথে আলাদাভাবে কূটনৈতিক সমঝোতা করার চেষ্টা করবো যেন তারা মিয়ানমারকে চাপ দেয়, প্রয়োজনে চীনকে বোঝাবো যে কারণে মিয়ানমার কে তাদের প্রয়োজন সেই একই কারণে বাংলাদেশকেও তাদের প্রয়োজন- বঙ্গোপসাগর থেকে চীনের কুনমিং পর্যন্ত বিকল্প ট্রানজিটের জন্য বাংলাদেশের গুরুত্ব চীনকে বুঝিয়ে তা Diplomatic capital হিসেবে নেগোসিয়েশন এ ব্যবহার করবো।
তাছাড়াও স্যার আমি বিভিন্ন পররাষ্ট্র মিশন গুলোতে মিয়ানমারের তাতমাদৌ সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাদের উপর বর্বরতার চিত্র প্রদর্শনী আকারে উপস্থাপনের পদক্ষেপ নিবো, ও এ ব্যাপারে বিশ্ব জনমত রোহিঙ্গাদের পক্ষে গঠনের জন্যে এভাবে public diplomacy চালাবো।
(স্যার ৩য় পয়েন্টটাকে innovative বললেন)
(এবার আমাকে দিলেন ২য় এক্সটার্নাল স্যারের কাছে)
২য় এক্সটার্নাল স্যার: India is trying to getting close to China. Do you think it will be sustainable?
আমি: স্যার, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর চীনের সাথে যে সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করছে আমার মনে হয় তা টেকসই হবে না। কারণ, চীন ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বেশ কিছু সংকট রয়েছে। যেমন: লাদাখ ও অরুণাচলে সীমান্ত সমস্যা, দক্ষিণ এশিয়ায় ভূকৌশলগত আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। এ সংকটগুলোর বোঝাপড়া না হওয়া পর্যন্ত পারস্পরিক বিশ্বাস স্থাপন সম্ভব নয়।
(স্যার হাল্কা হ্যা বোধক মাথা ঝাকালেন)
স্যার: In this respect, what should be BD’s position?
আমি: স্যার, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের জন্য চীন ও ভারত উভয়কেই আমাদের প্রয়োজন। তাই এ ব্যাপারে আমাদের কৌশলগত ভারসাম্যের পথে হাটা উচিত ও উভয় রাষ্ট্রের সাথেই সম্পর্ক ভালো রাখা উচিত বলে আমার মনে হয়।
স্যার: ঠিক আছে। আমার আর কিছু জিজ্ঞাসা করার নেই।
চেয়ারম্যান স্যার: আচ্ছা ধন্যবাদ Mr. Raysur. আপনার জন্য শুভকামনা। এবার আপনি যেতে পারেন।
আমি: ধন্যবাদ দিলাম স্মিত হেসে..
তারপর সালাম দিয়ে চলে আসলাম।
★আরো কিছু খুটিনাটি প্রশ্ন ছিলো, এই মুহূর্তে আর মনে পড়ছে না★
মোটাদাগে আমার পুরো ভাইবা ছিলো 1st choice based. ভেতরে সারাক্ষণ heartbeat হাই থাকলেও বাইরে attitude এ ছিলাম একদম শান্ত ও ধীর।
মো: রাইসুর রহমান রাব্বি,
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট
(সুপারিশপ্রাপ্ত)
৪৫ তম বিসিএস (প্রশাসন)