১। শার্ট পরতাম না
বোতাম লাগানো, ধোয়া, ইস্ত্রি করা ইত্যাদি থেকে সময় বাঁচানোর জন্য। (ভাইভার সময় ব্যতীত হাতে গোনা ২/১ দিন পরেছি)
২। চুল কাটাতাম ১০–১৫ মিনিটের মধ্যে
নাপিতকে গিয়ে প্রথমেই এটা বলে নিতাম। সেলুনে সিরিয়াল থাকলে সেটাতে ঢুকে বসে থেকে সময় নষ্ট করতাম না।
৩। ৬ ঘণ্টার বেশি ঘুমাতাম না
অ্যালার্ম বাজার আগেই ঘুম ভেঙে যেত। পুরোনো অভ্যাস থেকে গেছে, এখনো আমার ৬ ঘণ্টার বেশি ঘুম হয় না।
৪। দিনের বেলা সুস্থ থাকা অবস্থায় এক মুহূর্তের জন্যও বেডে শুয়ে রেস্ট নিইনি
রুমেই পড়তাম, লাইব্রেরিতে পড়িনি। পড়ার টেবিলের পাশেই বেড ছিল। বেডে শুয়ে রেস্ট নিতে মন চাইলে মনকে বুঝাতাম—আমি নিজের সাথে বেইমানি করছি, আমার সময় নষ্ট না করার কমিটমেন্ট থেকে দূরে সরে যাচ্ছি; বেডে আর রেস্ট নেওয়া হতো না।
.
৫। সময় বাঁচাতে কোচিং করিনি
প্রথম প্রিলির আগে একটা কোচিং-এ এক্সাম ব্যাচে ভর্তি হয়েছিলাম। অধ্যায়ভিত্তিক ৪/৫টা পরীক্ষা দিয়ে আর কন্টিনিউ করিনি, সময় নষ্ট হচ্ছে বুঝতে পেরে।
৬। রাস্তায় হাঁটার সময় পড়তাম
টিউশনিতে যেতে-আসতে প্রতিদিন প্রায় ৩/৪ কিলো হাঁটতে হতো। সে সময় পডকাস্ট শুনতাম বা কোনো পড়া মনে করার চেষ্টা করতাম; বেঁধে গেলে সার্চ করে দেখে নিতাম।
৭। ভ্রমণ ও ট্রাফিক জ্যামের সময়কে কাজে লাগাতাম
এই সময়টাতে পত্রিকা, Think Tank পড়তাম। মাঝেমধ্যে Podcast শুনতাম। নিম্নোক্ত Think Tank Websites সমূহ ফলো করতাম—
-CFR
-RIAC (Russian International Affairs Council)—পশ্চিমা মিডিয়ার বাইরে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়
-Atlantic Council
-Project Syndicate (সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন)
-The Diplomat
-Foreign Affairs
-The Hill
-RAND
-Carnegie Endowment for -International Peace
-CSIS
-European Council on Foreign Relations
ভ্রমণের সময় পড়লে গুরুত্বপূর্ণ টার্ম বা ডেটা কপি/স্ক্রিনশট নিয়ে নোটপ্যাড অ্যাপে রেখে দিতাম। বাসায় ফিরে নোট খাতায় টুকে নিতাম।
৮। বিনোদনকে পড়াশোনা রিলেটেড রাখতাম
পড়ার মাঝে বিরক্তি আসলে YouTube-এ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির বিশ্লেষণ দেখতাম। নিম্নোক্ত চ্যানেলগুলো ফলো করতাম—
-BBC বাংলা
-Jamuna TV (Jamuna iDesk)
-সময় টিভি (দৃশ্যপট—ওমর ইনানের বিশ্লেষণ)
-Johnny Harris
-StudyIQ IAS
-AJ Start Here (Al Jazeera)
-Caspian Report
-Zeihan on Geopolitics
-BBC, DW, CNN, WION, EURO NEWS, First Post—এসব টিভি চ্যানেলের বিশ্লেষণ দেখতাম।
৯। ঈদের দিন পড়েছি
কয়েকটা ঈদ বাড়িতে কাটিয়েছি। ঈদের নামাজ/কুরবানি শেষে পড়তে বসতাম। বন্ধুরা যাতে না ডাকতে পারে, তাই ফোন বন্ধ করে রাখতাম।
ঢাকার ফার্মগেটে দুইটা ঈদ (প্রায় ৩০ দিন) একা একটা ফ্ল্যাটে কাটিয়েছি। এই সময়টা পুরোদমে পড়াতে কাজে লাগিয়েছি। রাতে ভয় করত, তাও সাহস রাখতাম। নিজে রান্না করে খেতাম।
সর্বোপরি প্রতিমুহূর্তে ধ্যানে ও জ্ঞানে পড়াশোনাকেই রেখেছি।
যত সমস্যা ও বাধা আসুক, পড়াশোনায় কোনো ছাড় দেইনি।
—
যারা আমার মতো দুর্বল মেধার ও চাকরির পড়াশোনা করছেন, আপনাদেরকে বলবো—পড়াশোনা বাদে দুনিয়ার সবকিছু ভুলে যান। আজ সময়কে গুরুত্ব দিন, একদিন দুনিয়া আপনাকে এর প্রতিদান দেবে ইন-শা-আল্লাহ্।
আর হ্যাঁ, আপনি কিন্তু জানেন না আপনার প্রতিযোগী কোন লেভেলের খেলোয়াড়। এটা কিন্তু স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির ক্লাসমেটদের মধ্যে প্রতিযোগিতা না!
সবার প্রতি শুভকামনা রইল।
এস এম নাসির উদ্দীন
সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সুপারিশপ্রাপ্ত), ৪৫তম বিসিএস, মেধাক্রমঃ ১৪১।
বর্তমানে কর্মরতঃ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (সিনিয়র অফিসার)