বোর্ড : ব্রি. জেনারেল (অব.) আনোয়ারুল ইসলাম
সিরিয়াল : ১০
পছন্দ : Foreign Affairs
সময় : ২৫-২৬ মিনিট
জীবনের সবচেয়ে লম্বা ভাইভা ছিল এটা। এত বেশি প্রশ্ন আর এত দীর্ঘ সময় অন্য কোনো ভাইভাতে থাকিনি।
অনুমতি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে সালাম দিতেই –
Chairman : You look very familiar to me. It feels like I’ve met you before.
– Probably sir the shape of my face & skin colour is kind of common in Bangladesh. That’s why I seem familiar to you. (উত্তর শুনে স্যার হেসে দিছে)
Chairman: Mr. Khairul you are already recommended to Administration?
– Yes sir, Alhamdulillah.
External 1 : Administration is a very good cadre!
– Yes sir.
External 2 : এখন আপনার চয়েস কি ফরেইন?
– হ্যাঁ স্যার।
Chairman : আপনাকে ফরেইনে রিকমেন্ড করলে তো দেশের ক্ষতি হবে। একটা সিট নষ্ট হবে। এরচেয়ে বরং আপনি এডমিনেই থাকেন। ফরেইনে অন্য কাউকে রিকমেন্ড করা হোক।
– স্যার বিষয়টা উল্টোও হতে পারে। আমাকে ফরেইনে না নিলে উল্টো দেশের ক্ষতিও হতে পারে৷ দেখা গেল আমি ফরেইনে গেলে দেশকে যতটা দিতে পারতাম, তা হয়তো অন্য যাকে রিকমেন্ড করা হবে, সে দিতে পারবে না৷
Chairman : Well well that’s good spirit. Let me see what you got.
– Sure sir.
Chairman : বলেন আপনাকে কেন ফরেইনে নেয়া উচিত? বইয়ের কথা বলবেন না যে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন, এনালিটিক্যাল এবিলিটি ইত্যাদি। জেনুইন কোনো রিজন দেখান।
– স্যার আমি মনে করি…
Chairman : আমি বাংলাতে প্রশ্ন করলেও আপনাকে ইংরেজিতেই উত্তর দিতে হবে। যেহেতু আপনার চয়েস ফরেইনে যাওয়া।
– Sure sir. I think the most important quality that a diplomat might posses is the ability to tackle unprecedented situations. And from the experience of my whole academic life, i think I’m ready-witted. So I’ll be able to better handle the volatile…
Chairman : ঠিকাছে বুঝলাম। বলেন তো… (কোনো একটা টার্ম যার নাম জীবনে শুনি নাই। দুইবার বলার পরেও বুঝতে পারি নাই)
– sorry sir I’m not familiar with this term.
Chairman : No problem. বলেন ভেনেজুয়েলাতে যুক্তরাষ্ট্র যা করলো তাকে একজন কূটনীতিক হিসেবে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
– Sir this is a blatant violation of international laws…
Chairman : না না, আমি ব্যাখ্যা চাচ্ছি না৷ আপনি বলেন আপনি কূটনীতিক হিসেবে এটার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবেন কি-না।
– Sir I think as a representative of the People’s Republic of Bangladesh, we can’t take any step except urging for maintenance of peace. Because we have our economic interests to preserve.
External 1 :
How do you define the US action in Venezuela? Power politics or democracy?
– Sir, in my opinion the recent US aggression in Venezuela is the last pin in the coffin of international law. In the name of democracy…
Tell me whether it’s power politics or USA have the right to do it?
– Sir this is undoubtedly power politics. Even one of Trump’s officials said in an interview that USA is a superpower & therefore it should act like a superpower.
ইরানে কিছুদিন আগে হামলা করলো৷ এটাতো আমাদের জন্যও কনসার্ন। আপনার কি মনে হয়, বাংলাদেশের কেমন ফরেন পলিসি নেয়া উচিত?
– স্যার আমার মনে হয় জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে..
না না, আপনি বলেন ইরানের মতো নাকি যুক্তরাষ্ট্রের মতো?
– স্যার দুই দেশের কারোর মতোই না৷ বরং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে, ইকুইটি, সার্বভৌমত্ব এবং দেশের মর্যাদা বজায় রেখে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করা উচিত।
Again Chairman sir
আমাদের ফরেন পলিসি কী? মানে দীর্ঘদিন যাবত যে একটা টার্ম চর্চা হয়ে আসছে?
– Sir Friendship to all & malice towards none.
আপনার কী মনে হয়? এটা কতটা উপযুক্ত পলিসি?
– Sir I think this cannot be any independent nation’s foreign policy. Because no one can be a friend to all. We must serve our national interest & if that requires us to be somebody’s enemy, then we should let it be so.
Exactly. That should be an independent nation’s foreign policy.
এই বলে দ্বিতীয় এক্সটার্নালকে ফ্লোর দিলেন।
External 2 :
What is BISL? ( এমনই কিছু একটা জিজ্ঞেস করছে)
– Sorry sir. I don’t know the full form.
আমরা এখন অনেক যায়গাতেই শুনি যে soft power, hard power, smart power। এগুলো একটু ব্যাখ্যা করেন তো।
– Answered.
What’s false flag operation & tell me a few false flag operations from WW| & WW||?
– Answered. But couldn’t give examples.
এক্সটার্নাল ঠিকাছে বলে চেয়ারম্যানের দিকে তাকিয়ে সমাপ্তি সূচক মাথা নাড়াল।
Chairman : No. I want to ask more.
– sure sir.
Chairman : স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছর পরে এসে যদি আমরা দেখি একটু যে ইন্ডিয়ার সাথে আমাদের এতগুলো চুক্তি হলো। আপনি একটা চুক্তির নাম বলেন তো যেখানে বাংলাদেশ better-off ছিল।
– Sir, to be honest it will be even hard to find an agreement where we had a win-win situation. So looking for better-off is like crying in the wilderness sir.
Chairman : Exactly. তাহলে আমাদের সো-কল্ড ফ্রেন্ড কিভাবে হলো তারা? আর এত বছর যাবত কিভাবে ফ্রেন্ড হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসলো? কেউ কিভাবে find out করতে পারলো না যে তারা আমাদেরকে শোষণ করে যাচ্ছে?
– স্যার আমার কাছে মনে হয়না বিষয়টা এমন যে কেউ বুঝতে পারেনি। অনেকই বা সবাই বুঝতে পেরেছে৷ কেউ স্বার্থের জন্য চুপ থেকেছে। কেউ ক্ষমতার জন্য। কেউ কেউ আওয়াজ তুলে গুম হয়েছে। আর বাকিরা স্যার ভয়ে চুপচাপ থেকেছে।
(স্যারের সাথে সাথে উত্তেজনায় বাংলায় বলে ফেলছি। তবে উত্তর শুনে স্যারকে হ্যাপি মনে হয়েছে)
(ইন্ডিয়া নিয়ে আরও কিছু প্রশ্ন এবং আলোচনা ছিল৷ সবগুলো উল্লেখ করতে পারছি না৷)
External 1 : আচ্ছা একটা বিষয় বলেন তো। নেপাল একটা ছোট্ট দেশ। তারাও একসময় ইন্ডিয়ার প্রাভাবাধীন ছিল। কিন্তু তারা বেশ আগেই এ প্রভাব থেকে বেরিয়ে গিয়েছে৷ আমরা কেন পারছি না?
– স্যার আমার কাছে মনে হয় আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা National Unity এর অভাব। আমাদের সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে পররাষ্ট্রনীতি, এমনকি দেশের ফান্ডামেন্টাল যে building block থাকে, তাও পরিবর্তন হয়ে যায়। আমরা যদি পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ঐকমত্যে আসতে না পারি, তাহলে এই বশ্যতা থেকে বের হতে পারবো না।
আপনার কী মনে হয়? কিভাবে ঐকমত্যে আসতে পারব?
– স্যার আমি বিশ্বাস করি যখন প্রতিটা দল ফরেন পলিসি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল একটা বিষয়কেই প্রাধান্য দিবে, অন্য কোনো সেকেন্ড রিজনকে কন্সিডার করবে না, তখনই আমাদের ফরেন পলিসি স্বাধীন হবে। আর সেটা হচ্ছে National interest.
এক্সটার্নাল স্যার চেয়ারম্যান স্যারের দিকে তাকিয়ে সমাপ্তিসূতক মাথা ইশারা দিল৷
Chairman : I’m not convinced yet. আচ্ছা বলেন..
– Sure sir. (![]()
)
Chairman : Vienna Convention সম্পর্কে তো জানেন?
– Yes sir.
Chairman : এটার কিছু ধারা বলেন তো৷
– ৯,৩১,৪১ কোট করতে পেরেছি সরাসরি। বাকি সামাজিক আলোচনা করেছি যে এই অধিকার, সেই অধিকার।
Again External 1 Strikes : আপনারা তো সরাসরি কিছু বলতে পারেন না। ওদের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারেন না। কেউ বাংলাদেশকে exploit করলেও পররাষ্ট্রের লোকজন যথাযথ জবাব দিতে জানে না।
– স্যার আমি অবশ্যই দেশের স্বার্থে যে কারও সামনে দাঁড়িয়ে যেতে পারব ইনশা আল্লাহ।
External 2: স্যার আমিও বেশ কিছু Multinational অনুষ্ঠানে দেখেছি যে আমাদের যারা আছেন, তারা কিছু বলতে গেলে কেমন যেন কাচুমাচু করেন, হাত মোচড়ামুচড়ি করেন।
Chairman : Those diplomats of ours can not defend a thing. They cannot stand with their backbone erected for their national interest. (মনে হলো স্যার খুব ক্ষোভ নিয়ে বললো)
– Sir, I have the courage to always stand firm for my national interest.
Chairman : সবাই তো বলে। কিভাবে বুঝবো যে আপনি মেরুদণ্ড সোজা রাখবেন?
– স্যারের পার্মিশন নিয়ে একটা বাস্তব জীবনের এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করলাম। বোর্ডকে কনভিন্সড মনে হলো।
External 1, External 2 : শেষ করার জন্য চেয়ারম্যানের দিকে তাকালো৷
Chairman : হাসি দিয়ে বললো আপনি কি কনভিন্স করতে পেরেছেন?
– Sir you can ask more questions if you still think that I’m not fit for the job.
এ পর্যায়ে সবাই হেসে দিলো।
Chairman : Full confidence দেখছি।
– I smiled
এরপরে ডকুমেন্টস নিয়ে আসতে বললো।
উঠে ডকুমেন্টস নিয়ে বের হব এমন মুহূর্তে আবার –
External 1: Your confidence is good. Your English speaking is also good. আজকে যা যা বললেন, আশা করি সেভাবে দেশকে সার্ভ করতে পারবেন। I hope I will meet you again. দেখা গেল ৫/৬ বছর পরে দেশে বিদেশে কোনো ইভেন্টে দেখা হয়ে যেতে পারে৷
Chairman: আপনি ওদের মুখের উপর বলে দিবেন। চোখে চোখ রেখে দেশের জন্য কথা বলবেন। কখনও ভয় পাবেন না।
– ইনশা আল্লাহ স্যার।
* আরও বেশ অনেকগুলো প্রশ্ন ছিল এনালিটিক্যাল, সিচুয়েশনাল। সবগুলো মনে পড়ছে না। চেয়ারম্যান স্যার একাই প্রায় দুই ডজন প্রশ্ন করছে।
* আগে থেকেই কনফিডেন্টলি ভুলভাল উত্তর দেবার একটা জোশ ছিল আমার৷ তার উপর এবার হারানোর কিছু ছিল না, তাই পুরো ভাইভাতে নার্ভ কন্ট্রোল করা বেশ সহজ ছিল। কনফিডেন্ট ছিলাম।
* এক্সটার্নাল ১ ফিমেল ছিলেন৷ অভ্যাসবশত প্রথমে ম্যাম বলে ফেলছিলাম।
* বোর্ড অনেক ফ্রেন্ডলি ছিলো।