বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন গঠিত ডব্লিউটিও সেল বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডাব্লিউটিও) সংক্রান্ত সকল প্রকার কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ কার্যক্রমে মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডব্লিউটিও’র বিধি-বিধান প্রতিপালনে সহায়তা করা, ডব্লিউটি ও সংক্রান্ত বিষয়ে সার্বিক সক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করাসহ অধিকতর বাজার সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করা, বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের অবস্থান নির্ধারণ করে নেগোশিয়েসনে অংশগ্রহণ করা, ষ্টেকহোল্ডারদের সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে নিয়মিত মত- বিনিময় করা অন্যতম। ডব্লিউটিও সেল কর্তৃক গ্রহীত উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
• গত ৩-৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ সময়ে ইন্দেনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর ৯ম মিনিষ্টিরিয়াল কনফারেন্স আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান পদ্ধতি সহজীকরণের বিষয়ে ‘Agreement on Trade Facilitation’ শীর্ষক একটি নতুন ডব্লিউটিও এগ্রিমেন্ট চূড়ান্ত করা হয়। এ এগ্রিমেন্টটিকে ডব্লিউটিও’র মূল এগ্রিমেন্ট WTO | Agreement-এ অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে একটি সংশোধনী প্রটোকল ‘Protocol Amending the Marrakesh Agreement Establishing the World Trade Organization’ প্রণয়ন করা হয়
উল্লেখিত Agreementon Trade Facilitation এবং সংশ্লিষ্ট Protocol গত ১৩ জুন, ২০১৬ তারিখে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুমোদিত হয়। অনুসমর্থন সংক্রান্ত ‘Instrument of Acceptance’ মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী কর্তৃক স্বাক্ষরের পর জেনেভাস্থ বাংলাদেশ মিশনে প্রেরণ করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে জেনেভাস্থ বাংলাদেশ মিশনের রাষ্ট্রদূত ট্রেড ফেসিলিটেশন চুক্তির জন্য প্রণীত বাংলাদেশের অনুসমর্থন পত্র বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক জনাব রবার্তো এ্যাজোভডো এর নিকট হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশ ৯৪ তম দেশ হিসেবে TFA চুক্তিটি অনুসমর্থন করেছে।
উল্লেখ্য, ডব্লিউটিও’র বিধান অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য কর্তৃক অনুসমর্থন হওয়ার গত ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ তারিখে ট্রেড ফেসিলিটেশন এগ্রিমেন্টটি কার্যকর হয়ে যা ডব্লিউটিও’র মূল এগ্রিমেন্ট WTO Agreement -এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন সদস্য দেশ অনুসমর্থন না করলেও ডব্লিউটিও সদস্য হিসেবে তার উপর চুক্তিটি কার্যকর হবে।
• এগ্রিমেন্টের মূল উদ্দেশ্যসমূহ হচ্ছেঃ (১) আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের প্রবাহ ও চলাচল আরও ত্বরান্বিত করা; (২) উন্নয়শীল ও স্বল্পোন্নত দেশসমূহের বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ট্রেড ফেসিলিটেশনের ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিও লক্ষ্যে সহায়তা বৃদ্ধি করা; (৩) বিভিন্ন তর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
• এগ্রিমেন্টটি বাস্তবায়নে আবংলাদেশের আমদানি বাণিজ্য যেমন সহজতর হবে, বিভিন্ন দেশ কর্তৃক ট্রেড ফেসিলিটেশন পদ্ধতি উন্নত করা হলে আমাদেও রপ্তানি বাণিজ্যও লাভবান হে
• এগ্রিমেন্ট স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা ও ফ্লেক্সিবিলিটি’সহ প্রয়ো ক্ষেত্রে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রাপ্তির বিধান রাখা হয়েছে।
• এগিমেন্ট এর বিভন্ন বিধান বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কোন আন্তর্জাতি চাপের সম্মুখীন হবে না। কারণ, চুক্তির সকল কার্যক্রম (Measures) কে নিজের ইচ্ছানুযার স্বাধীনতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ক্যাটেগরি চিহ্নিত তিনটি ক্যাটেগরিতে (এ.বি.সি) চিহ্নিত করার বিষয়ে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পর হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ এ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
• তাছাড়া, কোর কার্যক্রম (Measures) এর ক্ষেত্রে উন্নয়শীল ও স্বল্পোন্নত দেশের সক্ষমতার অভাব থাকলে সক্ষমতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে না। সকল কারণে ট্রেড ফেসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট অত্যন্ত সহজ ও শিথিল (Flexible) এবং এগ্রিমেন্ট। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ডব্লিউটিও’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ার পাশাপাশি মোট চার বার এলডিসি কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ সব সময়ই এলডিসি গ্রুপে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এমনকি ট্রেড ফেসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট নেগোসিয়েশনেও বাংলাদেশ এলডিসি গ্রুপের পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
• গত ১৫-১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ সময়কালে কেনিয়ার নাইরোবিতে ডব্লিউটিও’র ১০ম পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। উল্লেখ্য, মিনিষ্টিরিয়াল কনফারেন্স ডব্লিউটিও’র সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ। ডব্লিউটিও’র বিধান অনুযায়ী প্রতি দুই বছর অন্তর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৫ সালে ডব্লিউটিও প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত দশ বার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ডব্লিউটিও’র দশম মিনিস্টেরিয়েলে এলডিসি কো- অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছে। উক্ত সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশসমূহের অনুকুলে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়:
(ক) এ সম্মেলনে সহজ ও স্বচ্ছ Rules of Origin প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে শতকরা ৭৫ ভাগ কাঁচামাল Outsourcing করে পণ্য প্রস্তুতপূর্বক প্রদত্ত সুবিধার আওতায় রপ্তানি করা সম্ভব হবে। তাছাড়া, গার্মেন্টস, কেমিক্যালস এবং প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে simple transformation এর সুবিধা পাওয়া যাবে। শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা কার্যকরভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে Rules of Origin অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। Rules of Origin এর শর্তাদি কঠিন হলে অনেক ভাল স্কীম থেকেও কোন সুবিধা ভোগ করা যায় না। এ সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তের ফলে শুল্ক-মুক্ত ও কোটা-মুক্ত সুবিধার সর্বেচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
(খ) সেবাখাতে স্বল্পোন্নত দেশসমূহকে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (Preferential Market Access) প্রদানের ক্ষেত্রে প্রদত্ত এর মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
(গ) ঔষধের মেধাসত্ব সংক্রান্ত অব্যাহতির মেয়াদ ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবার কথা ছিল। এতে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশসমূহ বিশেষ অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছিল। ঔষধের ক্ষেত্রে মেধাসত্ব সংক্রান্ত অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা সংক্রান্ত WTO TRIPS (Trade Related Aspects of Intellectual Property Rights Council এবং General Council এর সিদ্ধান্ত মিনিষ্টিরিয়াল কনফারেন্স সর্বসম্মতিক্রমে জানানো হয়। এতে বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের বিকাশ অব্যাহত থাকবে এবং দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি দরিদ্র জনগণের জন্য সুলভ মূল্যে ঔষধ প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। তাছাড়া, স্বল্পোন্নত দেশের কৃষি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাজার সম্প্রসারণ, । প্রক্রিয়াকরণ এবং অভ্যান্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিবহনে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভর্তুকী প্রদান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তসহ একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র গ্রহীত হয়। মিনিস্টিরিয়ালে বড় দেশগুলোর মধ্যে
(ঘ) এছাড়াও, চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত মিনিষ্টিরিয়াল কনফারেন্সে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মতানৈক্য স্বত্বেও বাংলাদেশের নেতৃত্বে স্বল্পোন্নত দেশসমূহ কতিপয় ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা আদায়ে সমর্থ হয়। ঘোষণাপত্রে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য কার্যকর বাজার সুবিধাসহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতার (Commercially meaningful and legally binding) অঙ্গীকার করা হয়। তাছাড়া, বড় বড় আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তিসমূহ মূল নীতি ও দর্শনের ব্যত্যয় না ঘটায় এবং অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশসমূহের ক্ষতির কারণ না হয়ে দাড়ায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।