• 40th-bcs-preliminary-questions
    • 46th BCS
    • bangla-blogs
    • BCS Question Bank
    • Elementor #1295
    • Elementor #8
    • English Blogs
    • Home
    • Privacy Policy
    • Quiz Game
    • Test Page
bangla blogs Blog আন্তর্জাতিক

584. মিয়ানমার সংকট সমাধানে চীনের ভূমিকা অপরিহার্য

January 10, 2026

 সারকথা: ২০২৩ সালে মিয়ানমারের “থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স” এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চীন-মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। চীন সীমান্তে সংঘাত বন্ধে ভূমিকা রাখলেও তার অর্থনৈতিক ও ভূকৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় মিয়ানমার সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রাখাইন রাজ্যে চীনের প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভূমিকা পালন করে। রাখাইনে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘাত চীনের বিনিয়োগ এবং ভারতসহ অন্যান্য দেশের ভূরাজনৈতিক আগ্রহে প্রভাব ফেলছে। এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। চীনের উদ্যোগে রোহিঙ্গা ও রাখাইনের জনগণকে প্রশিক্ষণ দিয়ে উন্নয়নের অংশীদার করা গেলে জাতিগত বিদ্বেষ কমবে এবং এ অঞ্চলে শান্তি স্থাপিত হবে। চীন ও ভারতের প্রতিযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রের নজর এবং রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘায়িত পরিস্থিতি রাখাইন অঞ্চলে আরও চাপ তৈরি করছে। চীনের নেতৃত্বে শান্তি প্রক্রিয়া ও বিনিয়োগ উদ্যোগ সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে।]

২০২৩ সালে থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স গঠনের পর শুরু হওয়া ‘অপারেশন ১০২৭’-এর মাধ্যমে সমন্বিত আক্রমণ শুরুর পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ও চীন-মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলে বেশকিছু শহর ও সামরিক অবস্থানের পতন ঘটে। চীনের সীমান্ত অঞ্চলে চলা এ সংঘর্ষ সীমান্ত বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এবং চীন সীমান্ত অঞ্চলে সংঘাত বন্ধের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। মিয়ানমারের সংঘাত সীমান্ত থেকে দূরে রাখাই চীনের মূল লক্ষ্য, যদিও চীন প্রাথমিকভাবে ‘অপারেশন ১০২৭’ সমর্থন করেছে বলে অনেকে মনে করে। সে সময় কোকাং অঞ্চলে মিয়ানমারের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাইবার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে চীনা নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল এবং এমএনডিএএ তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীকালে সংঘাত বাড়তে থাকায় চীনের মধ্যস্থতায় সহিংসতা বন্ধে থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স এবং মিয়ানমার সরকারের মধ্যে ১০ জানুয়ারি থেকে উত্তর-পূর্ব শান রাজ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী এ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে বোমাবর্ষণ করার পর ব্রাদারহুড জোটের সদস্য তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি ২৫ জুন থেকে আবার সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। চলমান আক্রমণের মুখে চীন-মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সেপ্টেম্বর মাসে মিয়ানমারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল টিন অং সান চীন সফর করে ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চীনের সহায়তা চায় এবং আন্তঃসীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে। এর আগে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার পায়ের সফরের সময় চীন মিয়ানমারকে ৭ লাখ ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি চীন ও মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়।

চীন মিয়ানমার সামরিক জান্তার প্রধান মিত্র এবং অস্ত্র সরবরাহকারী। চীন তার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও সুসম্পর্ক রাখে। জুন মাসে চীন-মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলে আবার সংঘর্ষ শুরু হলে চীন যুদ্ধবিরতির জন্য সশস্ত্র দলগুলোকে চাপে রাখে। অক্টোবরে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি জান্তার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় রাজি হয়। ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের আরেকটি প্রধান দল তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি চীন-মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে এক বছর ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পর চীনের সমর্থনে বিমান হামলা বন্ধের শর্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনার জন্য প্রতি বলে জানায়। ২০২১ সাল থেকে চলমান সাড়ে তিন বছরের তীব্র সংঘাতের পর মিয়ানমার সরকার সেপ্টেম্বরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সংঘাত বন্ধ ও শান্তি আলোচনা শুরুর আহ্বান জানায়। সশস্ত্র সংগ্রাম বাদ দিয়ে টেকসই শান্তি ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠা করাই এ সংলাপের লক্ষ্য। মিয়ানমার সরকার মিয়ানমারের এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জান্তার ২০২৫ সালে নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে। চীন মি প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো চীন সফরের সময় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে এ দুই গোষ্ঠীর বিষয়ে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে । মিয়ানমারের স্থিতিশীল অবস্থা চীনের স্বার্থরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং চীন মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে জানায় । চীন-মিয়ানমারে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের জন্য সহায়ক নয় ।

মিয়ানমার চীনের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ‘বেন্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীন রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ে থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে চকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণে এ বিনিয়োগ করছে। ১৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ চিন মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের চকপিউ বন্দরকে চিনের কুনমিং শহরের সঙ্গে যুক্ত করে। অর্থনৈতিক করিডোরটি চীনকে কৌশলগতভাবে মালাক্কা প্রণালীকে এড়িয়ে ভারত মহাসাগরে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। মিয়ানমারের অস্থিতিশীল সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে এ প্রকল্প চলে গেছে। মিয়ানমারে চীনের কৌশলগত স্বার্থের পাশাপাশি প্রায় ২১ বিলিয়ন ইউরো সমপরিমাণ বিনিয়োগ রয়েছে। চীন-ভারত মহাসাগরে তার কৌশলগত প্রবেশাধিকার এলাকা যুক্তরাষ্ট্র বা বাইরের যে কোনো প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে এ অঞ্চলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায়।

 ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের তৃতীয় দল আরাকান আর্মি এখনো মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। রাখাইন অঞ্চলে চীনের অর্থনীতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে চীনের তেল ও গ্যাস পাইপলাইন গেছে ও চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে। এছাড়া এ অঞ্চল চীনের বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে প্রবেশপথ। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বাস্তবায়নেও রাখাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনী এ পর্যন্ত চীনের কোনো স্থাপনায় আঘাত করেনি। চীন তার অর্থনৈতিক বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে। মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চীনের স্বার্থ নিশ্চিতে নভেম্বরে চীন ও মিয়ানমার সরকার একটি ‘যৌথ নিরাপত্তা কোম্পানি’ গঠনে সহযোগিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়। চীনা মালিকানাধীন ব্যবসা এবং অবকাঠামো রক্ষার জন্য এ নিরাপত্তা কোম্পানির কর্মীরা কাজ করবে।

 ভারত সরকার রাখাইনে ২০০৯ সালে শুরু হওয়া কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সিতওয়ে বন্দর, পালেতওয়া অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন টার্মিনাল এবং পালেতওয়া-মিজোরাম মহাসড়ক এ প্রকল্পের অন্তর্গত। ভারত এ প্রকল্পে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে । ভারত আরাকান আর্মির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত আরাকানে চীনের উপস্থিতি ঠেকাতে এবং ভারত মহাসাগর নিয়ন্ত্রণে চকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে আগ্রহী। নভেম্বরের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে জাতীয় ঐক্য সরকার, আরাকান আর্মি, চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট এবং চিন ব্রাদারহুডের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। আরাকান আর্মির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও তাদের এ আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানা যায়। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স এ উদ্যোগ নেয়। ভারত প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করল, যা চীন সবসময় তার স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য করে আসছিল।

রাখাইন অঞ্চলে চীনের স্বার্থ নিশ্চিত করতে এ অঞ্চলে শান্তি স্থাপন জরুরি এবং এ রাজ্যের আর্থ- সামাজিক উন্নয়ন দরকার। রাখাইন মিয়ানমারের অনুন্নত প্রদেশগুলোর মধ্যে একটি। এখানে উন্নয়নের দরকার এবং এর প্রচুর সুযোগ আছে, অথচ বছরের পর বছর এখানে সংঘাত ও জাতিগত বিদ্বেষের বিষ ছড়ানো হয়েছে। রোহিঙ্গারা এ অঞ্চল থেকে বিতাড়িত এবং এখন পর্যন্ত তাদের প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি । চীনের উদ্যোগে নেওয়া পাইলট প্রকল্পও সফলতার মুখ দেখছে না। রাখাইনের জনগণের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলে রোহিঙ্গা ও রাখাইনদের মধ্যেকার পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়বে ও বিদ্বেষ কমবে। এর ফলে এ অঞ্চলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এক বছরেরও বেশি সময় সামরিক জান্তা ও আরাকান আর্মির মধ্যে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে রোহিঙ্গারা রাখাইনে উভয়পক্ষের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। রাখাইনের চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে এবং বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের চলমান ত্রাণ সহায়তা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর চাপ ফেলছে। বাংলাদেশের সঙ্গে আরাকান আর্মির কোনো সমস্যা নেই। বাংলাদেশ রাখাইন পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করতে পারে । আরাকান আর্মি বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে দ্রুত সময়ে তাদের প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সহায়তাও পেতে পারে । রাখাইনের উন্নয়নের চাকা ত্বরান্বিত করতে হলে রোহিঙ্গা রাখাইন সংঘাত বন্ধ করে সম্প্রীতি এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। দীর্ঘ সাত বছরেও রাখাইন রোহিঙ্গা সম্পর্কে উল্লেখ করার মতো অগ্রগতি হয়নি। রাখাইনের ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য আরাকান আর্মির উচিত রোহিঙ্গাদের অধিকার পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে রাখাইনের স্থানীয় নাগরিক হিসাবে তাদের বৃহত্তর রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।

আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার জান্তা উভয়ের কাছে চীনের গ্রহণযোগ্যতা সুবিদিত। তাই চীন তার নিজস্ব অর্থনৈতিক ও ভূকৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় মিয়ানমারে শান্তি স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। রাখাইন মিয়ানমারের অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি। এ অঞ্চলে চীন ও ভারতের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে। রাখাইনের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন না হলে এ অঞ্চলে সংঘাত বন্ধ হবে না। রাখাইন অঞ্চলে চীনের পাশাপাশি বর্তমানে ভারতও তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ দুই আঞ্চলিক শক্তির পাশাপাশি এ অঞ্চলের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিও রয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, রাখাইন অঞ্চলে শক্তিধর দেশগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব পড়বে। রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর চাপ পড়ছে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সুসম্পর্ক রয়েছে। চীনের উদ্যোগে মিয়ানমার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করলেও চলমান সংঘাতের কারণে এ উদ্যোগ থেমে যায়। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য চীন বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা ও মিয়ানমারে রাখাইনদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ জনশক্তি হিসাবে গড়ে তুললে তারা রাখাইনের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে। একটা বিশেষ বিনিয়োগ পরিকল্পনার মাধ্যমে চীন বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষিত করতে পারে এবং পাশাপাশি রাখাইনের জনগণকেও এ প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসতে পারে। এর ফলে উভয় জনগোষ্ঠী সংঘাত থেকে সরে আসবে ও জাতিগত বিদ্বেষ প্রশমিত হবে। এ প্রশিক্ষিত জনবল চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলেও কাজ করতে পারবে এবং এ উদ্যোগ থেকে চীন দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবে। রাখাইনে চলমান সংঘাত ও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হলে পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং চীনের অর্থনৈতিক ও ভূকৌশলগত স্বার্থ নিশ্চিত হবে।

 ব্রি. জে. (অব.) হাসান মো. শামসুদ্দীন : মিয়ানমার ও রোহিঙ্গাবিষয়ক গবেষক

←Previous
Next→

Recent post

  • Hello world!
    January 21, 2026
  • ৪৬ তম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা
    January 16, 2026
  • How_to_Learn_Vocabulary
    January 16, 2026
  • 103. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রিতে (পাস কোর্সে) পড়ে বিসিএস ক্যাডার
    January 16, 2026
  • চাকুরি_প্রস্তুতি_প্রিলিমিনারি।
    January 16, 2026
  • প্রশাসন ক্যাডার, ৪৪তম বিসিএস
    January 16, 2026

Tags

Categories

  • bangla blogs
  • bangladesh
  • banking and finance
  • bcs questions
  • Blog
  • economy
  • english blogs
  • environment
  • international
  • technology
  • translations
  • Uncategorized
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • পরিবেশ
  • প্রযুক্তি
  • বাংলাদেশ
  • ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স