• 40th-bcs-preliminary-questions
    • 46th BCS
    • bangla-blogs
    • BCS Question Bank
    • Elementor #1295
    • Elementor #8
    • English Blogs
    • Home
    • Privacy Policy
    • Quiz Game
    • Test Page
bangla blogs Blog আন্তর্জাতিক

574. ইরানকে কি আকাশ প্রতিরক্ষায় জোর দিতে হবে? ব্যাখ্যা করুন

August 3, 2025

প্রশ্ন-২: চীনের উপর ইরানের প্রতিরক্ষা নির্ভরতা চীনের জন্য কতটুকু চ্যালেঞ্জের বিষয় বলে মনে করেন।

ভূমিকা ইরানের যুদ্ধ-পরবর্তী বিজয় উদযাপন শেষ হতে পারে; কিন্তু ইসলামপন্থি শাসনব্যবস্থায় উদ্বেগ এখনো কাটেনি। গত এক মাসের ঘটনাবলি ইরানের বৃহৎ কৌশলের দুর্বলতাকেই প্রকাশ্যে এনেছে, যা দেশটির অভ্যন্তরে বেসামরিক জনগণের জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই পটভূমিতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের প্রতিনিধিরা এখন চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে। দেশটির জনপ্রিয় গণমাধ্যমগুলোও জানাচ্ছে, ইরান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য চীনের দিকে ঝুঁকছে এবং বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বলতা কাটাতে তেহরান এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন সহজ হবে না, কারণ এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণ পর্যন্ত অনেক বাধা রয়েছে।

দুর্বল বিমান বিমানবাহিনী

 অতীত যদি ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দেয়, তবে বলতে হয় ১৯৭৯-পরবর্তী ইরান বেশ কয়েকটি আত্মবিনাশী, নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয় : বিমানবাহিনীকে উপেক্ষা, সমান্তরাল সামরিক কাঠামো সৃষ্টি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি সংগ্রহের জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা। এর মধ্যে ইরানের বিমানবাহিনীর অবস্থা সবচেয়ে জটিল । একসময় এটি এশিয়ার অন্যতম সেরা বাহিনী ছিল এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধে বেশ কয়েকবার এর প্রমাণও রেখেছে।

অপারেশন কামান এবং এইচ-৩ আক্রমণে (১৯৮০ ও ১৯৮৩ সালে) তারা বোমারু বিমান বহর ধ্বংস করেছিল এবং প্রতিপক্ষের জবাব দেওয়ার সক্ষমতাও কি দিয়েছিল। তবে এসব কীর্তি কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাহিনীটিকে পতনের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। বছরের পর বছর ধরে অবহেলার কারণে বিমানবাহিনী এখন এফ-৪ ফ্যান্টম এ- টমক্যাট, চীনা এফ-৭ ও এসইউ-২৪ ফেন্সার, বোমারু বিমানের মতো সব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যার বিপরীতে ইসরাইলের মতো আধুনিক বিমানবাহিনীতে আছে এ ৩৫, এফ-১৫, এফ-১৬; এমনকি তাদের রয়েছে অউডঅঈর (আকাশপথে আপান এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা), ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও আকাশে রিফুয়েলিং ক্ষমতাসম্পন্ন প্ল্যাটফর্মও।

দুর্বল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

এদিকে, ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রস্তুতির অভাব দেখা গেছে। ইরানি সূত্রগুলো দাবি করে, তারা রুশ প্রযুক্তির এস-৩০০ বা টর-এম ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি দেশীয়ভাবে তৈরি ‘বাবর’ ও ‘খোরদাদ’-এর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই ইসরাইলকে ইরানের আকাশসীমায় ঢুকতে বাধা দিতে পারেনি, এমনকি সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোও রক্ষা করতে পারেনি। এই দুর্বলতা তেহরানের জন্য ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ইসরাইল দাবি করেছে, তারা ইরানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত ছবি প্রমাণ করে, তারা কত সহজে ওই লঞ্চারগুলো ধ্বংস করতে পেরেছে, যেগুলো প্রায় কার্যকর হওয়ার মুখে ছিল।

সমান্তরাল সামরিক কাঠামোর ঘাটতি

 এসব সমস্যার মূল উৎস ইরানের দ্বিতীয় ভুল সিদ্ধান্ত: সমান্তরাল সামরিক কাঠামো তৈরি। বিপ্লব-পরবর্তী শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ সুনিশ্চিত করতে একটি বিকল্প সামরিক শক্তি হিসাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) গঠন করা হয়। এর ফলে মূল বাহিনী ‘আরতে ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে যায়। আইআরজিসি দ্রুত রিসোর্স, কৌশল ও অস্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তাদের কৌশলগত শাখা মিসাইল কর্মসূচি পরিচালনা করে এবং বিমান শাখা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। চলতি বছরের জুনে ইসরাইল যখন সহজেই ইরানের আকাশসীমা অতিক্রম করে, তখন এ দুটি সমান্তরাল বিমান শক্তির ত্রুটিগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অপারেশনে টিকতে পারেনি ইরান

 আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরাইলি SEAD (শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা) অপারেশনের সামনে টিকতে পারেনি। একইভাবে বিমানবাহিনীও আইআরজিসির ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহরকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়। এই বিমান শক্তির ঘাটতি এমন এক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে, যেটিকে ইরান কার্যকর মনে করত (সিরিয়া ও লেবাননে তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্ক ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর)। যদি ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো স রাখতে পারত, তাহলে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরাইলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করতে পারত এবং সম্ভবত সেদেশের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করত। একই ধরনের দুর্বলতা ও কার্যকর বিমান ক্ষমতার অভাব সম্ভবত ইরানের হরমুজ প্রণালীকে অবরোধ না করার পেছনেও বড় ভূমিকা রেখেছে।

 রাশিয়ার কাছ থেকে কার্যকর সহায়তা পায়নি

 পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো বছরের পর বছর ইরানের ওপর যে প্রভাব ফেলেছে, ১২ দিনের এ যুদ্ধ তা প্রকাশ করে দিয়েছে। একইসঙ্গে এ যুদ্ধ তেহরানের নীতিনির্ধারকদের ভূরাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর প্রভাবও দেখিয়ে দিয়েছে। এমনই এক সিদ্ধান্ত ছিল রাশিয়ার ওপর অতিনির্ভরতা। সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে রাশিয়ার ওপর এই নির্ভরতা যে ক্ষতিকর ছিল, এখন তা বোঝা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি সংঘাতে, যেমন উপসাগরীয় যুদ্ধ, আর্মেনিয়া, ইউক্রেন ও ভারত- পাকিস্তান যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রমাণ হয়েছে। ইরানও ভুগেছে রাশিয়ার কাছ থেকে সময়মতো সরবরাহ না পাওয়ার কারণে। বহু বছর ধরে বিশ্লেষকরা বলে আসছেন, ইরান SU-35 যুদ্ধবিমান পাবে। বাস্তবে ইরান Yak-130 প্রশিক্ষণ বিমান পেলেও SU-35 আর আসেনি। রাশিয়ার BVR (বিয়ন্ড ভিজুয়াল রেঞ্জ) ক্ষেপণাস্ত্র R-77 এবং বিধ্বংসী R-27 যুদ্ধের সময় ইরানের কোনো রুশ নির্মিত ব্যবস্থায় কার্যকর ছিল না। একটি মাত্র স্কোয়াড্রন খুব বেশি পার্থক্য আনতো না হয়তো; কিন্তু মনোবলের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত।

 ইরানকে চীনের দিকে ঝুঁকে যাওয়া

ভারত-পাকিস্তান পরিস্থিতি (যা ইরানের কৌশলীরা নাকি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন) দেখিয়েছে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য খুচরা যন্ত্রাংশের ধারাবাহিক সরবরাহ ও তাৎক্ষণিক স্যাটেলাইট তথ্যপ্রবাহ কতটা জরুরি। রাশিয়ার সীমাবদ্ধতা যখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে, তখন চীনের ওপর ভরসা করাটাই ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের জন্য যৌক্তিক পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। তারা এমন একটি কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে, যা নির্ভরযোগ্য, সময়মতো সরবরাহ দিতে পারে, উন্নত প্রযুক্তি দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের অ্যাক্সেস দেয়। ইরান নাকি এখন চীনের উন্নত SAM (সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল), AEWACS বিমান এবং যুদ্ধবিমান কেনার কথা ভাবছে।

ইরানকে সাহায্য করলে চীনের চ্যালেঞ্জ

 চীন কি ইরানকে সাহায্য করতে পারবে? পারবে; কিন্তু এর জন্য চীন ও ইরান দু’পক্ষকেই অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। চীনের আধুনিক গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যবস্থা আছে। এর একটি বিশাল শিল্পভিত্তি রয়েছে, চীন বড় আকারের অর্ডার অল্প সময়ে সরবরাহ করতে পারে, যা রাশিয়া, ফ্রান্স, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও সম্ভব নয়। পাকিস্তানের মতো চীনও অংশীদারদের জন্য বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করে। তবে ইরানের জন্য এটি করতে হলে চীনকে অনেক দিক সামাল দিতে হবে।

প্রথমত, চীন এসব উন্নত প্রযুক্তি ইরানে সরবরাহ করলে উপসাগরীয় দেশগুলো, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ হবে ।

দ্বিতীয়ত, এ ধরনের সরবরাহের কারণে চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।

তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যখন চীনের প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে মনোযোগ পাচ্ছে, তখন এসব প্রযুক্তি ইরানের মতো দেশের কাছে হস্তান্তর করা ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি চীন যদি ঝুঁকি নেয়ও, ইরান হয়তো এ সম্পদগুলো সংগ্রহের পুরো ধাপে (যা বছরজুড়ে বিস্তৃত হতে পারে) সেগুলো রক্ষা করতে পারবে না ।

পাশাপাশি, ইরানের প্রতিপক্ষের হাতে রয়েছে ৫ম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট। ফলে ইরানের পক্ষে ৩য় প্রজন্ম থেকে সরাসরি ৪.৫ কিংবা ৫ম প্রজন্মে আপগ্রেড হওয়া প্রায় অসম্ভব। যে কোনো বিমানবাহিনীর উন্নতির প্রক্রিয়াটি হয় ধাপে ধাপে। ইরান SU- 35 বা J-10 পেলেও ইসরাইলের স্টেলথ বিমানের বিরুদ্ধে তা যথেষ্ট হবে না। উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও তেমন কিছু করতে পারবে না, কারণ ইরানের দুর্গম ভূ-প্রকৃতি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকটাই কমিয়ে দেয় ।

 উপসংহার

 তেহরানের একমাত্র বিকল্প হলো ‘নিজেদের ঘর গোছানো’-যার মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা, ইসরাইলি অনুপ্রবেশ ঠেকানো, সামরিক বাহিনীর (বিশেষ করে বিমান ও কৌশলগত বাহিনী) পুনর্গঠন এবং অস্ত্র সংগ্রহে বৈচিত্র্য আনা। এরপরই তাদের আধুনিকায়নের পথে হাঁটতে হবে। আবার আধুনিকায়নের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে দক্ষতা, ধারাবাহিকতা এবং স্থিতিশীলতার ওপর, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য ইরানকে অন্তত কয়েক বছর শান্তিতে থাকতে হবে-অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক, উভয় দিকেই। ইসরাইল কি কখনো তা হতে দেবে? সেটাই এখন দেখার বিষয়।

০৩ আগস্ট ২০২৫। মিডল ইস্ট মনিটর থেকে ভাষান্তরিত। মুহাম্মদ শোয়াইব ও হাম্মাদ ওয়ালিদ : আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক, পাকিস্তান । সূত্র: যুগান্তর।

←Previous
Next→

Recent post

  • Hello world!
    January 21, 2026
  • ৪৬ তম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা
    January 16, 2026
  • How_to_Learn_Vocabulary
    January 16, 2026
  • 103. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রিতে (পাস কোর্সে) পড়ে বিসিএস ক্যাডার
    January 16, 2026
  • চাকুরি_প্রস্তুতি_প্রিলিমিনারি।
    January 16, 2026
  • প্রশাসন ক্যাডার, ৪৪তম বিসিএস
    January 16, 2026

Tags

Categories

  • bangla blogs
  • bangladesh
  • banking and finance
  • bcs questions
  • Blog
  • economy
  • english blogs
  • environment
  • international
  • technology
  • translations
  • Uncategorized
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • পরিবেশ
  • প্রযুক্তি
  • বাংলাদেশ
  • ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স